ফারহান তানভীর :
শাকিব খান অভিনীত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। তবে সেই আলোচনা কখনোই ইতিবাচক ছিলনা,সিনেমার নানা রকম ভুলভ্রান্তি নিয়েই সবসময় সমালোচিত হয়েছে। তবে এবার আর দর্শক বা সমালোচক নয়,অভিযোগ তুলেছে সেন্সরবোর্ড নিজেই। আর ঠিক এই কারণেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এবং পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় তৈরি এই সিনেমা আবার বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড অভিযোগ তুলেছে-সিনেমাটির জন্য যেসব দৃশ্য বাদ দেওয়ার শর্তে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যগুলো রেখেই প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়েছে।গত ১৬ মার্চ সিনেমাটিকে ‘অ্যাডাল্ট’ সনদ দেয় সার্টিফিকেশন বোর্ড। তবে সেই সনদ পেতে গিয়ে প্রযোজককে কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিনেমাটিতে অতিরিক্ত সহিংসতার কিছু দৃশ্য ছিল, যেগুলো সাধারণ দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর ও আপত্তিকর বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে মরুভূমিতে রামদা দিয়ে নির্বিচারে মানুষকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য এবং চাপাতি দিয়ে একজনের হাত ও গলা কাটার দৃশ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব দৃশ্য বাদ দেওয়ার অঙ্গীকার করেই সিনেমাটির জন্য সার্টিফিকেশন সনদ নেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ তোলা হয়েছে, বাস্তবে সিনেমা হলে প্রদর্শিত সংস্করণে সেই নিষিদ্ধ দৃশ্যগুলো আবারও রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া নতুন কিছু দৃশ্যও সংযোজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। দর্শক ও বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে বোর্ডের তিনজন চলচ্চিত্র পরিদর্শক। তারা মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গোপনে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি পর্যবেক্ষণ করেন।

ঢাকার মধুমিতা, যশোরের মণিহার, রংপুরের শাপলা টকিজ, গাইবান্ধার তাজ, সৈয়দপুরের তামান্না, চট্টগ্রামের সুগন্ধা ও সিনেমা প্যালেসসহ একাধিক হলে গিয়ে তারা ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি দেখেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক চলচ্চিত্র পরিদর্শক জানান, তাদের কাছে সার্টিফিকেশন পাওয়া মূল কপিটিও ছিল। ফলে কোন কোন দৃশ্য বাদ দেওয়ার কথা ছিল, তা তারা স্পষ্টভাবেই জানতেন। কিন্তু হলগুলোতে গিয়ে তারা দেখতে পান, বাদ দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া দৃশ্যগুলোই আবার প্রদর্শিত হচ্ছে। এতে নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় সার্টিফিকেশন বোর্ডে।প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ‘প্রিন্স’-এর প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বোর্ডের দাবি, প্রযোজক কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এরপরই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সার্টিফিকেশন বোর্ড। গত ৬ মে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শন করা যাবে না।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো দৃশ্য সংযোজন বা নিষিদ্ধ অংশ প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সিনেমাটি এমনিতেই শাকিব খানের জীবনের একটি কালো অধ্যায় হয়ে গেছে,তার মধ্যে এই ঘটনা যেন ষোলো কলা পূর্ণ করেই দিলো বলা যায়। এবার সবাই মুখিয়ে আছে,শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা রকস্টার কি ফলাফল আনতে পারে তা দেখার জন্য।