অবশেষে ঘোষণা হলো TOXIC- এর মুক্তি কাল! ঝড় তুলতে কবে আসছেন যশ?

ফারহান তানভীর:

২০২২ সালে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ মুক্তির পর ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন যশ। সিনেমাটি শুধু দক্ষিণ ভারতেই নয়, বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। রকি ভাই চরিত্রে তার অভিনয় তাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ভক্তদের একটাই প্রশ্ন ছিল-কেজিএফের পর যশের পরবর্তী সিনেমা কী? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’।

কিন্তু ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা, একের পর এক রিলিজ ডেট পরিবর্তন এবং নানা জল্পনা-কল্পনা।২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমার প্রথম অফিসিয়াল রিলিজ ডেট ছিল ১০ এপ্রিল ২০২৫। কিন্তু বিশাল প্রোডাকশন, দীর্ঘ শুটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ না হওয়ায় সেই তারিখে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নির্মাতারা রিলিজ পিছিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনাও বাতিল হয়। পরে ৪ জুন ২০২৬-এ নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা যখন সিনেমাটিকে আরও বড় পরিসরে বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন সেই তারিখ থেকেও সরে আসেন। অবশেষে গত ২১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, ‘টক্সিক’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ২৬ আগস্ট ২০২৬।

মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কতটা, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে এর টিজার প্রকাশের পর। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মুক্তি পাওয়া অফিসিয়াল টিজার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তখন থেকেই যশের রহস্যময় উপস্থিতি, ডার্ক ভিজ্যুয়াল টোন এবং গ্যাংস্টার জগতের আভাস দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করেছে।আরেকটি বড় ব্যাপার হলো,টক্সিকে ডবল রোলে দেখা যাবে যশকে।যেখানে খুব সম্ভবত বাবা এবং ছেলে উভয় চরিত্রেই থাকবেন তিনি।

কেজিএফের পর যশ কেন এত দীর্ঘ সময় পর্দার বাইরে ছিলেন, সেটিও ছিল অনেকের প্রশ্ন। কেজিএফের বিশাল সাফল্যের পর তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাননি। একাধিক স্ক্রিপ্ট ফিরিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে ‘টক্সিক’কে নিজের পরবর্তী সিনেমা হিসেবে বেছে নেন। কারণ তিনি জানেন, কেজিএফের পর তাঁকে নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ কোনো সিনেমা দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই প্রায় চার বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ‘টক্সিক’ দিয়েই বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি।

সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ এর বিশাল বাজেট এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘টক্সিক’। হলিউডের খ্যাতনামা অ্যাকশন ডিরেক্টর জেজে পেরির তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে এর বড় বড় অ্যাকশন সিকোয়েন্স। তাই বলাই যায় আন্তর্জাতিক মানের একটি গ্যাংস্টার এন্টারটেইনার হিসেবেই দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে টক্সিক।

কাস্টিংয়ের দিক থেকেও ‘টক্সিক’ যথেষ্ট শক্তিশালী। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন যশ, যার পারিশ্রমিক প্রায় ৬০ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি, যার পারিশ্রমিক প্রায় ১৫ কোটি রুপি। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা নিয়েছেন প্রায় ১২ কোটি রুপি। এছাড়া তারা সুতারিয়া প্রায় ৩ কোটি, হুমা কুরেশি প্রায় আড়াই কোটি এবং রুক্মিণী বসন্ত প্রায় দেড় কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

টক্সিক ছাড়াও ২০২৬ সালেই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে নিতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ: পার্ট ১’। সেখানে যশকে দেখা যাবে রাবণের চরিত্রে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দর্শকরা যশের দুটি মেগা প্রজেক্ট উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’ এখন ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত প্রজেক্টগুলোর একটি। কেজিএফ-পরবর্তী যশের প্রথম থিয়েট্রিকাল রিলিজ, বিশাল বাজেট, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন, তারকাবহুল কাস্ট এবং একাধিকবার রিলিজ পিছিয়ে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া কৌতূহল-সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। এখন শুধু অপেক্ষা ২৬ আগস্টের। দীর্ঘ চার বছরের বিরতির পর যশ আবারও বক্স অফিসে ঝড় তুলতে পারবেন কিনা, সেই উত্তর জানার জন্য মুখিয়ে আছে কোটি কোটি ভক্ত।