ডিসেম্বরে মাসুদ আসছে `সুরঙ্গ-২’ নিয়ে…

ফারহান তানভীর :

“এই দুনিয়ায় ভালো মাইনষের দাম নাই”-আফরান নিশোর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই পরিচিত সংলাপটি শোনা মাত্রই যেন দর্শক ফিরে যায় তিন বছর আগের স্মৃতিতে। অন্ধকার পর্দার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে সামনে আসে ‘মাসুদ’। এরপর একে একে ভেসে ওঠে নির্মাতা রায়হান রাফীর ক্যারিয়ারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমার ঝলক। ‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’ ও ‘তাণ্ডব’-এর দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন কিছু অ্যাকশন, রহস্য আর উত্তেজনায় ভরা মুহূর্ত। আর সবশেষে বড় করে লেখা ওঠে-‘মাসুদ ইজ ব্যাক’। এতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ-২’-এর।

সুরঙ্গ-২ এর ঘোষণাটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ, ‘সুড়ঙ্গ’ শুধু একটি সফল সিনেমাই ছিল না, এটি ছিল আফরান নিশোর চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা। ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ছবিটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিল। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা নিশো বড় পর্দায় প্রথমবারের মতো হাজির হয়েছিলেন ‘মাসুদ’ চরিত্রে। তাঁর অভিনয় যেমন প্রশংসা পেয়েছিল, তেমনি ছবিটি বক্স অফিসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচিত হয়েছিল সিনেমাটি। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও একাধিক বিভাগে স্বীকৃতি পায় ‘সুড়ঙ্গ’।

তবে ‘সুড়ঙ্গ-২’-কে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ হলো রায়হান রাফির পরিকল্পিত সিনেমাটিক ইউনিভার্স। ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়েই যে জগতের সূচনা হয়েছিল, সেটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পরে এসেছে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এর গল্প, চরিত্র এবং সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে। বিশেষ করে ‘তাণ্ডব’-এর কয়েকটি উপাদান দেখে অনেকে ধারণা করেন, রায়হান রাফি তাঁর সিনেমাগুলোকে একই ইউনিভার্সের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।এখন ‘সুড়ঙ্গ-২’ সেই পরিকল্পনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। নির্মাতা নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি শুধু আগের গল্পের ধারাবাহিকতা নয়, বরং তাঁর চলচ্চিত্রের নিজস্ব ইউনিভার্সকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ। অর্থাৎ, দর্শকরা এবার শুধু মাসুদের গল্পই দেখবেন না, বরং এমন কিছু নতুন সংযোগও দেখতে পারেন যা ভবিষ্যতের আরও চলচ্চিত্রের পথ তৈরি করবে।

আরেকটি চমৎকার তথ্য জানা গেছে, ‘তাণ্ডব’-এর আলোচিত চরিত্র আরমান মনসুরকে কেন্দ্র করে আলাদা একটি সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে রাফির। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন সিয়াম আহমেদ। তান্ডব সিনেমা মুক্তির পর থেকেই আরমান মানসুর দর্শকদের মনে বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছিল। সেই চরিত্রেরই অতীত, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক প্রশ্ন এখনও অজানা রয়ে গেছে। ফলে চরিত্রটিকে ঘিরে স্বতন্ত্র একটি সিনেমা তৈরি হলে সেটি এই ইউনিভার্সকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

সুরঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ জানিয়েছে, প্রথম সিনেমার গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, ‘সুড়ঙ্গ-২’ শুরু হবে ঠিক সেখান থেকেই। তবে এবার গল্পের পরিধি হবে আরও বড়। প্রযুক্তি, নির্মাণশৈলী এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায়ও থাকবে নতুনত্ব। আন্তর্জাতিক মানের একটি সিনেমা নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আফরান নিশোর কাছেও সুরঙ্গের ‘মাসুদ’ চরিত্রটির গুরুত্বও অবশ্যই আলাদা। কারণ এই চরিত্রই তাঁকে বড় পর্দার দর্শকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য এবার অপেক্ষা করছে নতুন গল্প, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং কিছু অপ্রত্যাশিত চমক। অন্যদিকে রায়হান রাফিও জানিয়েছেন, মানুষের ভেতরের অন্ধকার, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামকে এবার আরও বিস্তৃত ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে ‘সুড়ঙ্গ-২’। তবে এখন থেকেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তা হলো-এটি কি কেবল মাসুদের প্রত্যাবর্তনের গল্প, নাকি রায়হান রাফির বহুদিনের পরিকল্পিত সিনেমাটিক ইউনিভার্সের আরও বড় দরজা খুলে দেওয়ার শুরু? সেই উত্তর জানতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।