ফারহান তানভীর :
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দেশে আসেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। তাঁদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে সিলেটে পৌঁছায়। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান সরাসরি যোগ দেন রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

সকাল থেকেই সেখানে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘ সময় পর দলটির শীর্ষ নেতাকে সামনে থেকে দেখার আবেগ অনেকের চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,‘আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে। আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’তিনি আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।

তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির কথা।তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন,‘তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আজ আপনাদের গ্রহণ করতে হবে।’তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে শোবিজ অঙ্গনেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। অনেক তারকাই তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেন। সেই তালিকায় রয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পরীমনি লেখেন,‘“আজ এ দেশের মানুষ চায়”… যখন বললেন, একদম শিরদাঁড়ায় এসে বিঁধলো। কী যে এক মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে! শান্তি নেমে আসুক সবার জীবনে-আর কিছু চাওয়ার নেই।’পরীমনির এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়-রাজনীতির বক্তব্য কীভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আবেগ তৈরি করছে, তার একটি উদাহরণ হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, জনসমাগম এবং সমাজের নানা শ্রেণির প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে এই দিনটি রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে জায়গা করে নিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।