কেমন আছেন এখন জসিমের স্ত্রী নাসরিন?

ফারহান তানভীর :

প্রয়াত চিত্রনায়ক জসিমের স্ত্রী নাসরিন এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন নিজের বর্তমান জীবনের বাস্তবতা, হারানোর বেদনা আর স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা দিনগুলোর কথা। গত বছর মেজো ছেলে রাতুলকে হারিয়ে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। খুব অল্প বয়সে সন্তানের মৃত্যু-এই সত্যটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নাসরিন। কথা বলতে বলতে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন, কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছিল।

নায়ক জসিমের স্ত্রী নাসরিন – ইউটিউব

রাতুলকে তিনি ডাকতেন ‘জিনিয়াস’ বলে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাসরিন বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতুল এসে তার বিছানায় শুয়ে পড়ত। ফোনে ব্যান্ডের নানা ছবি দেখাত, নতুন নতুন গানের সরঞ্জাম দেখিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করত। ছোটবেলা থেকেই রাতুল মায়ের সঙ্গেই বেশি থাকত। তাই মা হিসেবে নিজের অজান্তেই বাকি দুই ছেলে রাহুল ও সামির তুলনায় রাতুলের প্রতি তার টানটা ছিল একটু বেশি। সুদর্শন চেহারার কারণে পরিচালকরা রাতুলকে সিনেমার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু নাচ-গান না জানার কারণে সে কখনোই অভিনয়ে আসেনি।এইসব কথা বলতে বলতেই নাসরিনের কণ্ঠ ভেঙে যায়। তিনি বলেন, “আমার এখনো মনে হয়, একদিন হঠাৎ এসে বলবে-মা, আমি আছি।” এই বিশ্বাসটাই হয়তো তাকে প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখছে।

জসিম ও নাসরিনের মেজো ছেলে প্রয়াত এ কে রাতুল – বাংলাবাজ

জসিমকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাসরিন জানান, তাদের পরিচয় হয়েছিল ‘লোভ লালসা’ সিনেমার শুটিংয়ে। বিয়ের পর নাসরিন কেন সিনেমায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন-এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জসিম কখনোই তাকে কাজ ছাড়তে বলেননি। বরং মাতৃত্বের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করতে চেয়েই তিনি নিজে থেকে কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন।স্বামী হিসেবে জসিম কেমন ছিলেন-এই প্রশ্নে নাসরিন বলেন, “ওর মতো মানুষ হয় না। একজন স্বামী হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে-ও ছিল বেস্ট।” জসিমের মৃত্যুর পর যেন স্ত্রী ও সন্তানরা কষ্টে না থাকেন, সেই চিন্তা থেকেই তিনি তাদের জন্য সঞ্চয় রেখে গিয়েছিলেন। নাসরিন জানান, সেই সঞ্চয়ের কারণেই তারা এখনো কোনোমতে টিকে আছেন।

গানের দৃশ্যে জসিম ও নাসরিন – ইউটিউব

শাবানার সঙ্গে জসিমের অসংখ্য সিনেমা থাকলেও কখনোই তাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো ভয় বা সংশয় ছিল না নাসরিনের। কারণ, শাবানা সবসময় জসিমকে ভাইয়ের মতো দেখতেন। শাবানা ও জসিম-নাসরিনের সম্পর্ক ছিল একেবারেই পারিবারিক।একদিন নাসরিন জসিমকে বলেছিলেন, গরিব-মধ্যবিত্ত মানুষ তোমাকে এত ভালোবাসে কারণ তুমি পর্দায় গরিব মানুষের চরিত্রটাই বেশি করে তুলে ধরো। এই কথার সত্যতা তিনি সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেন জসিমের মৃত্যুর পর। জানাজার দিন থেকে দেখেছেন-একজন ট্রাক ড্রাইভার নিয়মিত জসিমের কবরের সামনে গিয়ে কাঁদছে। সেই দৃশ্য আজও তাকে নাড়িয়ে দেয়।কোনো অভিযোগ না রেখে, কোনো অভিমান না পুষে রেখে নাসরিন সবার উদ্দেশ্যে একটাই অনুরোধ করেন-“আপনারা জসিমকে ভুলে যাইয়েন না। তাকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন।”