ফারহান তানভীর :
রনবীর সিং অভিনীত “ধুরন্ধর” অল টাইম ব্লকবাস্টার হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের একটাই কৌতুহল ছিল-কবে আসবে ধুরন্ধর-২? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পরিচালক আদিত্য ধর খুব বেশি সময় নেননি। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ‘ধুরন্ধর-২: দ্যা রিভেঞ্জ’ নিয়ে হাজির হন তিনি,যা মুক্তি পেয়েছে গত ১৯ মার্চ। প্রথম কিস্তিতে আশাতীত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় কিস্তি ঘিরে দর্শকদের মাঝে যে কৌতুহল তৈরি হয়েছিল, মুক্তির পর তা যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হোক কিংবা কর্মদিবস-সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের অস্বাভাবিক ভিড় লেগেই আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেগুলোতেও চলছে তীব্র আলোচনা। সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর-২’ বর্তমানে এক প্রকার উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বক্স অফিসের দিকে তাকালেও অবশ্য সেই একই কথা মাথায় আসে। মুক্তির মাত্র ৭ দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০৬৭ কোটি রুপি আয় করে সিনেমাটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছে। দ্রুততম সময়ে হাজার কোটির ঘরে প্রবেশ করা সিনেমাগুলোর তালিকায় এটি এখন অন্যতম আলোচিত নাম। যেখানে শাহরুখ খানের ‘জাওয়ান’ এই মাইলফলকে পৌঁছাতে সময় নিয়েছিল ১৮ দিন, ‘আরআরআর’ ১৭ দিন, ‘কেজিএফ’ ১৬ দিন, ‘বাহুবলি-২’ ১০ দিন এবং ‘পুষ্পা-২’ ৭ দিন-সেখানে ‘ধুরন্ধর-২’ একই গতিতে এগিয়ে গিয়ে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দর্শকদের উন্মাদনা দেখে অনেক সমালোচকই ধারণা করছেন, খুব শিগগিরই দুই হাজার কোটির ঘরও ছুঁয়ে ফেলতে পারে সিনেমাটি।

তবে এই নজিরবিহীন সাফল্যের মাঝেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির একটি ভিডিও। সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণের জন্য সুপরিচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৩০ মিলিয়নেরও বেশি আর তার প্রতিটি ভিডিওই সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মাঝে।২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ধ্রুব রাঠি ‘ধুরন্ধর-২’ নিয়ে নিজের সেই চ্যানেলে একটি বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রকাশের মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি প্রায় ৩০ লাখ ভিউ ছাড়িয়ে যায় এবং ৩৩ হাজারেরও বেশি মন্তব্য আসে তাতে। ভারতের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মুভি রিলেটেড পেজ ও গ্রুপেও ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনা করা হয় এবং পরিচালক আদিত্য ধরকে নিয়ে বিভিন্ন মিমস তৈরিও শুরু হয়।

ভিডিওটিতে ধ্রুব রাঠি দাবি করেন, ‘ধুরন্ধর-২’ আসলে একটি সাধারণ বিনোদনমূলক সিনেমা নয় বরং এটি বিজেপি কর্তৃক একটি উচ্চ বাজেটের রাজনৈতিক প্রচারণা। তার মতে, সিনেমাটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কীভাবে সিনেমাটিতে সাধারণ আবেগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু কমিউনিটির বিরুদ্ধে দর্শকদের মনোভাব কুলশিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং কীভাবে ভিলেন চরিত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করা হয়েছে,তার সবই তিনি তার ভিডিওতে ব্যাখা করে দেখান।
সিনেমাটিতে যেভাবে একটি সন্ত্রাসবিরোধী সফল পদক্ষেপ দেখানো হয়েছে, তার বিপরীতে তিনি আরবিআই-এর বিভিন্ন রিপোর্ট এবং তথ্য উপস্থাপন করে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেন যে সিনেমাটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে যেগুলো দেখালে পুরো সিনেমার গল্পই পালটে যেত। সেখানে উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাকিস্তান সফর এবং পরবর্তী পাঠানকোট হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

ভিডিওটির শেষে ধ্রুব রাঠি ‘গ্যাসলাইটিং’ শব্দটি ব্যবহার করে বলেন, সিনেমাটি দ্বারা দর্শকদের এমনভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে তারা বাস্তব ঘটনাগুলো ভুলে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট গল্পকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। দর্শকদের একটি বড় অংশও তার এই বিশ্লেষণের সাথে একমত পোষণ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পুরো ভিডিওতে এমন কোনো অংশ নেই যা তাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে বরং প্রতিটি পয়েন্টই যথেষ্ট তথ্যনির্ভর এবং যুক্তিসঙ্গত।
সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর-২’ যেখানে বক্স অফিসে পূর্বের সকল সিনেমার রেকর্ড ভাঙার পথে এগিয়ে যাচ্ছে,সেখানে ধ্রুব রাঠির ভিডিওটি যেন স্পিড ব্রেকার হিসেবে কাজ শুরু করেছে । এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত সিনেমার সাফল্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।