শোবিজের সহকর্মীদের বাহিরে ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির স্মৃতিতেও প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়…

ফারহান তানভীর :

রাহুল অরুণোদয়ের অকল্পনীয় আচমকা মৃত্যু যেন শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয় বরং একসঙ্গে বহু সম্পর্ক, স্মৃতি আর অসমাপ্ত গল্পের থেমে যাওয়া। রাহুলের মৃত্যুর খবরটা শুনে প্রথমে অনেকের কাছেই হয়তো অবিশ্বাস্য লেগেছিল। কেউ ভেবেছিল রসিকতা, কেউ ধরেই নিয়েছিল ভুল তথ্য-কিন্তু খুব দ্রুতই সবাই জানতে পারে রাহুল আসলেই আর নেই। তারপর থেকেই সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মৃতিতে ধীরে ধীরে ভেসে উঠতে শুরু করে রাহুল।

অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট দিয়েই শুরু করা যাক রাহুলের স্মৃতিচারণ। তার পোস্ট অনুযায়ী,রাহুলের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ২০০৮ সালের এক বিকেল, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ মুক্তির আগমুহূর্ত। এক তরুণ এসে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বলছে, “দাদা আমি অরুণোদয়।” টোটার কথায়, প্রথম দেখাতেই তার সেই সরলতা মন জয় করেছিল। পরে কাজের সূত্রে, আড্ডায়, শুটিংয়ে-বারবারই সামনে এসেছে সেই একই মানুষ। দার্জিলিংয়ের শুটিংয়ের সময় তো রাহুল ছিল পুরো টিমের প্রাণকেন্দ্র। আড্ডা, হাসি, মজা-সবকিছুর মাঝেও সে ছিল একেবারে আপন। এমনকি গম্ভীর সৃজিত মুখার্জিকেও ডেকে বলেছিল, “ওয়েলকাম টু নরক গুলজার।”শেষে আফসোস করে টোটা বলেছেন,দ্রুতই চলে গেলে ভাই।

টোটা রয়ের তুলনায় রুদ্রনীল ঘোষের শোকবার্তা বেশ ছোট হলেও তার ভেতরে জমে আছে অনেক না-বলা কথা। তিনি প্রথম পোস্টে লিখেছিলেন- “আর কেউ সহজ করে ‘সহজ কথা’ বলবে না।” রাহুলের ছেলে সহজের নামে রাখা সহজ কথা পডকাস্টে বসে রাহুলের সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলেন রুদ্রনীল আর সেই ছবির সাথেই লিখেছিলেন এই ক্যাপশন। পরবর্তীতে আরেকটি পোস্টে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর স্মৃতি টেনে তিনি লিখেছেন, “চিরদিনই তোকে খোঁজে টাইমলাইন,তবু হাত ছেড়ে চলে যায় লাইফলাইন। ” তাদের বন্ধুত্বটা পর্দার বাইরেও যে কতটা সত্যি ছিল, সেটা এই কথাগুলোতেই স্পষ্ট।

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জিও লিখেছেন অনেক বড় একটি পোস্ট,যা ছিল আক্ষেপ আর আফসোসেই ভরা। একসাথে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও কপালে সহায় হলোনা।আবার সহজ কথা পডকাস্টেও যাওয়ার কথা ছিল স্বস্তিকার।সেটাও আর হয়ে উঠলোনা। আবার বারবার দেখা করার পরিকল্পনা করেও না হওয়া, ফোনে কথা শেষ না করতে পারা-এই আক্ষেপগুলো নিয়েই রাহুলের প্রতি অভিযোগ জানায় স্বস্তিকা।

অন্যদিকে অভিনেতা দেব ফিরে গিয়েছিলেন সেই প্রথম সিনেমার কথাতেই। তিনি বলেন-“রাহুলের প্রথম সিনেমাতে আমি একটা আইটেম গান করেছিলাম, নাম ছিল প্যান্টে তালি। ওর ওই সিনেমাটা যেমন হিট হয়েছিল, গানটাও তেমন হিট ছিল। একসাথে শপিংয়েও গিয়েছিলাম তখন। মিস করবো ওকে।”

রাহুলকে হারানোর এই শোকের ছায়া যে শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরকেই শোকাহত করেছে তা নয়।অভিনয়ের গন্ডি পেরিয়ে ক্রিকেটেও দেখা গেছে রাহুলকে হারানোর শোক। ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি এক ভিডিওতে বলেছিলেন-“রাহুল আমার খুব কাছের ছিল।দাদাগিরির বাহিরেও ওর সাথে আমার অনেক আড্ডা হয়েছে।কেন যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পানিতে নামে,আমি বুঝিনা!”

রাহুলের শেষ বিদায়েও তার বাড়িতে উপস্থিত ছিল প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সহ অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী।চলে গিয়েছেন রাহুল কিন্তু দাগ রেখে গেছেন সবার মনেই।