দিনের আলোতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলো শাকিব খানের আসন্ন সিনেমা “রকস্টার” এর শ্যুটিং…

ফারহান তানভীর :

দেড় দশকের বেশি সময় ধরেই ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ব্যস্ততম নায়ক মেগাস্টার শাকিব খান। প্রিয়তমা,তুফান,তান্ডব,বরবাদ সিনেমা দিয়ে নিজের যে দিত্বীয় অবতার তিনি দেখিয়েছেন তা কিছুটা ভাটা পড়েছিল গত ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা প্রিন্স দিয়ে। দর্শকদের পাশাপাশি শাকিব খান নিজেও হতাশ হয়েছিলেন সিনেমাটি নিয়ে। প্রিন্স শেষ করার পরপরই তিনি যুক্ত হয়েছেন আজমান রুশো পরিচালিত “রকস্টার” সিনেমাতে। সিনেমাটিতে একজন গায়কের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।

ছবিতে অভিনেতা শাকিব খান

দর্শকদের মতে রকস্টার সিনেমার সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো এর চরিত্র। কারণ “রকস্টার” টাইপের গল্প বা চরিত্র বাংলাদেশি সিনেমায় খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে দর্শকদের প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি সংশয়ও প্রবল। একজন মূলধারার বাণিজ্যিক নায়ক হিসেবে পরিচিত শাকিব খান এই ভিন্নধর্মী চরিত্রে কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারবেন-এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্র।

মূল পরিচালক হিসেবে আজমান রুশো থাকলেও লোকেশন পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মালু দেওয়ান । মালু দেওয়ান নামটা অনেকের কাছে হয়তো ততটা পরিচিত না, কিন্তু “মালু দালাল” বললেই হয়তো চিনে ফেলবেন সবাই । কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক “ব্যাচেলর পয়েন্ট” সিজন ৫-এ তার অভিনীত চরিত্র মালু দালাল ইতোমধ্যেই তরুণদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এই জনপ্রিয়তা তাকে নতুন করে যে স্পটলাইটে এনেছে- সেই অভিজ্ঞতাই তিনি এখন কাজে লাগাচ্ছেন বড় পর্দার প্রজেক্টে।

ছবিতে মালু দেওয়ান

মালু দেওয়ান একটি ইন্টারভিউ জানিয়েছেন, “রকস্টার” টিম অত্যন্ত মনোরম ও বৈচিত্র্যময় লোকেশনে শুটিং করছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ব্যস্ত ও জনবহুল জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করেও কোনো ধরনের ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুটিং চললেও সাধারণ মানুষ বিষয়টি টেরই পায়নি-যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায় অবিশ্বাস্য।সাধারণত শাকিব খানের মতো তারকাকে নিয়ে খোলা জায়গায় শুটিং করা মানেই বিশাল ভিড়, নিরাপত্তা সমস্যা এবং শুটিং ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি। কিন্তু “রকস্টার” টিম এই চ্যালেঞ্জটাকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছে।

ছবিতে মালু দেওয়ান

এরপর মালু হাসতে হাসতে বলেন-শুটিং শেষ হওয়ার পর যখন খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন অনেকেই নাকি এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করে-যেন তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। লোকেশন নিয়ে মালু দেওয়ানের আত্মবিশ্বাসও অবশ্য চোখে পড়ার মতো ছিল। তার মতে, দর্শকরা যখন বড় পর্দায় এই লোকেশনগুলো দেখবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মুগ্ধ হবে। শুধু দর্শক নয়, শাকিব খান নিজেও নাকি ব্যক্তিগতভাবে এই লোকেশনগুলো বেশ পছন্দ করেছেন।

খবর অনুযায়ী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পেতে পারে রকস্টারের টিজার। আর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ঈদুল আযহায়।এখন দেখার বিষয় রুশো-শাকিব খান জুটিতে লোকেশনে কেমন চমক রেখেছেন মালু? সিনেমাটি কি পারবে শাকিব খানকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে?