ফারহান তানভীর:
বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে মধুমিতা সরকার মানেই ‘পাখি’। প্রায় এক যুগ আগে প্রচারিত জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক বোঝে না সে বোঝে না-এর সেই চরিত্র তাঁকে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বাংলাদেশের অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, ওয়েব সিরিজ, চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছেন। তবে এবার তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দর্শক যেন এবার তাঁকে শুধু ‘পাখি’ নয়, ‘চামেলি’ হিসেবেও মনে রাখে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার মহরত ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মধুমিতা সরকারের কথাবার্তায় দেখা গেছে আবেগ, আন্তরিকতা এবং নতুন পথচলার উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশে এসে যে পরিমাণ ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা তাঁকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। তাঁর ভাষায়, এত মানুষের ইতিবাচক শুভকামনা ও আশীর্বাদ নিয়ে একটি নতুন কাজ শুরু করতে পারা একজন শিল্পীর জন্য বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকের এই ভালোবাসা সিনেমাটির জন্যও ইতিবাচক শক্তি হয়ে কাজ করবে।মধুমিতার ক্যারিয়ারের সঙ্গে ‘পাখি’ নামটি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে অনেকেই তাঁর আসল নামের চেয়ে চরিত্রটির নামেই তাঁকে বেশি চেনেন। কিন্তু একজন শিল্পীর জন্য একই পরিচয়ে আটকে না থেকে নতুন নতুন চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে বারবার প্রমাণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গা থেকেই তিনি চান, বাংলাদেশের দর্শক এবার তাঁকে ‘চামেলি’ চরিত্রের মাধ্যমেও গ্রহণ করুক। তাঁর এই প্রত্যাশা শুধু একটি সিনেমার সাফল্যকে ঘিরে নয়, বরং একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের নতুন পরিচয় নির্মাণেরও প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশে কাজ করার ইচ্ছা অবশ্য তাঁর নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এ দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সময়, পরিকল্পনা কিংবা অন্যান্য বাস্তব কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। অবশেষে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। মধুমিতা মনে করেন, কোনো কিছু দেরিতে হলেও যদি ভালোভাবে শুরু হয়, তাহলে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই সিনেমার পরিচালক, সহশিল্পী এবং পুরো টিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যে সম্মান ও বিশ্বাস নিয়ে তাঁকে এই সিনেমায় যুক্ত করা হয়েছে, অভিনয়ের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন।

‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমাটি শুরু থেকেই আলোচনায় এসেছে এর তারকাবহুল অভিনয়শিল্পীদের কারণে। ছবিটিতে মধুমিতা সরকারের পাশাপাশি অভিনয় করছেন আজমেরী হক বাঁধন, অনন্ত জলিল, ওমর সানী, আমিন খান, রোজিনা এবং মিশা সওদাগরের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। ছবিটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ ইকবাল। নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং গল্প এগোতে পারে যৌন পল্লীর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফলে এখন থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অঙ্গনের মধ্যে সহযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দুই বাংলার শিল্পীরা নিয়মিত একে অপরের দেশে কাজ করছেন। এতে শুধু শিল্পী বিনিময়ই নয়, গল্প, নির্মাণশৈলী ও দর্শকের মধ্যেও একটি সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মধুমিতা সরকারের বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিষেকও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, তিনি এমন একজন শিল্পী, যাঁর জনপ্রিয়তা দুই বাংলাতেই সমানভাবে বিস্তৃত।

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ‘গুলশানের চামেলি’ শুধু মধুমিতা সরকারের বাংলাদেশে অভিষেকের সিনেমা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি দুই বাংলার চলচ্চিত্র সহযোগিতার আরেকটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে। দর্শকও অপেক্ষায় রয়েছেন, ‘পাখি’ পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায় ‘চামেলি’ হয়ে মধুমিতা সরকার কতটা নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন!যদি গল্প, নির্মাণ এবং অভিনয়ের সমন্বয় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তাহলে এই সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ারে যেমন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে, তেমনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও একজন জনপ্রিয় টালিউড অভিনেত্রীর সফল যাত্রার স্মারক হয়ে উঠতে পারে।