রাফসান হক :
অভিজ্ঞ বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় মিশ্রর জীবন যেন এক সিনেমার গল্প। কখনো অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেয়ে ছোট্ট ধাবায় কাপ ধোয়ার কাজ করেছেন, আবার আজ তিনি মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার সমুদ্রসংলগ্ন ফ্ল্যাটের মালিক। সম্প্রতি তিনি মাদ আইল্যান্ডের রাহেজা এক্সোটিকা সাইপ্রাস টাওয়ারে প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন ৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে। স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি মিলিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকা গুনতে হয়েছে তাঁকে।

এ এলাকায় আর্চনা পুরান সিং, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, কার্তিক আরিয়ান, আয়ুষ্মান খুরানা থেকে শুরু করে গায়ক জুবিন নটিয়াল পর্যন্ত অনেক তারকার বসতি রয়েছে।বিহারে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় মিশ্র প্রথম আলোচনায় আসেন টিভি সিরিয়াল চাণক্য ও জনপ্রিয় সিটকম অফিস অফিস-এর মাধ্যমে। পরে রোহিত শেঠির গোলমাল আর ইন্দর কুমারের ধামাল তাঁকে বলিউডে শক্ত অবস্থান এনে দেয়। এরপর অল দ্য বেস্ট আর ফাঁস গ্যায়ে রে ওবামাতে দর্শকপ্রিয়তা পান। ২০১৪ সালে আঁখোঁ দেখি ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারের সমালোচক পুরস্কার এবং সাম্প্রতিক বধ ছবির জন্য আবারো একই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে সাফল্যের এই যাত্রা সহজ ছিল না। ২০০৯ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দীর্ঘদিন কাটাতে হয় তাঁকে। চিকিৎসকেরা তাঁর পেট থেকে প্রায় ১৫ লিটার পুঁজ বের করেন। সেই সময়ই বাবাকে হারান তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সব ছেড়ে চলে যান ঋষিকেশে। গঙ্গার তীরে দিন কাটত নির্জনে; কখনো ধাবায় চা-নুডলস বানাতেন, দিনে ১৫০ রুপি মজুরিতে কাপ ধুতেন। সেখান থেকেই পরিবার তাঁকে ফিরিয়ে আনে। ঠিক তখনই পরিচালক রোহিত শেঠির ফোন বদলে দেয় ভাগ্য-অল দ্য বেস্ট ছবির প্রস্তাব পান তিনি। ছবির সংলাপ “ধোন্ডু… জাস্ট চিল” হয়ে ওঠে জনপ্রিয়, আর তাঁর ক্যারিয়ার পায় নতুন গতি।
বর্তমানে সঞ্জয় মিশ্রর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি রুপি। লোনাভালায় তাঁর অর্গানিক ফার্মহাউস ও নিজস্ব শিবমন্দির রয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহও আছে তাঁর কাছে। তবে অর্থ-সম্পদ নিয়েও তিনি নিজেকে ফকির ভাবেন। অবসরে লোনাভালার ফার্মহাউসে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন, জীবন নিয়ে ভাবেন। তাঁর প্রিয় শহর বেনারস-সেখানকার গলি, ঘাট আর সংগীতে তিনি খুঁজে পান নিজের সত্তা।

নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে সঞ্জয় বলেন, “অভিনয় আমার পেশা নয়, আমার জীবন। অর্থ চাই, তবে শুধু চিকিৎসা আর পরিবারের সুখের জন্য। সকালে ঘুম ভেঙে ভালো পরিবেশে প্রিয়জনদের সঙ্গে ভালো খাবার খেতে পারাটাই আসল আনন্দ।” স্ত্রী কিরণ সংসারের অর্থনৈতিক দিক সামলান, আর দুই মেয়ে পাল ও লামহার জন্য রেখেছেন আলাদা ধরণের নাম-যাতে ভিড়ের মাঝে তারাও আলাদা হয়ে থাকে।