ফারহান তানভীর :
মুম্বাইয়ের বাতাস যেন অন্যরকম এক উত্তেজনায় ভাসছিল ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায়। যেন শহরটা নিজেই অপেক্ষা করছিল বলিউডের ‘কিং’কে ঘিরে আরেকটা ইতিহাস গড়ার। দুবাইয়ে নির্মিত শাহরুখ খানের নামে আকাশছোঁয়া টাওয়ারের উদ্বোধন-এমন মুহূর্ত তো প্রতিদিন হয় না। আর এই অনন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং শাহরুখ খান, তাঁর স্বাভাবিক সৌম্যতা, হাসি আর আকর্ষণে চারপাশ মুহূর্তেই আলো ঝলমল করে ওঠে।

মাইকে দাঁড়াতেই দর্শকের গর্জন মঞ্চকে নাড়িয়ে দিল। কিন্তু ঠিক সেখানেই, ‘গ্লোবাল আইকন’ হঠাৎ যেন হয়ে গেলেন এক সাধারণ মানুষ-এক ছেলে, যে আজও তার মাকে মনে করে। কণ্ঠ নরম হয়ে গেল, চোখে ঝিলিক। তিনি বললেন, “আজ আমার মা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন।” মুহূর্তটা যেন পুরো হলকে থামিয়ে রাখল। যেসব মানুষ তাঁকে পর্দায় শক্ত, প্রাণবন্ত, রসিক রূপে দেখে অভ্যস্ত-তারা হঠাৎ এক গভীর মানবিকতা দেখল। আর সেখানেই তাঁর স্টারডমের আসল মাহাত্ম্য-উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থেকেও মাটির মানুষের মতো আবেগপ্রবণ।

তবে আবেগে ভাসতে ভাসতেই হাজির হলো সেই পরিচিত রসিকতা। হেসে বললেন, “ঈদের চাঁদের মতো আমি বাইরে কম আসি। কিন্তু যখন আসি, তখন বড় কিছু হয়।” দর্শকের হাসিতে হল গমগম করে উঠল। উপস্থিত অতিথিরাও মুহূর্তটা উপভোগ করলেন।অতিথিদের তালিকায় ছিলেন দানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রিজওয়ান সাজান। তিনি মঞ্চে উঠে বলেন, দুবাইয়ের উন্নয়নে বিনিয়োগ তাঁদের দায়িত্ব ঠিকই, তবে শাহরুখ খানের নাম এই প্রকল্পে লাগানো তাঁর স্বপ্ন ছিল। নাম রেখেছেন Sharukhz by Danube.

শাহরুখ মজার ভঙ্গিতে বলেন, “রিজওয়ান ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইভেন্ট কি দুবাইতে হবে? উনি বললেন-না, মুম্বাইতেই করব। তুমি এখানকার ছেলে, এখানে তোমাকে নিয়ে উদযাপন করতে চাই।”এরপর রিজওয়ান সাজানের ছেলে ও দানিউব গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আদেল সাজান টাওয়ারটির বিশদ তুলে ধরেন। ৫৫ তলার এই অফিস টাওয়ার যেন ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়। শুধু কাঁচ-লোহার দালান নয়-এটাকে বানানো হচ্ছে এক নতুন ল্যান্ডমার্ক। থাকবে হেলিপ্যাড, ২০২৬ সালে চালু হতে যাওয়া এয়ার ট্যাক্সি স্টেশন, আর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। প্রবেশদ্বারে থাকবে শাহরুখ খানের স্বাক্ষর-খোদাই করা ভাস্কর্য-মুম্বাইয়ের মন্নাতের সামনে যেভাবে মানুষ ছবি তোলে, সেভাবে ‘SRK টাওয়ার’কে পর্যটকদের নতুন তীর্থস্থানে পরিণত করার পরিকল্পনা তাঁদের।

উদ্বোধন শেষে আবার সাংবাদিকেরা ঘিরে ধরলেন শাহরুখকে। তিনি তখনও কোমল আবেগে ডুবে। বললেন, “আমি কী বলব? এটা সত্যিই একটা বিরাট সম্মান। যখন আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে দুবাই যাব, বলব-দেখো, পাপার বিল্ডিং। যদিও বিল্ডিংটা রিজওয়ান ভাইয়ের, কিন্তু নাম তো আমারই লেখা।”একটা শহর, একটা টাওয়ার, আর এক মানুষের অনিঃশেষ যাত্রা-মুম্বাইয়ের সেই সন্ধ্যা যেন লুকিয়ে রাখল তিনটাই। রাতে শহরটা আগের মতোই আলোতে ভরা ছিল, কিন্তু আকাশ কিছুটা উঁচু হয়ে গিয়েছিল-যেমন উঁচু হয়ে দাঁড়াল দুবাইয়ে শাহরুখ খানের নামে সেই মহাকায় টাওয়ার।