আমির খানের চোখে “তিন খান” এর এতো জনপ্রিয়তা কেন অন্যায্য? জানালেন আমির নিজেই…

ফারহান তানভীর :

বলিউডে ‘থ্রি খান’-এই শব্দবন্ধটা যতটা গ্ল্যামারাস, ততটাই অন্যায্য। আমির খান নিজেই সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন একরাশ আক্ষেপ নিয়ে। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের চাপা কষ্ট-মানুষ শুধু তাঁকে, শাহরুখ খান আর সালমান খানকে নিয়েই কথা বলে। অথচ একই সময়ে, একই ইন্ডাস্ট্রিতে, একই লড়াইয়ে আরও অনেকে ছিলেন, আছেন, এবং সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

আমিরের কথায় সবচেয়ে যেটা চোখে পড়ার মতো-তিনি কাউকে বাদ দেওয়ার রাজনীতি করছেন না, বরং সেটার বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, অজয় দেবগন তাঁদের সঙ্গেই প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, হৃতিক রোশন কিংবা অক্ষয় কুমার-তাঁরাও বলিউডের মূল স্রোতের অংশ বহু বছর ধরেই। সবাই প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে একই ইন্ডাস্ট্রিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, ব্যর্থ হচ্ছেন, আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন।

এখানে প্রশ্নটা খুব পরিষ্কার-তাহলে কেন ইতিহাস শুধু ‘থ্রি খান’-এ আটকে যায়?এটা আসলে স্টারডমের শর্টকাট ন্যারেটিভ। মিডিয়া ও দর্শক মিলেই একটা সহজ গল্প বানাতে ভালোবাসে। তিনজন বন্ধু, তিনজন সুপারস্টার, তিনজন খান-এই ফ্রেমটা বিক্রি করা সহজ। কিন্তু সহজ গল্প মানেই সম্পূর্ণ গল্প নয়। আমির খান সেই অসম্পূর্ণতার দিকেই আঙুল তুলেছেন।অথচ অজয় দেবগনের কেরিয়ার কতটা বৈচিত্র্যময়-রোমান্টিক হিরো থেকে শুরু করে অ্যাকশন, থ্রিলার, এমনকি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পারফরম্যান্স। অক্ষয় কুমার-এক সময় বছরে চার-পাঁচটা সিনেমা করে ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক চাকা ঘোরানো মানুষটা। হৃতিক রোশন-যিনি স্টারডমের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্সের মানদণ্ডই বদলে দিয়েছেন। এদের কাউকে বাদ দিয়ে বলিউডের গত ৩০ বছরের গল্প লেখা সম্ভব?

জ্যাকি শ্রফ

আমিরের এই বক্তব্য আসলে আত্মকেন্দ্রিক নয়, বরং আত্মসমালোচনামূলক। তিনি নিজেকে খান-ত্রয়ের বাইরে আলাদা কোনো উচ্চাসনে বসাননি। বরং বলেছেন-আমরা সবাই একসঙ্গে পথ চলেছি। কারও যাত্রা ছোট নয়, কারও অবদান কম নয়।এই কথাটা আজকের দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ, যখন সোশ্যাল মিডিয়া সবকিছুকে লেবেল লাগিয়ে ফেলতে ভালোবাসে। ‘থ্রি খান’-এর বাইরে তাকানোর মানসিকতা তৈরি না হলে, বলিউডের ইতিহাস বারবার সংকুচিত হয়ে পড়বে।

আমির খান তাই শুধু নিজের কষ্ট প্রকাশ করেননি, তিনি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন-স্টারডমের ঝলকের আড়ালে কতগুলো নাম, কতগুলো শ্রম, কতগুলো লড়াই আমরা ইচ্ছা করেই ভুলে যাই।এটা অভিযোগ নয়। এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।আর সেই স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।