ফারহান তানভীর :
ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খানের বহুল কাঙ্ক্ষিত ঈদের ছবি ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপওন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ মুক্তির আগেই যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল, তাতে অনেকেই এই সিনেমাকে শাকিবের ক্যারিয়ারের আরেকটি “ব্লকবাস্টার” হবে বলে ভেবেছিলেন। প্রায় ১৩০টির মতো হলে মুক্তির পরিকল্পনা, বড় পরিসরের প্রচারণা এবং একটি আন্ডারওয়ার্ল্ড গল্প-সব মিলিয়ে সিনেমাটি শুরু থেকেই ছিল বড় কিছুর ইঙ্গিতবাহী । কিন্তু মুক্তির পর বাস্তবতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে একদমই মিলেনি এবং এবার সেই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন শাকিব খান নিজেই।

‘
প্রিন্স’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ, যিনি একইসঙ্গে গল্প ও স্ক্রিপ্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সিনেমাটির গল্প ৯০ দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে,যেখানে ক্ষমতা, সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই ধরনের গল্প সাধারণত যেকোনো বয়সের দর্শকদের মধ্যে এমনিতেই আলাদা এক উত্তেজনা তৈরি করে,সেখানে মূল চরিত্রে যখন শাকিব খানের মতো তারকা থাকেন তখন তো আকাশচুম্বী আশা থাকবেই। শাকিব শুধু একাই নন,কাস্টিংয়ে তার সঙ্গে ছিলেন তাসনিয়া ফারিন, রিঙ্কু দাস, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যসহ আরও বেশ কয়েকজন দেশী ও ভারতীয় অভিনেতা।

এই ঈদে বাজেটের দিক থেকেও সিনেমাটি ছিল বেশ আলোচনায়। যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রিন্স’-এর বাজেট প্রায় ১৩ কোটি টাকার কাছাকাছি – যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই একটি বড় বিনিয়োগ । এই উচ্চ বাজেট, আন্তর্জাতিক মানের টেকনিক্যাল টিম এবং বড় বড় কাস্ট-সব মিলিয়ে সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী।কিন্তু মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা ধরে রাখতে পারেনি প্রিন্স।

প্রথমদিনে হল সংখ্যা বেশি থাকায় বক্স অফিসে একটি শক্তিশালী ওপেনিং দিলেও পরবর্তীতে দর্শকদের নেগেটিভ প্রতিক্রিয়ায় কোথাও কোথাও হল ফাঁকা থাকার খবরও পাওয়া গেছে। তাই এখন প্রতিযোগী হিসেবে অন্যান্য ঈদের সিনেমার সঙ্গে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে প্রিন্স।প্রিন্সের এই করুণ পরিস্থিতিতেই গত মঙ্গলবার খোলাখুলি কথা বলেছেন শাকিব খান নিজেই।
তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রিন্স’-এর গল্প প্রথম শোনার পর তিনি এটিকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় সিনেমা মনে করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এই সিনেমার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলেছে-যা তার জীবনে এর আগে কখনোই হয়নি।তিনি আরও বলেছেন, সময়ের অভাবে সিনেমাটিতে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে এবং সেই দায় এড়ানোর না। নির্মাতা থেকে শুরু করে পুরো টিমের পক্ষ থেকেই দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে পরিচালক হায়াত মাহমুদের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি একজন মেধাবী নির্মাতা এবং পর্যাপ্ত সময় পেলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ বা ‘তুফান’-এর মতো সিনেমা যেখানে বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছিল, সেখানে ‘প্রিন্স’ সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ‘প্রিয়তমা’ মাত্র আড়াই কোটি বাজেটে ৪০ কোটির বেশি আয় করেছিল। সেই তুলনায় ‘প্রিন্স’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমা যদি এভাবে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, শাকিবের ব্র্যান্ড ইমেজেও ধাক্কার কারণ।আর সেজন্যই তিনি থেমে না থেকে বরং এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমা দিয়ে নতুন করে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়,রকস্টার সহ তার পরবর্তী প্রজেক্টগুলোতে তিনি এই শিক্ষা কতটা কাজে লাগাতে পারেন এবং আবারও দর্শকদের আস্থা অর্জন করতে পারেন কিনা!