ঘোষণা এলো পঞ্চায়েত সিজন-৫ এর! কি নিয়ে এগোবে গল্প?

ফারহান তানভীর :

কোনো নাটক, সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ দেখার সময় কি কখনো মনে হয়েছে-আপনি নিজেই সেই গল্পের অংশ হয়ে গেছেন? দেখা শেষ হওয়ার পরও কি দীর্ঘ সময় ধরে মনে হয়েছে আপনি এখনও সেই জায়গাতেই আছেন, যেখানে গল্পটি গড়ে উঠেছে? যদি এমন অভিজ্ঞতা না হয়ে থাকে, তাহলে দেখে নিতে পারেন পঞ্চায়েত ওয়েব সিরিজটি।আর এই কথাগুলো আমাদের না,এগুলো পঞ্চায়েত ভক্তদেরই কথা।

দ্যা ভাইরাল ফেভার (টিভিএফ) নির্মিত এবং এমাজন প্রাইম ভিডিও-তে প্রচারিত এই সিরিজটির যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে। কাস্টদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, শুরুতে তারা নিজেরাও ভাবেননি-এত সাধারণ গল্প এতটা জনপ্রিয়তা পাবে। কারণ, সিরিজটিতে নেই কোনো চটকদার অ্যাকশন, নেই রোম্যান্স কিংবা গান-বাজনার বাহুল্য। বরং রয়েছে একটি গ্রামের স্বাভাবিক জীবন, সাদামাটা মানুষদের দৈনন্দিনতা এবং কেন্দ্রবিন্দুতে ফুলেরা গ্রামের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা।এই সরলতাই ধীরে ধীরে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইতোমধ্যে সিরিজটির পঞ্চম সিজনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাইম ভিডিও।

পঞ্চায়েতের সবচেয়ে বড় শক্তি এর চরিত্রগুলো। এই সিরিজে নির্দিষ্ট কোনো ‘মূল চরিত্র’ নির্ধারণ করা কঠিন-প্রতিটি চরিত্রই গল্পের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং দর্শকদের কাছেও সমান প্রিয়।গল্পের শুরু মঞ্জু দেবীর পঞ্চায়েত দিয়ে। তবে তিনি নির্বাচিত প্রধান হলেও কার্যত পঞ্চায়েত পরিচালনা করতেন তার স্বামী ব্রিজভূষণ দুবে। এই দলে ছিলেন উপপ্রধান প্রহ্লাদ এবং অফিস সহায়ক বিকাশ। পরবর্তীতে এই গ্রামে সচিব হিসেবে যোগ দেন অভিষেক ত্রিপাঠী, যার চরিত্রে ছিলেন জিতেন্দ্র কুমার।পঞ্চায়েতের আগেও যিনি কোটা ফ্যাক্টরি সিরিজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।অন্যদিকে, পঞ্চায়েতের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে উঠে আসে ওই গ্রামের ক্রান্তি দেবী এবং তার স্বামী ভূষণ। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিনোদ ও মাধব। এই দুই পক্ষের গ্রামীণ রাজনীতি এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ঘিরেই মূলত গল্প এগিয়েছে তৃতীয় সিজন পর্যন্ত।

চতুর্থ সিজনে এসে সেই দ্বন্দ্ব পৌঁছে যায় চূড়ান্ত পরিণতিতে। অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম্য নির্বাচন, যেখানে মঞ্জু দেবী পরাজিত হন এবং ক্রান্তি দেবী নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।ঘোষণা অনুযায়ী, পঞ্চম সিজন শুরু হবে এই নতুন পঞ্চায়েত গঠন দিয়ে। তবে এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়বে অভিষেক ত্রিপাঠী তথা সচিব জি। মঞ্জু দেবীর সময়ে দায়িত্ব পালন কালীন ক্রান্তি দেবী ও তার স্বামী ভূষণের সঙ্গে তার পূর্বের দ্বন্দ্ব নতুন প্রশাসনে তার অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তুলবে।এই পরিস্থিতিতে অভিষেক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করবে। এমবিএ সম্পন্ন করে সচিবের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও সামনে আসবে। তবে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আগে ফুলেরা গ্রামের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে যাওয়ার দায়বদ্ধতা তাকে একটি কঠিন দ্বিধার মুখে দাঁড় করাবে।

এদিকে অভিষেকের গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য আসবে- এমন শোনার পরই দর্শকদের মনে কৌতুহল জাগে রংকির কি হবে? প্রথম দুই সিজনে খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও, তৃতীয় ও চতুর্থ সিজনে মঞ্জু দেবী ও ব্রিজভূষণ দুবের মেয়ে রিংকির উপস্থিতি অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়েই অভিষেক ত্রিপাঠীর সঙ্গে তার একটি নীরব প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এই সম্পর্কের বিষয়টি অভিষেক, রিংকি এবং রিংকির বান্ধবী রবীনা ছাড়া আর কেউ জানে না।ফলে পঞ্চম সিজনে অভিষেকের সম্ভাব্য ফুলেরা ছাড়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই সম্পর্কটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে আসবে। সে কি সবাইকে জানিয়ে রিংকিকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে, নাকি এই সম্পর্কের পরিণতি অধরাই থেকে যাবে-দর্শকদের এই কৌতূহলই নতুন সিজনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে বিধায়ক চন্দ্রকিশোর সিং, যিনি আগে থেকেই ক্রান্তি দেবীর পক্ষে ছিলেন, মঞ্জু দেবীর শাসনামলে অভিষেকের সঙ্গে তার বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পরিস্থিতিতে ক্রান্তি দেবী ও ভূষণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আরও সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠে নামতে পারেন। এতে করে অভিষেক এবং মঞ্জু দেবীর পক্ষের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতের পঞ্চম সিজনে অভিষেকের ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ, প্রেম এবং গ্রামীণ রাজনীতির সংঘাত একসঙ্গে মিলেই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন এক পর্যায়ে। দর্শকদের মনে এই সিরিজটি যে আরও গভীর ছাপ ফেলবে, তা বলাই যায়।