পুরোনো ভরসায় নতুন নতুন মুখ… শাকিব খানে আর কতদিন?

ফারহান তানভীর :

ঢালিউডের বর্তমান বাস্তবতা যদি নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে একটা বিষয় স্পষ্টই হয় যে এই ইন্ডাস্ট্রি আজ অনেকাংশেই এক ব্যক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে, আর তিনিই হলেন শাকিব খান। একজন বিনোদন সাংবাদিকের মন্তব্য অনুযায়ী- “শাকিব খানকে এখন নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে এবং পুরো ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশার ভার তাকে একাই বহন করতে হচ্ছে।”

ছবিতে শাকিব খান

প্রথমেই আসা যাক “নতুনদের সঙ্গে কাজ” প্রসঙ্গে। চলচ্চিত্র একটি টিমওয়ার্কের শিল্প। এখানে একজন অভিনেতার পারফরম্যান্স যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সিনেমাটোগ্রাফার, এমনকি প্রযোজকের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু বর্তমান ঢালিউডে-শাকিব খানের প্রজেক্টগুলোতে নতুন পরিচালক, নতুন নায়িকা, নতুন টেকনিশিয়ানদের আধিক্য। এই “নতুনত্ব” একদিকে যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে তা বিশাল ঝুঁকিও তৈরি করছে। কারণ অভিজ্ঞতার অভাব মানেই সিদ্ধান্তে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, গল্প বাছাইয়ে দুর্বলতা কিংবা টেকনিক্যাল বাস্তবায়নে ঘাটতি। শাকিব খানের সর্বশেষ সিনেমা প্রিন্সে সেই ব্যাপারগুলো অবশ্য ভালভাবেই উপলব্ধি করেছে দর্শকরা।

আর এই ব্যাপারগুলোই শাকিব খানের কাজকে আরো ভারী করে তুলেছে। একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা হিসেবে তিনি শুধু নিজের চরিত্রে অভিনয় করেই দায় শেষ করতে পারছেন না। তাকে পুরো প্রজেক্টের মান ধরে রাখার জন্য বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়। অনেক সময় গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে দৃশ্যের উপস্থাপন সবকিছুতেই তাকে পরোক্ষভাবে প্রভাব রাখতে হচ্ছে। অর্থাৎ, তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন বরং পুরো প্রজেক্টের “সেফটি নেট” হিসেবে কাজ করছেন।

ছবিতে শাকিব খান

শাকিব খানকে ঘিরে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-পুরো ইন্ডাস্ট্রির নির্ভরশীলতা। বর্তমানে ঢালিউডে বড় বাজেটের সিনেমা মানেই শাকিব খান-এই ধারণা প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেই বলা যায়। প্রযোজকরা বিনিয়োগ করতে চান তখনই, যখন সেখানে শাকিব খানের উপস্থিতি থাকে। কারণ তিনি এখনও বক্স অফিসে সবচেয়ে বড় “সেলিং পয়েন্ট”। ফলে একটি সিনেমা হিট বা ফ্লপ হওয়া এখন অনেকাংশেই তার ওপর নির্ভর করছে। এই নির্ভরশীলতা একদিকে তাকে সুপারস্টার বানিয়েছে কিন্তু অন্যদিকে তাকে এক ধরনের “একক ভরকেন্দ্র” বানিয়ে ফেলেছে, যা কোনো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

ছবিতে শাকিব খান

এরই মধ্যেই তার পরবর্তী সিনেমা রকস্টার নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক উত্তেজনা। আগামী ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এই ছবিটি এখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গতকাল ৫ মে সন্ধ্যা ৭ টায় “রকস্টার জ্যামিং” নামে ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি টিজার প্রকাশিত হয়েছে। টিজারটি দেখার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করলে বোঝা যায়-প্রত্যাশার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।তবে টিজার পজিটিভ হওয়া মানেই সিনেমা সফল হবে-এই সমীকরণ সবসময় সত্যি হয় না। বরং এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। কারণ দর্শক যখন আগেই উচ্চ আশা নিয়ে বসে থাকে, তখন সামান্য ঘাটতিও বড় হতাশায় পরিণত হতে পারে। আর এই চাপটা সরাসরি গিয়ে পড়বে শাকিব খানের ওপর,যিনি প্রিন্সের কারণে এমনিতেই একটা অতিরিক্ত চাপে আছেন।

সবশেষে বলা যায়, একজন বিনোদন সাংবাদিক যে বাস্তবতার কথা বলেছেন, “রকস্টার” সেই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার হতে যাচ্ছে। দেখা যাক,মেগাস্টার এই সিনেমা দিয়ে তান্ডব তুফানের মতো গর্জন দিতে পারবে নাকি প্রিন্সের মতো রাজ্য হারাবে?