তিন নায়িকা! লাখো ভক্তের উন্মাদনা…গায়কের জীবনের উত্থান-পতন!কি হতে যাচ্ছে শাকিবের “রকস্টারে?”

ফারহান তানভীর :

ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাকেও সামনে রেখে ঢালিউডে চলছে অনেকগুলো সিনেমা মুক্তির তোরজোর। এর মধ্যে রয়েছে নাফিজা তুষির রইদ,শাকিব খানের রকস্টার,খায়রুল বাশারের বনলতা সেন,আরেফিন শুভর মালিক,আদর আজাদের পিনিক,পূজা চেরীর নাকফুলের কাব্য এবং মুন্না খানের তছনছ সহ আরো কয়েকটি সিনেমা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে শাকিব খানের রকস্টার। শুরু থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক, তবে দ্বিতীয় টিজার প্রকাশের পর সেই আগ্রহ যেন কয়েক ধাপ বেড়ে গেছে। প্রথম টিজারে দর্শক দেখেছিল এক উন্মাদ, আত্মবিশ্বাসী, স্টেজ কাঁপানো রকস্টারকে। কিন্তু দ্বিতীয় টিজারে দেখা গেলো একজন রকস্টারের নিঃসঙ্গতা, মানসিক ভাঙন, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও।

রকস্টারে শাকিব খান

রকস্টারের টিজার দেখে এটুকু ধারণা করা যাচ্ছে যে, নির্মাতা আজমান রুশো সম্ভবত একটি স্টারের উত্থান থেকে পতনের গল্প বলতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না। বিশেষ করে “রকস্টার” ঘরানার সিনেমা তো আরও বিরল। তাই দর্শকদের কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক। শাকিব খানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও এই ধরনের রকস্টার-ইমেজে তাকে আগে দেখা যায়নি। লম্বা চুল, স্টাইলিশ পোশাক, কনসার্টে হাজারো মানুষের উন্মাদনা-সব মিলিয়ে তাকে এখানে একেবারে অন্যরকম লাগছে।

রকস্টার সিনেমাটির দ্বিতীয় টিজারে “নো ওয়ান লাভস মি” গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে যেভাবে শাকিব খানের চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে তিনি বাইরের জগতে যতটা সফল, ভেতরে ততটাই ভেঙে পড়া একজন মানুষ। খ্যাতি, নারী, নেশা আর একাকিত্ব-সব মিলিয়ে তার জীবনের ছন্দপতনের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছিল। অনেক দর্শক ইতোমধ্যেই অনুমান করছেন, সিনেমাটি হয়তো দেখাবে কীভাবে একজন তারকা জনপ্রিয়তার চূড়ায় ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে নিজের ভুল সিদ্ধান্ত, সম্পর্কের জটিলতা এবং ব্যক্তিগত অস্থিরতার কারণে নিচে নেমে আসে।তাই এখানে শুধু অ্যাকশন বা রোমান্সের ওপর নির্ভর না করে একজন তারকার মানসিক যাত্রাটাও দেখানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। যদি গল্পটা শক্তিশালী হয়, তাহলে সিনেমাটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠতে পারে।

সিনেমা রকস্টার

অন্যদিকে রকস্টার সিনেমার তিন নারী চরিত্রও দর্শকদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। সাবিলা নূর,তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সুনিধি নায়েক-তিনজনকেই টিজারে ভিন্ন ভিন্ন আবহে দেখানো হয়েছে। যা দেখে মনে হচ্ছিল প্রত্যেকেই রকস্টারের জীবনে আলাদা প্রভাব ফেলবেন।হতে পারে কারও সঙ্গে প্রেম, কারও সঙ্গে মানসিক সংযোগ, আবার কারও সঙ্গে হয়তো ধ্বংসের পথচলা জড়িয়ে আছে।

রকস্টারের তিন নারী চরিত্রের মধ্যে সাবিলা নূরের সঙ্গে শাকিব খানের কেমিস্ট্রি ভালো আলোচনায় আছে।রায়হান রাফি নির্মিত তান্ডব -এর পর আবারও শাকিব খানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। টিজারে তাদের কেমিস্ট্রির ছোট ছোট ঝলক থেকেই বোঝা যায়,এই সিনেমাতেও সাবিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। অন্যদিকে তানজিয়া জামান মিথিলার জন্যও এই সিনেমাটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। এর আগে তাকে বলিউডের রহিঙ্গা সিনেমায় দেখা গেলেও দেশের বড় পর্দায় এটাই তার প্রথম বড় উপস্থিতি।

সাবিলা নূর ও শাকিব খান

রকস্টারের কাস্টিংয়ে আরেকটি চমক হলো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আনিসুল হক ববি। প্রথম টিজারে খুব অল্প সময়ের জন্য তাকে দেখা গেলেও দর্শকদের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি হয়তো শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিংবা খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নতুন মুখ হিসেবে তার উপস্থিতি দেখতেও মুখিয়ে আছেন দর্শক।

রকস্টার সিনেমার সংগীতও পিছিয়ে নেই দর্শকদের নজর কাড়তে। “পিরিতি” গানটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো সাড়া মিলেছে। গানটির সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি এবং গেয়েছেন পান্থ কানাই। গানটিতে শাকিব খানকে খুব সম্ভবত দেখা গেছে একটা রিহ্যাবে। কিছু দৃশ্যে নেশার জন্য ছটফট করছিলেন তিনি।

রকস্টার সিনেমাটিকে ঘিরে বাড়তি চাপও আছে অবশ্য। কারণ গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া শাকিব খান অভিনীত “প্রিন্স:ওয়ান্স আপওন এ টাইম ইন ঢাকা ” দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি একটুও। বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছিল। ফলে শাকিব খানের জন্য “রকস্টার” শুধু আরেকটি সিনেমা নয়, বরং অনেকটা ছন্দে ফেরার লড়াই। আর ভক্তরাও চাইছেন এই সিনেমা দিয়ে তিনি আবার শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান।

শাকিব খান ও তানজিয়া জামান মিথিলা

তবে শুধু শাকিব খানের তারকাখ্যাতির ওপর ভর করে “রকস্টার” সফল হবে না। সিনেমার আসল পরীক্ষা হবে গল্পে।আর ঠিক গল্পেই হেরে গিয়েছিল প্রিন্স। রকস্টারের টিজার দেখার পর দর্শকদের চাহিদা অনেক বেড়েছে সিনেমাটা নিয়ে।যদি দূর্ভাগ্যবশত গল্প মানসম্মত না হয় তাহলে হয়তোবা আবারও নিচু হতে হবে শাকিবকে।

সবকিছু মিলিয়ে “রকস্টার” এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে দর্শকদের কৌতূহল, শাকিবের প্রতি প্রত্যাশা আর সম্ভাবনার একটি বড় নাম। শাকিব খানের নতুন লুক, তিন নায়িকার রহস্যময় উপস্থিতি, সংগীতনির্ভর আবহ, একজন তারকার উত্থান-পতনের সম্ভাব্য গল্প-সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দায় এসে “রকস্টার” সত্যিই বাজিমাত করতে পারে কি না!