শাবনূর-মৌসুমীর সাথে দ্বন্দ্ব, একজনের কথায় ‘সিকোয়েন্স’ বাদ, কোন নায়িকাকে ইঙ্গিত করেছেন সোনিয়া?

রুপালি ডেস্ক: “নীল সাগর পাড় হয়ে তোমার কাছে এসেছি” এই গানটি মনে করিয়ে দেয় নব্বই দশকের চিত্র নায়িকা সোনিয়ার কথা। শাবনূর-মৌসুমীদের রমারমা সময়ে চলচ্চিত্রে আসা সোনিয়া স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। শোনা যায়, শাবনূর-মৌসুমীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল সোনিয়ার? আসলেও কি তাই?

সোনিয়ার আসল নাম রোকসানা হাসি সোনিয়া। নব্বই দশকে বেশ কিছু ছবিতে একক নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এটা সত্যি যে নিজেকে খুব একটা লাইমলাইটে আসতে পারেননি সোনিয়া।

সেই সময় শাবনাজ-মৌসুমী-শাবনূররা বলতে গেলে বাংলা চলচ্চিত্রে ‘রাজ’ করছিলেন। তাদেরকে টপকে খুব বেশি চলচ্চিত্রে একক নায়িকা হওয়ার সুযোগ পাননি সোনিয়া। বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে তাকে পাশ্বচরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ছিল ‘স্বপ্নের ঠিকানা”। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল এই সিনেমাটি সালমান শাহ-শাবনূরের জন্যই বিখ্যাত। তবে পাশ্বচরিত্রে সোনিয়াও দুর্দান্ত অভিনয় করেন।

স্বপ্নের ঠিকানার সালমান শাহর সঙ্গে সেই বিখ্যাত গানটি সোনিয়াকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সালমান শাহ পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন আর হাসি হয়ে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন সোনিয়া। রুপালি পর্দার জীবন সাঙ্গ করে সংসারজীবনে মন দিয়েছেন সোনিয়া। চলচ্চিত্রের লোকজনের সঙ্গে তার খুব একটা যোগাযোগ নেই। সুদীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন ইংল্যান্ডে।

সোনিয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯১ সালে ‘মাস্তান রাজা’ছবির মাধ্যমে। এরপর নায়ক রাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় বাপ্পারাজের বিপরীতে ‘প্রেম শক্তি’ সিনেমায় প্রথম নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন। সোনিয়া সর্বশেষ অভিনয় করেন দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত ‘শুভ বিবাহ’ছবিতে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা চড়াই উতরাই পার করতে হয়েছে সোনিয়াকে। প্রয়াত নায়ক মান্না মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে কেউ কারও বন্ধু হয় না। এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্রের বন্ধু  প্রসঙ্গে সোনিয়া বলেন,“ অপ্রিয় হলেও কথাটা অনেকটাই সত্য। বলতে কষ্ট হলেও আমারও সেই অর্থে কোনো বন্ধু ইন্ডাস্ট্রিতে নেই। কাজের সূত্রে কারো কারো বাসায় যাওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কারো বাসায় যাওয়া, আড্ডা দেওয়া কখনো হয়নি। যদিও কারো সঙ্গেই আমার সম্পর্ক খারাপ নয়।”

শোনা যায়, শাবনূর মৌসুমীর সঙ্গে সোনিয়ার দ্বন্দ্ব ছিল। আজ এত বছর পর এসে বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া বলেন,“ আমরা একই সময় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। অনেক সময় হয়তো খবর বেরিয়েছে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে আমাদের হয়তো কাজের বিষয়ে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না। শাবনূরের সঙ্গে একটা দৃশ্য নিয়ে অন্যের এক কমেন্টসে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আর মৌসুমীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল না, একবার সানি ভাইয়ের সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল।”

ক্যারিয়ারে নানা প্রতিকুলতা পার করতে হয়েছে সোনিয়াকে। সে সময় খুব একটা সাপোর্ট পাননি সোনিয়া। তিনি বলেন,“ অনেক বাঁধা পেরিয়েই কাজ করতাম। এমনও হয়েছে যে কোনো একজন নায়িকার কথায় আমার একটি সিকোয়েন্স কেটে ফেলা হয়েছে। কীভাবে পরিচালক, সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলতে হয় সেই বিষয়গুলোই বুঝতাম না। যে কারণে মিডিয়া কাভারেজ সেভাবে পেতাম না। এমনকি ফিল্মের একজন সাংবাদিক দিয়ে কিছু মিথ্যা নিউজ করে আমার জীবনটাই শেষ করে দিয়েছে। কিছু লোক কখনোই আমার ভালো চাইতেন না। তখন আমার মনে হতো যেহেতু পলিটিক্স বুঝি না, সেহেতু এই মিডিয়া আমার জন্য না।

সালমান শাহ সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন সোনিয়া। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন,“ সালমান শাহ’র সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। তখন আমার বা সালমানের কারো গাড়ি ছিল না। সালমান ইউনিটের গাড়ি নিয়ে আমার বাসার সামনে আসতো, তারপর আমরা একসঙ্গে শুটিং সেটে যেতাম। অনেক আড্ডা দিতাম, মজা করে শুটিং করতাম। দর্শকরাও আমাদের জুটিকে ভালোবেসেই গ্রহণ করেছিলেন। একটা সময় শুনেছিলাম সালমান ও আমাকে নিয়ে বেশকিছু ছবির পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু পরে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। আসলে অনেকেই আমার ভালো চায়নি।”

সোনিয়ার ভালো অনেকেই চায়নি-একথাটি হয়তো সত্যি! সে সময় অনেক ছবিতেই তাকে দেখা গিয়েছে স্যাক্রিফাইস চরিত্রে অভিনয় করতে। কিন্তু সোনিয়ার জন্য কেউ স্যাক্রিফাইস করেননি। সোনিয়া সবার সাপোর্ট পেলে হয়তো চলচ্চিত্রে আরও বেশিদিন অভিনয় করতে পারতেন। আপনার কি মনে হয়?

Leave a Comment