দীর্ঘ ৫ মাস পর শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে আলো জ্বলতে যাচ্ছে মধুবন সিনেপ্লেক্সের পর্দায়…

ফারহান তানভীর:

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস নীরব থাকার পর আবারও সিনেমাপ্রেমীদের কোলাহলে ভরে উঠতে যাচ্ছে বগুড়ার জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ মধুবন সিনেপ্লেক্স। আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন থেকেই এখানে আবার শুরু হবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। পুনরায় যাত্রা শুরু হবে ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান অভিনীত “প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা” ছবির প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে।

মধুবন সিনেপ্লেক্স,বগুড়া – ফেসবুক থেকে

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর লোকসানের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সিনেপ্লেক্সটি। সেই সময় মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, মাসের পর মাস আর্থিক ক্ষতির কারণে প্রেক্ষাগৃহটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। বন্ধ থাকার সময়টায় মধুবন সিনেপ্লেক্সের হলরুমটি অস্থায়ীভাবে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।তবে এবার আবারও প্রজেক্টরের আলো জ্বালাতে প্রস্তুত হলটি।

মধুবন সিনেপ্লেক্স,বগুড়া – ফেসবুক থেকে

মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানিয়েছেন, অনেক চিন্তাভাবনার পর ঈদ থেকেই আবার দর্শকদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এই প্রেক্ষাগৃহটি শুধুই একটি ব্যবসা নয়-এটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের স্মৃতি ও আবেগ। তিনি বলেন, “মধুবনের প্রতিটি ইটের সঙ্গে আমার বাবার হাতের ছোঁয়া রয়েছে। তাই যত কষ্টই হোক, এটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা আমরা চালিয়ে যেতে চাই।”রুবেলের মতে, দেশের সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, শুধু দেশীয় চলচ্চিত্র নয়-প্রয়োজনে কলকাতা, মুম্বাই কিংবা হলিউডের মানসম্মত বিদেশি ছবিও আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তৈরি করা আধুনিক সিনেপ্লেক্সগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন সরকার এই খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মধুবন সিনেপ্লেক্স,বগুড়া – ফেসবুক থেকে

ঈদের ভিড়ে দর্শকদের যাতে টিকিট সংগ্রহ করতে ঝামেলায় না পড়তে হয়, সে জন্য মধুবন সিনেপ্লেক্সে অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই দর্শকরা আগেভাগে টিকিট কেটে নিতে পারবেন।এদিকে বগুড়ার সিনেমা হলের ইতিহাসও বেশ নাটকীয়। একসময় পুরো জেলায় প্রায় ৩৮টি সিনেমা হল ছিল। সময়ের সাথে সাথে দর্শক কমে যাওয়া, আর্থিক সংকট ও নানা কারণে ধীরে ধীরে বেশিরভাগ হলই বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভেঙে গেছে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ, আর পুরো জেলায় টিকে আছে মাত্র সাতটি হল-যার মধ্যে শহরে রয়েছে দুটি।

স্টার সিনেপ্লেক্স – ফেসবুক থেকে

আরেকটি নতুন খবরও আছে অবশ্য বগুড়ার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য। বগুড়ার পুলিশ প্লাজায় স্টার সিনেপ্লেক্স চালুর পরিকল্পনা ছিল চলতি ঈদুল ফিতরেই। তবে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ না হওয়ায় সেটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল আযহা থেকেই সেখানে নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শন শুরু হবে।সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ বিরতির পর মধুবন সিনেপ্লেক্সের পুনরায় চালু হওয়া এবং স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন যাত্রা বগুড়ার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর। ঈদের আনন্দের সঙ্গে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার পুরনো সেই উত্তেজনাও।