ফারহান তানভীর :
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত একটি নাটকের শুটিং ঘিরে দুই অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ এর মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। একটি চড় মারার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় আকারে, যখন শুটিং স্পট ছাড়ার পথে গাড়ির ভেতর থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন সামিয়া অথৈ।

অভিযোগে অথৈ জানান, দৃশ্য অনুযায়ী তাঁকে তানজিন তিশাকে চড় মারতে হয়েছিল এবং পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আলতোভাবেই তা করেন। তবে দৃশ্য শেষ হওয়ার পর তিশা নাকি পাল্টা তাঁকে চড় মারেন এবং সেটিও একাধিকবার, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ। এমনকি আগের দিন একটি দৃশ্যের শুটিংয়েও তাঁর হাতে আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। লাইভে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে তানজিন তিশা পুরো বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, নাটকটিতে তিনি একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার আচরণ অস্বাভাবিক ও সহিংসতাপ্রবণ। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে এমন আচরণ করতে হয়েছে, যা স্ক্রিপ্টে উল্লেখ ছিল। তাঁর দাবি, তিনি চরিত্রের বাইরে গিয়ে কিছুই করেননি এবং পেশাদার জায়গায় যা করেছেন তা অভিনয়ের অংশ হিসেবেই করেছেন। অথৈ যে লাইভে এসে ব্যক্তিগত আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেটিকে তিশা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ছোট করার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুটিংয়ে উপস্থিত অন্য শিল্পীরা যেখানে বিষয়টিকে বড় করে দেখেননি, সেখানে কেন শুধুমাত্র অথৈই এমন প্রতিক্রিয়া দেখালেন।নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদারের পরিচালনায় এতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম,মোমেনা চৌধুরী ও মীর রাব্বি সহ অনেকে। শহীদুজ্জামান সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ছোটখাটো ঘটনা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় হয়ে যায়। তাঁর মতে, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব ছিল। তিনি জানান, ঘটনার পর অথৈর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন-প্রথমবার ফোন ধরলেও পরে আর সাড়া দেননি।

তবে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় যখন লাইভের মন্তব্যঘরে দর্শকদের একাংশ পুরোনো কিছু প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অনেকেই দাবি করেন, অভিনেতা মুশিফিক ফারহানকে কেন্দ্র করেই নাকি দুই অভিনেত্রীর মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়েন ছিল।কারণ লাইভে অথৈ বলেছিলেন,তিনি যখন ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করতেন, তখন তানজিন তিশা নাকি তাঁকে ফোন করে সেই কাজ না করার পরামর্শ দিতেন। এমনকি তিশা, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলকেও ফারহানের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে ফোন করেছিলেন বলে দাবি করেন অথৈ।

আগুনে ঘি ঢালার মতোই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি পুরোনো বিতর্ক। বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুশফিক ফারহান ও তানজিন তিশাকে একসঙ্গে দেখা যায়, যেখানে তাঁদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়। সেই ঘটনার রেশ টেনেও অনেকে বর্তমান বিরোধকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। ফলে একটি শুটিং সেটের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিষয়টি এখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পেশাদার প্রতিযোগিতা ও সামাজিক মাধ্যমের জনমতের জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে ঘটনাটি প্রমাণ করে, বিনোদন অঙ্গনে পেশাদার সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আবেগের সীমারেখা কতটা সংবেদনশীল। শুটিং সেটে একটি দৃশ্যের বাস্তবায়ন কতটা নিয়ন্ত্রিত হবে, সেটি নির্ভর করে পরিচালকের নির্দেশনা, সহশিল্পীদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং পেশাদারিত্বের ওপর। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্টরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেন কি না, নাকি সামাজিক মাধ্যমের চাপ এই বিতর্ককে আরও দীর্ঘায়িত করে।