রাফসান হক :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে একই মঞ্চে দেখা গেল শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খানকে। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত “জয় ফোরাম-২০২৫”-এর মঞ্চে এই তিন কিংবদন্তির উপস্থিতি যেন মুহূর্তেই বদলে দিল বাতাসের রঙ। দর্শকসারিতে হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন, কেউ কেউ মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করছিলেন-যেন বলিউডের সোনালি যুগ ফিরে এসেছে। তিন দশক ধরে ভারতীয় সিনেমাকে শাসন করা এই তিন তারকা শেষবার একসাথে দেখা গিয়েছিলেন আম্বানির ছেলের বিয়েতে। সেই মুহূর্তের পর বহু সময় কেটে গেছে, কিন্তু এই পুনর্মিলন যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল।ইভেন্টে তিনজনের মধ্যে চলল হাসি-মজার ফোয়ারা, স্মৃতিচারণ আর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার ঝলক।

সালমান খান হঠাৎ মঞ্চে বসেই বলে উঠলেন-“আমি চাই, আরিয়ান (শাহরুখ খানের ছেলে)একদিন ক্যামেরার সামনে আসুক এবং নিজের বাবাকেও ছাড়িয়ে যাক। আর একসময় শাহরুখ খানই এমনটা দেখে খুশি হবেন।” এই কথায় হাসিতে ভরে যায় পুরো হল। দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন, আর শাহরুখ খান মৃদু হেসে সালমানের দিকে তাকান। মুহূর্তটা যেন বন্ধুত্বের এক জীবন্ত প্রতীক।এরপর শাহরুখ খান পাল্টা বলেন, “যদি সালমান খানের একটা ছেলে থাকত, আমি চাইতাম সে যেন মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার হয়।” কথাটা শেষ হতেই উপস্থিত সবাই হাততালি আর শিসে ভরিয়ে দেন পুরো হল। দুই তারকার এই সংলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে। নেটিজেনরা বলছেন-‘এটাই সেই বলিউড, যা একসময় শুধু প্রতিযোগিতায় নয়, ভালোবাসাতেও একতাবদ্ধ ছিল।’এ সময় পাশে বসে থাকা আমির খানও মুচকি হেসে যোগ দেন আলোচনায়।

মাঝে সালমান খান অকপটে বলে বসেন,”আমি আর আমির দুজনই ফিল্ম ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিবার থেকে এসেছি।কিন্তু শাহরুখ নিজের অবস্থান নিজে বানিয়ে নিয়েছে।”শাহরুখও তা শুনে চুপ করে থাকেননি।উত্তরে বলেন,”আমিও ফিল্মি ফ্যামিলি থেকেই এসেছি,সালমানের পরিবারই আমার পরিবার।”শাহরুখের এই কথা শুনে আমির বলেন,”এই জন্যই শাহরুখ সুপারস্টার।” তিনজনের চোখে-মুখে যেন দেখা যাচ্ছিল সেই পুরনো দিনের নস্টালজিয়া-যে সময় তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও একে অপরের সাফল্যে গর্ব করতেন।

শাহরুখ খান আরও বলেন, “আমাদের তিনজন যদি কোনো প্রজেক্টে একসাথে থাকি, সেটাই হবে এক স্বপ্নের মতো বিষয়। ইনশাআল্লাহ, সুযোগ পেলেই আমরা একসাথে কাজ করব।” এই এক লাইনই যেন কোটি ভক্তের মনে নতুন আশার স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেয়-তিন খান কি তবে একসাথে কোনো সিনেমায় আসছেন?রিয়াদের সেই সন্ধ্যায় তিনজনের আচরণে কোনো তারকাসুলভ দূরত্ব ছিল না। শাহরুখ খান পরেছেন কালো পোশাক ও সানগ্লাস, সালমান খান নীল ব্লেজারে আগের মতোই অনাড়ম্বর, আর আমির খান তাঁর সিগনেচার সরল লুকে। কিন্তু পোশাকের বাইরেও সবচেয়ে বড় দৃশ্য ছিল তিনজনের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। দীর্ঘদিনের বিরতি পেরিয়ে এমন হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুত্বের মুহূর্ত দেখার সৌভাগ্য ভক্তদের বারবার মুগ্ধ করেছে।
ইভেন্ট শেষে সেই ছবি ও সংলাপগুলো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শাহরুখের “যদি সালমান খানের একটা ছেলে থাকত…” উক্তিটি যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনি সালমানের আরিয়ানকে নিয়ে করা কথাটিও ছুঁয়ে গেছে কোটি হৃদয়। ভক্তদের কেউ লিখেছেন, “তিন খানের একসাথে থাকা মানেই আমাদের শৈশব ফিরে আসা।” আবার কেউ বলছেন, “ওরা যখন মঞ্চে একসাথে, তখন সেটা শুধু ইভেন্ট নয়, ইতিহাস।”

বলিউডের এই তিন তারকা বহু বছর ধরে দর্শকের কাছে শুধু অভিনেতা নন, একেকজন অনুভূতির নাম। তাই রিয়াদের সেই মঞ্চে তাদের একসাথে দেখা মানেই যেন ভারতীয় সিনেমার ঐক্যের প্রতীক। জয় ফোরাম ২০২৫-এর আলো নিভে গেলেও, শাহরুখ, সালমান আর আমিরের এই পুনর্মিলনের উজ্জ্বলতা হয়তো অনেকদিন ভক্তদের হৃদয়ে জ্বলবে-এক ফ্রেমে তিন কিংবদন্তি, এক ইতিহাস, এক অমর আবেগ।