ফারহান তানভীর :
বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম নায়ক মান্না। ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাটীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রকৃত নাম আসলাম তালুকদার মান্না। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। আজহারুল ইসলাম খানের পরিচালনায় তওবা ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু হলেও, কাজী হায়াতের পরিচালনায় একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মান্না।মাত্র ৪৩ বছর বয়সে, ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই জনপ্রিয় নক্ষত্রের জীবনাবসান ঘটে।

মৃত্যুর এত বছর পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন মান্না-এবার একটি ভাইরাল ছবিকে ঘিরে।সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিমানবন্দরে আগমনের নানা ছবি ভাইরাল হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সেই ছবিগুলোর পাশাপাশি আলোচনায় আসে আরও একটি ছবি-যেখানে দেখা যায়, নায়ক মান্না ও তারেক রহমান একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করছেন।ছবিটি সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ছবিটি ঘিরে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা-কেউ বিষয়টি দেখছেন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কেউ আবার দেখছেন সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে রাজধানীর রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মান্না ও তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হয়। বৈশাখের সেই আনন্দঘন পরিবেশে হাজারো মানুষের ভিড়, হাসি ও কোলাহলের মাঝেই দু’জনের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন ও কুশল বিনিময় হয়।

ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রয়াত নায়ক মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না। তিনি জানান, ছবিটি বহুদিন আগের এবং এটি তাঁর কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে ছবিটি ঘুরতে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শেলী মান্না বলেন, “সেদিন মান্নার সঙ্গে তারেক রহমানের হঠাৎ দেখা হয়। মান্নার মুখে শুনেছিলাম, তারেক রহমান তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। মূলত অভিনয়, দেশ ও সমাজ নিয়েই তাঁদের কথা হয়েছিল। তিনি শিল্পীদের রাজনীতিতে এসে দেশের সেবা করার কথাও বলেন।”
ছবিটি কোন সময়ের-এ বিষয়ে শেলী মান্না জানান, এটি সম্ভবত ২০০২ সালের পরের ঘটনা, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তিনি আরও বলেন, “সেদিন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন মান্না। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। যতদূর মনে পড়ে, মান্না সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। তিনি অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।”শেলী মান্না আরও যোগ করেন, “আমাদের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এসব বিষয়ে আমাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল না। আমি নিজেও সরকারি চাকরি করতাম। এটুকু জানি, মান্না তারেক রহমানের আন্তরিক ব্যবহারের কথা বলেছিলেন।”

এই মন্তব্যগুলো আবারও মনে করিয়ে দেয়-মান্না ছিলেন কেবল একজন সফল নায়কই নন, তিনি ছিলেন মানুষের প্রিয় মুখ। ভাইরাল ছবিকে ঘিরে যতই আলোচনা-সমালোচনা হোক না কেন, মান্না ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সবার নায়ক। তিনি আজও বেঁচে আছেন-পর্দার নায়ক হিসেবে নয়, মানুষের হৃদয়ের নায়ক হিসেবে।