কেন খোলামেলা হয়েছিলেন ময়ূরী, বর্তমানে আমেরিকায় কি করছেন?

রুপালি ডেস্ক: আমেরিকার আলোঝলমলে এক শহরে মিশে আছে এমন এক মুখ যিনি বাংলাদেশের রুপালী পর্দায় সবচেয়ে বড় কন্ট্রোভার্সি। একটা নাম, যা নব্বই দশকের শেষভাগে কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি…নাম তার ময়ূরী।

বাংলাদেশের সিনেমার পর্দাজুড়ে তখন অদ্ভুত এক আঁধার। একদিকে সুস্থধারার ছবির ভগ্নদশা, অন্যদিকে অশ্লীল ছবির চাহিদা হু হু করে বাড়ছে! চলচ্চিত্রের অস্থির সময়ে সবচেয়ে বেশি ডিমান্ডফুল হিরোইন ছিলেন ময়ূরী। তাকে ঘিরে একদিকে দর্শকের কৌতুহল, অন্যদিকে সমাজের তথাকথিত ভদ্রতার মুখোশ।  
লোকে বলে ‘অশ্লীল যুগ’। নাকি এটা ছিল এক অন্ধকার বিজনেস মডেল? যেখানে ময়ূরীর মতো নায়িকাদের ব্যবহার করা হতো সিনেমা হিট করানোর এক অস্ত্র হিসেবে।

মোটা অংকের লাভের দিকে ঝুঁকে থাকা প্রযোজকরা জানতেন, দর্শক কী চায়? আর সেই চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে ময়ূরী হয়ে উঠেছিলেন সবচেয়ে বড় ‘প্রোডাক্ট’। আজকের সুপারস্টার শাকিব খানও তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে ময়ূরীর সাথে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন।
তবে প্রত্যেক ঝড়েরই একটা শেষ থাকে। যখন ঢালিউডে পরিবর্তনের হাওয়া লাগল…একসময় সিস্টেম যাদেরকে প্রাধান্য দিয়েছিল, সেই সিস্টেমই তাদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। ময়ূরী হারিয়ে গেলেন, আর ফিরলেন না! মাঝখানে একবার শোনা গিয়েছিল, তিনি নিজের বায়োপিক বানাবেন, যেখানে ময়ূরী নাকি সব ফাঁস করে দেবেন। কিন্তু সেই প্রজেক্ট আলোর মুখ দেখেনি।

দেশ ছেড়ে, সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ময়ূরী এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সাথে দুই সন্তান, মা আর ভাই। ভেবে দেখুন একবার-যে নায়িকাকে এক ঝলক দেখতে হলের বাইরে তুলকালাম হতো, তিনি হয়তো আপনার পাশের কোনো ডানকিন ডোনাটসে কফি পান করতে গিয়েছেন বা কোনো রাস্তায় ছেলে মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে  আছেন। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি একটিভ থাকেন ময়ুরী। তবে সেখানে কোনো স্টারডম নেই, আছে শুধু একজন মা, একজন সাধারণ নারী। যিনি অতীতকে একটা সিন্দুকে তালা দিয়ে বর্তমান নিয়ে জীবনযাপন করার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের মতো আমেরিকায় ময়ূরীকে কেউ সেভাবে চেনে না। আর দশটা নারীর মতো তিনিও সেখানে বাস করছেন। ময়ুরী ছাড়া আরও অনেক বাংলাদেশী তারকা আমেরিকায় নিবাস গড়েছেন।

অতীত অন্ধকারকে পেছনে ফেলে ময়ুরী ছেলে মেয়ে ও মাকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনই বেছে নিয়েছেন। মন চাইলেই ঘুরতে বেরোচ্ছেন কিংবা  আমেরিকার কোনো বাঙালী হোটেলে খাবার খেতে চলে যাচ্ছেন দূরে কোথায়ও। আর এসবই তিনি শেয়ার করছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভিডিও করে।

আর সবার মতো এক সময়কার তুমুল ব্যস্ত নায়িকা ময়ূরীও বুঝে গিয়েছেন আমেরিকায় শুধু বসে থাকলে চলবে না কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমেরিকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অনেক বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। ময়ুরীও সেই পথই বেছে নিয়েছেন। কোথায়ও বের হলেই সেটার ভিডিও বানিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে পাবলিশ করছেন। তার বেশিরভাগ ভিডিওই পারিবারিক আবহে তৈরি করা। যেখানে মা-মেয়ে কিংবা মা-ছেলের নানানরকম দুষ্টমিও জায়গা করে নিচ্ছে। এক সময় যাকে দেখার জন্য হলে লাইন লেগে থাকতো এখন মোবাইল অন করলেই তিনি স্ক্রিনে ভেসে আসছেন।

তবে এটা ঠিক যে ময়ূরীর অভিনয় স্কিলকে খুব কম পরিচালকই কাজে লাগিয়েছেন। তিনি যে অভিনয়েও দক্ষ ছিলেন বেশ কয়েকটি সিনেমায় তার প্রমাণও দিয়েছেন। কিন্তু পরিচালক-প্রযোজকরা ময়ূরীকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। যে কারণে দর্শকরাও তাকে সেভাগে গ্রহণ করেছেন। ময়ূরীর একটা গানের দৃশ্য দেখতে এক সিনেমা বারবার দেখতে হলে ছুটে গিয়েছেন দর্শক। যা ওই সিনেমার কাটতি বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এসব খবর যখন পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে যেত তারা আরও অধিক মুনাফার আশায় ময়ূরীকে আরও খোলামেলাভাবে পর্দায় উপস্থাপন করেছেন।  
ময়ূরী শুধু একজন বিতর্কিত নায়িকা নন, তিনি ৯০ দশকের শেষ ভাগের সেই অন্ধকার সময়টার জীবন্ত আর্কাইভ। ময়ূরী কি একজন ভিকটিম? সিস্টেমের কারণে কি বাধ্য হয়েছেন খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করতে?

Leave a Comment