ফারহান তানভীর :
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “মনের মাঝে তুমি” সিনেমাটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন এক সিনেমা, যেটাকে শুধু “সুপারহিট” বললে আসলে কম বলা হয়। আকাশে বাতাসে,প্রেমী ও প্রেমী,আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নসহ সিনেমাটির প্রায় সব গানই এখনও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। এই সিনেমা ছিল সেই সময়ের দর্শকদের ভালোবাসা, আবেগ আর সিনেমা হলে গিয়ে বারবার একই গল্প দেখার এক অদ্ভুত ঘটনার স্বাক্ষী।

রিয়াজ এবং পূর্ণিনা জুটির এই সিনেমাটি মূলত ২০০১ সালে নির্মিত তামিল চলচ্চিত্র “মনশান্ত নুভে”-এর রিমেক ছিল। তবে গল্প রিমেক হলেও সিনেমাটি দেশীয় দর্শকদের আবেগ এবং রুচির সাথে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে মনে হতো গল্পও বাংলাদেশের নিজস্বই।“মনের মাঝে তুমি” সিনেমাটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি।যেখানে রিয়াজ ও পূর্ণিমার পাশাপাশি , বিপ্লব চ্যাটার্জি, সিরাজ হায়দারের মতো দুই বাংলার শক্তিশালী শিল্পীদের একসাথে দেখা গিয়েছিল। শুধু যে অভিনয়েই দুই বাংলা মিশে গিয়েছিল তা কিন্তু না,গানেও ছিল দুই বাংলার মিশেল।প্রেমী ও প্রেমী গানটিতে সুর দিয়েছিলেন উদিত নারায়ণ এবং আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নতে স্য্র দিয়েছিলেন শান। সেসময়ের অনেক ভিডিওতে দেখা গেছে,একবার দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকই দ্বিতীয়বার সিনেমাটি দেখতে গেছেন।অনেকে নাকি ওই এক সিনেমা দেখতেই দশবারও হলমুখী হয়েছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমাকে যখন “মনের মাঝে তুমি” সিনেমা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,তখন তার মুখ থেকেই একটি চমকপ্রদ তথ্য শোনা গেছে।পূর্ণিমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সিনেমাটি দেখে নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমান তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন-এটা কি সত্য? পূর্ণিমাও সময় না নিয়ে জানান-হ্যাঁ, ঘটনাটি সত্য। যখন আবার জিজ্ঞাসা করা হয় সেখানে কি লেখা ছিল তখন তিনি বলেন, সেই চিঠিতে তারেক রহমান সিনেমাটির প্রশংসা করেছিলেন এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি এ ধরনের আরও সিনেমা দেখতে চান। শুধু তাই নয়, তিনি অভিনয়শিল্পীদের উদ্দেশ্যে উৎসাহমূলক কথাও লিখেছিলেন, যেন তারা এগিয়ে যায় এবং দেশের চলচ্চিত্রে আরও ভালো কাজ উপহার দেয়।

“মনের মাঝে তুমি”- সিনেমাটির জন্য পূর্ণিমাকে লেখা তারেক রহমানের চিঠিটা সে সময় প্রত্যেক শিল্পীর জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অণুপ্রেরণাদায়ক ছিল।কারণ এখনকার মতো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ভাইরাল হওয়ার সহজ মাধ্যম তখন ছিল না। একটি সিনেমার সাফল্য মাপা হতো মানুষের মুখে মুখে, হলে দর্শকের ভিড়ে আর এমন কিছু বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে। পূর্ণিমা নিজেই বলেন, তার মা তখন তার সবকিছু দেখাশোনা করতেন এবং চিঠিটি পেয়ে তিনি এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে সাংবাদিকদের ডেকে নিজে তা দেখিয়েছিলেন। যেকোনো শিল্পীর জন্যই এটি নিঃসন্দেহে এক বিশাল স্বীকৃতি ছিল সে সময়, যা শুধু ব্যক্তিগত আনন্দই দিতো না বরং ক্যারিয়ারের পথেও নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করতো।

পূর্ণিমা আরও বলেন, তিনি নিজেও কখনো ভাবেননি যে “মনের মাঝে তুমি” এত হিট হবে বা এমন পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া পাবে। তার কাছে এই সিনেমাটি বর্তমানে তাই শুধুমাত্র একটি সফল কাজ নয় বরং জীবনের একটি বিশেষ স্মৃতি, একটি বড় প্রাপ্তি।২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সকল সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা ছিল “মনের মাঝে তুমি।”
সময়ের সাথে অনেক সিনেমা এসে যায় কিন্তু কিছু সিনেমা থেকে যায় মানুষের মনে-স্মৃতি হয়ে, ভালোবাসা হয়ে, গল্প হয়ে। মনের মাঝে তুমি ঠিক তেমনই একটি সিনেমা, যা প্রমাণ করে- সঠিক সময়ে সঠিক আবেগ ছুঁতে পারলে একটি সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।