ফারহান তানভীর :
বর্তমান সময়ে সিনেমা অনেক বড় একটা বাণিজ্যিক ক্ষেত্র।এই সময়ে এসে একেকটা সিনেমা বানাতেই কিছু কিছু সময় দুই তিনশো কোটি টাকা বা তারও বেশি বাজেট রাখা হয়।আর মুক্তির পর সেগুলো সিনেমা আয়ও করে হাজার কোটির উপরে।তাই বর্তমান যুগে সিনেমার গল্প যতটা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ তার প্রচারণা।কারণ কথাতেই বলে,প্রচারেই প্রসার। সিনেমা জগতে সেই কথাটা আরো বেশি করে প্রযোজ্য। আর ঠিক এই কারণেই,নির্মাতারা প্রচারণার জন্য টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করেন না।পূর্বে যেখানে শুধু পোস্টার বা মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হতো,এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলায় বিজ্ঞাপন দেয়ার মতো চমৎকার ব্যবস্থা। বিশেষ করে ক্রিকেটের মাধ্যমে সিনেমার প্রচারণা অনেক দেখা যাচ্ছে ইদানীং।

২০২১ সালে মুক্তি পেয়েছিল আল্লু অর্জুন অভিনীত সিনেমা `পুষ্পা।’ সিনেমাটি মুক্তির পর তার গর্জন যে শুধু বক্স অফিসেই সীমাবদ্ধ ছিল তা না বরং বিশ্বজুড়েই একটা আলোড়ন ফেলেছিল। আর সেই ঝলকই ক্রিকেট মাঠেও নিয়ে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার তখন যেন “পুষ্পা” সিনেমার প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন। ক্যাচ ধরার পর বা দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পর পুষ্পার মতো করে ঘাড় উঁচু করে হাঁটা আবার সেঞ্চুরি করার পর ব্যাট দিয়ে দাড়ি নাড়ানো-ওয়ার্নারের এই উদযাপনগুলো তখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ক্রিকেট দুনিয়ায় তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও সিনেমার সাথে ওয়ার্নারের সংযোগ বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালে শেষমেশ তাকে দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা `রবিনহুড’-এ একটি ছোট চরিত্রে। সিনেমাটিতে নায়ক হিসেবে ছিলেন নিতিন এবং নায়িকা ছিলেন শ্রীলীলা । অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, সিনেমাটির প্রমোশনে ওয়ার্নারের উপস্থিতি একটি বড় ভূমিকা রেখেছে- যে কারণে ক্রিকেটপ্রেমীরাও এই সিনেমার জন্য মুখিয়ে ছিলেন।

ক্রিকেট ও সিনেমার মিশ্রণ এখানেই শেষ নয়। ভারতীয় ক্রিকেটের “গাব্বার” নামে পরিচিত শিখর ধাওয়ান ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২৫ সালে হাজির হন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন-এর সঙ্গে `বেসোস’ নামের একটি গানে।সেই গানের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই লিখেছিলেন, “গানটা ভালো লাগেনি, ধাওয়ানের জন্যই বারবার শুনি।” স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে, সিনেমা জগতে ক্রিকেটারদের সংযোজন কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

সিনেমা আর ক্রিকেটের এই মেলবন্ধন এবার দেখা গেলো বাংলাদেশেও। আমাদের দেশের মেগাস্টার শাকিব খান -এর আসন্ন সিনেমা `রকস্টার।’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আজমান রুশো। এই সিনেমাটির প্রচারণাতেই দেখা গেছে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। ১৭ এপ্রিল মিরপুরে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিটি বিরতিতে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে “রকস্টার”-এর পোস্টার। শুধু ওই একদিনই নয়-১৭, ২০ এবং ২৩ এপ্রিলের তিনটি ম্যাচেই এই বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। জানা গেছে,আগামী ২৭ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-২০ ম্যাচগুলোতেও দেখানো হবে রকস্টারের পোস্টার।ক্রিকেটপ্রেমীদের সরাসরি টার্গেট করে এমন প্রচারণা নিঃসন্দেহে নতুন চিন্তারই পরিচয় দেয়।

অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএল -এও দেখা গেছে একই চিত্র। ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এবারের আসরের ৩৩তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই এবং মুম্বাই । সেই ম্যাচে উইন্ডিজ অলরাউন্ডার আকিল হোসেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে নামান ধীরকে ক্লিন বোল্ড করার পর উদযাপন করেন আল্লু অর্জুনের আসন্ন সিনেমা `RAAKA’ এর স্টাইলে।
বর্তমানে বড় দুইটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হলো ক্রিকেট এবং সিনেমা। সেই ক্রিকেট এবং সিনেমা মিশে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রটি যেমন প্রশস্ত হয়েছে তেমনই উন্মুক্তও হয়েছে ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা।হয়তো ভবিষ্যতে এই প্রচারণা পদ্ধতি আরো প্রসারিত হবে এবং দর্শকরাও বহু বিনোদন মাধ্যমে একসাথে যুক্ত হবে।