ফারহান তানভীর :
শোবিজ তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন কিংবা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি- ভক্তদের কাছে সবসময়ই আগ্রহের একটা জায়গা। কারণ,ভক্তরা জানতে চায় তাদের প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন সম্পর্কে,জানতে চায় তাদের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে। আর সে কারণেই,কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি যখন মানুষকে ভাবতে শেখায়,জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয় তখন সেই কথা বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক তেমনই একটি কথার জন্যই প্রশংসিত হচ্ছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন জিৎ। তিনি বলেন, জীবনটা আসলে পাঁচটা বলের খেলার মতো-ওয়ার্ক, ফ্যামিলি, ফ্রেন্ড, হেল্থ এবং স্পিরিট। এই পাঁচটি বিষয়ই মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেগুলোকে একসাথে সামলে চলাই আসল চ্যালেঞ্জ। জিৎ বলেন, এই পাঁচটির মধ্যে ‘ওয়ার্ক’ হচ্ছে রাবারের বল। অর্থাৎ, কাজ বা ক্যারিয়ার যদি কোনো কারণে নিচে পড়ে যায়, তাহলে সেটি আবার ফিরে আসার সুযোগ থাকে। বরং,যত জোরে পড়বে ততই জোরে উঠতে পারবে।ব্যর্থতা, ক্ষতি কিংবা বিরতি-এসবের পরেও কাজের জগতে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

কিন্তু বাকি চারটি-ফ্যামিলি, ফ্রেন্ড, হেল্থ এবং স্পিরিট-এইগুলোকে তিনি তুলনা করেছেন কাঁচের বলের সঙ্গে। তার মতে, এই চারটির যেকোনো একটি যদি হাত ফসকে পড়ে যায়, তাহলে সেটি আর আগের অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, সম্পর্কের অবনতি, বন্ধুত্বে দূরত্ব, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা মানসিক ভাঙন-এসবের ক্ষতি অনেক সময়ই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত জীবনে কোনটার কি গুরুত্ব তা বোঝাতে চেয়েছেন। অনেকেই ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে পরিবার, বন্ধু কিংবা নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়ার সময় পান না। কিন্তু জিৎ মনে করেন, এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেই জীবনের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জিতের এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন এবং নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন। অনেকের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে এই ধরনের সচেতনতা খুবই প্রয়োজন, যেখানে মানুষ কাজের চাপে নিজের কাছের মানুষ ও নিজের সুস্থতাকেই অবহেলা করে ফেলছে।সব মিলিয়ে, জীবনের এই পাঁচ বলের উপমা নতুন কিছু না হলেও, জিৎ যেভাবে সহজ ভাষায় সেটিকে তুলে ধরেছেন, সেটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে-সাফল্য শুধু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।