ফারহান তানভীর :
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড শাসন করছেন শাহরুখ খান। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে শুরু করে ‘পাঠান’ আর ‘জওয়ান’-প্রতিটি যুগেই তিনি বক্স অফিসে রাজত্ব করেছেন। কোটি দর্শকের ভালোবাসা আর অগণিত সিনেমার সাফল্য তাঁকে কেবল জনপ্রিয় নায়কই বানায়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে গড়ে তুলেছে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের ফলশ্রুতিতেই এবার প্রথমবারের মতো তিনি প্রবেশ করেছেন বিলিয়নিয়ার ক্লাবে।

২০২৫ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে শাহরুখ খানের নাম উঠে এসেছে ভারতের সবচেয়ে ধনী চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী এই অভিনেতার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তালিকায় প্রথমবার জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি, তখন তাঁর সম্পদ ছিল ৭ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ, যা ভারতীয় বিনোদন জগতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শুধু অভিনয় দিয়েই নয়, শাহরুখের এই বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে বহুমুখী ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট এখন বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী প্রযোজনা সংস্থা, যার ভিএফএক্স ইউনিটও আন্তর্জাতিক মানে সমাদৃত। এর পাশাপাশি তিনি আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক, যা আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। চলচ্চিত্রের আয়, প্রযোজনার মুনাফা, খেলাধুলার বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞাপনচিত্রের মোটা অঙ্কের চুক্তি মিলেই শাহরুখকে নিয়ে গেছে ধনকুবেরদের তালিকার একেবারে শীর্ষে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন জুহি চাওলা ও তাঁর পরিবার, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি। তৃতীয় স্থানে হৃতিক রোশন ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি সম্পদ নিয়ে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছেন করণ জোহর এবং অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু সবার উপরে শাহরুখ খান, যিনি শুধু ধনীতম তারকাই নন, বরং একমাত্র বলিউড অভিনেতা যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলিয়নিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেছেন।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’ সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে। ভারতের বক্স অফিসেই এই ছবির আয় ছিল এক হাজার কোটি রুপি। সেই ছবির জন্য এ বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যৌথভাবে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় পুরস্কার। অভিনয় ও বাণিজ্যের এই দ্বিমুখী সাফল্য তাঁকে সমসাময়িক অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শাহরুখ খানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৩৯ লাখ, আর ইনস্টাগ্রামে ৪ কোটি ৮৬ লাখ। বিশ্বব্যাপী এই ভক্ত-অনুরাগীরা কেবল তাঁর সিনেমার দর্শকই নন, তাঁর ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও ব্র্যান্ড ভ্যালুরও মূল চালিকাশক্তি।

একসময় দিল্লির সাধারণ পরিবারের ছেলে হিসেবে সিনেমায় পা রাখা শাহরুখ খান আজ ভারতের প্রথম বিলিয়নিয়ার তারকা। বলিউডের বাদশা থেকে তিনি এখন ধনকুবেরদেরও বাদশা। তাঁর এই উত্থান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং প্রমাণ করে যে সঠিক সময়ের বিনিয়োগ, কৌশলগত ব্যবসায়িক দৃষ্টি আর ভক্তদের ভালোবাসা-সব মিলিয়েই একজন অভিনেতাকে পরিণত করতে পারে আন্তর্জাতিক মানের বিলিয়নিয়ারে।