ফারহান তানভীর :
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর-যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সংগ্রাম, সাফল্য আর এক অনন্য অধ্যায়ের গল্প। নায়ক হিসেবে আলমগীর যেমন সফল একজন বাবা হিসেবেও সফল। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আলমগীর নিজেই সেই কথা বলেন।আলমগীরের বর্তমানে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে দুইজন হলেন আঁখি ও তুলতুল এবং ছেলে তাজবিদ।

একদিন একটি সাক্ষাৎকারে আলমগীরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল-তার মেয়ে আঁখি আলমগীরই বাংলাদেশের একমাত্র শিল্পী, যিনি অভিনয় ও গান এই দুই ক্ষেত্রেই জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন-এ ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি?আলমগীর বলেছিলেন,সেটা বড় কথা নয় বড় কথা হচ্ছে,সে কিন্তু আমার আগেই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে এবং এই বলে গর্বের সাথে তিনি মুচকি হাসি দেন।

এরপর আলমগীরকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়,কেন তিনি তাঁর মেয়ে আঁখিকে অভিনয় করতে দেননি আর?এই প্রশ্নের উত্তরে আলমগীর স্পষ্টভাবে বলেন, তার জীবনের পথটা ছিল কঠিন সংগ্রামে ভরা। কখনো কাজের অভাব, কখনো আর্থিক টানাপোড়েন-এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। সেই সংগ্রামই তাকে শিখিয়েছে কাজের মূল্য, পরিশ্রমের গুরুত্ব এবং সাফল্যের প্রকৃত অর্থ। কিন্তু তার সন্তানরা সেই একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি। তারা বড় হয়েছে তুলনামূলক আরাম-আয়েশের মধ্যে, যেখানে প্রয়োজনের জন্য লড়াই করতে হয়নি, অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়নি। আর ঠিক এখানেই ভয় আলমগীরের। আলমগীর মনে করেন, যে মানুষ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসে, সে কাজের মূল্যটা ভেতর থেকে অনুভব করতে পারে। কিন্তু যাদের সেই অভিজ্ঞতা নেই, তারা হয়তো একই গভীরতায় বিষয়টিকে উপলব্ধি করতে পারবে না। অভিনয় একটি কঠিন, প্রতিযোগিতামূলক এবং মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং পেশা-এখানে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন কঠিন মানসিকতা এবং সংগ্রামের শক্ত ভিত। আর এই জায়গাটাতেই তিনি মনে করেছেন, আঁখি হয়তো সেইভাবে প্রস্তুত নয়।

এরপর আঁখির বিষয় বাদ দিয়ে আলমগীরকে জিজ্ঞাসা করা হয় আরেক মেয়ে তুলতুলের ব্যাপারে।সেই উত্তরে তিনি বলেন, তুলতুল কখনোই অভিনয় বা গানের জগতে আগ্রহ দেখায়নি।তাই আমিও তাকে সেই পথে আনতে চাইনি। বরং তিনি নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বর্তমানে তুলতুলের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তার পরিবার,তার জমজ সন্তান-ইব্রাহিম ও ইউসুফ। আর এই দুই নাতিরাই এখন আলমগীরের বেস্ট ফ্রেন্ড।

প্রসঙ্গক্রমে এবার আসে আলমগীরের ছেলে তাজবিদের কথা।আলমগীর বলেন, শুরুতে কোনো কাজেই আগ্রহ ছিল না তাজবিদের। কিন্তু আলমগীর হাল না ছেড়ে তাকেও ঠিক করেছেন। এখন তাজবিদ নিয়মিত ব্যবসা সামলাচ্ছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করছে।এরপর আলমগীর আরো বলেন-তাজবিদ এখনো শিখছে।হয়তোবা আরো বছর দেড় দুই লাগবে ওর পুরোপুরি ব্যবসা বুঝে উঠতে।

আলমগীর যে বলেন একজন বাবা হিসেবে তিনি সফল-কথাটা হয়তোবা আসলেও সত্য।বড় মেয়ে আঁখি অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও গানে রাজত্ব করছেন।আরেক মেয়ে তুলতুল পাকা ঘরোনি হয়ে ঘর সামলাচ্ছেন এবং ছেলে তাজবিদ বাবার সাথে ব্যবসা দেখাশুনা করছেন।একজন বাবা হিসেবে আর কিবা চাওয়ার থাকতে পারে?তাই,নিঃসন্দেহে আলমগীরকে সুখী বলাই যায়।