মেহেদী হাসান :
‘দ্যা একাডেমি অব ফাইন আর্টস’-যে ছবিটিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে পুরো টলিপাড়া উত্তাল—আজ ১৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু দিবসেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। সেন্সর বোর্ডের দেওয়া ‘অ্যাডাল্ট’ সনদ, ৫৪টি দৃশ্য কাটার নজিরবিহীন ইতিহাস, নির্মাতার সাহসী অবস্থান – সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে গেল পুরো বিপরীত ঘটনা। চুক্তি, প্রচার, ঘোষিত রিলিজ ডেট-সবকিছু ঠিক থাকলেও আজ ছবিটি কোনো হলে মুক্তি পায়নি। এডভান্স বুকিংও হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। আর ঠিক এই জায়গাটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-কে বা কারা ছবিটির রিলিজ আটকে দিল?

জয়ব্রত দাশ, যিনি তাঁর সহপাঠীদের নিয়ে নিজের পকেটের টাকায় চার বছর ধরে ছবিটি বানিয়েছেন, যারা বহুবার শুটিং মাঝপথে থেমে গিয়ে আবার নতুন করে ফান্ড জোগাড় করে কাজ শুরু করেছেন-সেই ছবির মুক্তির দিনে এমন অদৃশ্য বাধা এসে দাঁড়ানোকে টলিউডে অনেকে “চাপ” বলেই ইঙ্গিত করছেন। সেন্সর বোর্ডের সব নির্দেশ মানা হয়েছে, প্রযোজক–প্রদর্শনকারী সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে, আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন-তারপরও এই আটকে যাওয়া স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না কাউকেই।

এ নিয়ে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের কাছ থেকে। তিনি নিজের ফেসবুকে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন-কোনো সাংবাদিক ইচ্ছাকৃতভাবে রিলিজ আটকে দেওয়ার আসল কারণটাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তার প্রশ্ন-সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়া একটি সিনেমা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কোন আইনে রিলিজ বন্ধ করা যায়? কোন বাইরের সংস্থা বা ব্যক্তির চিঠি বা শর্তে প্রদর্শনী সংস্থা রিলিজ স্থগিত করতে পারে? এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সিনেমাকে আটকে দেওয়ার গাজোয়ারি ছাড়া কিছুই নয়।রুদ্রনীল স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছেন-টলিউডের ভেতরে অনেক কিছুই নিয়ম-নীতির বাইরে চলছে। যখন SRFTI–এর ছাত্রছাত্রী, নির্মাতা–শিল্পীরা নিজেদের জমানো টাকায়, বিনা পারিশ্রমিকে পরিশ্রম করে একটি সিনেমা তৈরি করেন, তখন সেই ছবিকে শেষ মুহূর্তে থামিয়ে দেওয়া শুধু অন্যায় নয়, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেওয়ার মতো ঘটনা।

তিনি সাংবাদিকদেরও প্রশ্ন করেছেন-এক পক্ষের কথা তুলে ধরে অন্য পক্ষের কষ্ট কি তারা দেখেন না? সত্য বলতে চাইলে নিরপেক্ষ ভাবে বলতে হবে, নইলে নীরব থাকাই ভালো।টলিউডের মধ্যে আগেই ফিসফাস ছিল-ছবিটি ঘিরে বিতর্ক, বোল্ড দৃশ্যের আলোচনা, সেন্সরের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে ‘দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ প্রথম দিন থেকেই বিপজ্জনক পথে হাঁটছিল। কিন্তু তবু নির্মাতারা বিশ্বাস করেছিলেন-শেষ পর্যন্ত দর্শকের সামনে দাঁড়াতে পারবেন।

আজকের রিলিজ বাতিল সেই বিশ্বাসে বড় আঘাত। চার বছরের পরিশ্রম, অসংখ্য বাধা পার হয়ে ঠিক যেদিন বড় পর্দায় উঠার কথা, ঠিক সেদিনই হলগুলো দরজা বন্ধ করে দিল-এটা কেবল প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং অদৃশ্য চাপের ইঙ্গিত।এখন টলিপাড়া একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে-চুক্তি শেষ, কাগজপত্র ঠিক, সেন্সর সনদ হাতে-তারপরও কোন শক্তি আজ ছবিটির রিলিজ রুখে দিল? প্রযোজক-পরিচালক-শিল্পীরা সবাই অপেক্ষায়, দর্শক অপেক্ষায়, কিন্তু পর্দা আজ অন্ধকারই রইল। টলিউডে এমন অদ্ভুত, বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতি অনেকদিন দেখা যায়নি।