দ্বিতীয় বিয়ে করলেন সামান্থা! বর কে?

ফারহান তানভীর :

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারকা সামান্থা রুথ প্রভু ও নির্মাতা রাজ নিধুমুরু। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ফিসফাস চলছিল। কেউ বলছিল, দুজনের মধ্যে নাকি শুধু বন্ধুত্ব-আড্ডাবাজি, কাজের খাতিরে দেখা-সাক্ষাৎ। আবার কেউ দাবি করছিল, বিষয়টা এর চেয়ে গভীর। অবশেষে সব জল্পনা এক লহমায় সত্যি হলো সোমবার সকালে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেল-সামান্থা বিয়ে করেছেন, আর সেই বর আর কেউ নন, রাজ নিজেই।

অভিনেত্রী সামান্থা প্রভু – ইন্সটাগ্রাম থেকে

বিয়ের আসরটি হয়েছে তামিলনাড়ুর ইশা যোগা সেন্টারের লিং ভৈরবী মন্দিরে। জায়গাটার নিজস্ব একটি শান্ত পরিবেশ আছে-সাধনার গন্ধমাখা প্রাঙ্গণ, পাহাড়-জঙ্গলের মাঝে নির্জনতার স্বাদ। সেখানেই খুব সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হয় তাঁদের পাণিগ্রহণ। মোটামুটি ৩০ জন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন-নির্মাতা-অভিনেতার কিছু বন্ধু, পরিবারের সদস্য, কয়েকজন সহকর্মী। সামান্থা বেছে নিয়েছিলেন লাল শাড়ি, যা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রুচির মতোই, সাদামাটা অথচ মার্জিত। রাজ ছিলেন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিনেত্রী ইনস্টাগ্রামে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে ছবিসহ সুখবরটি ভাগ করে নেন, আর তাঁর সেই পোস্ট দেখেই সোশ্যাল মিডিয়া কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে।

রাজ ও সামান্থা – ইন্ডিয়া ফোরাম

এমনিতেই গত রোববার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বিয়ের গুঞ্জন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে এর বাড়তি আগুন ধরায় রাজের সাবেক স্ত্রী শ্যামালি দে’র ইনস্টাগ্রাম স্টোরি। তিনি সেদিন একটি রহস্যময় লাইন লিখে দেন-‘নিরাশ্রয় মানুষ হতাশার কাজ করে।’ শব্দগুলোর সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি, কিন্তু নেটিজেনদের মধ্যে তাতেই শুরু হয় আলোচনার ঢেউ। রাজ ও শ্যামালির বিচ্ছেদ হয়েছিল ২০২২ সালে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে কখনোই খুব বেশি কথা বলেননি তারা কেউই, তবে তাঁদের আলাদা হওয়ার পর থেকেই রাজের ব্যক্তিগত জীবনকে নিয়ে আলোচনার ঘুরপাক অবশ্য থামেনি।

রাজ ও সামান্থার পরিচয় কাজের সূত্রেই। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ দিয়ে শুরু, এরপর ‘সিটাডেল: হানি বানি’। সেই ধারাবাহিকতার বাইরে আরও কিছু প্রকল্প নিয়েও দুজনকে চিন্তাভাবনা করতে দেখা গিয়েছিল। অনেকেই তখনই ধরে নিয়েছিলেন, তাঁদের বন্ধুত্বের ভিত আরও শক্ত। বছরের শুরুতে সামান্থা যখন রাজের সঙ্গে তোলা কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, তখন সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তবে দুজনই তখন রটনার জবাব দেননি। বরং তাঁদের কাজের ব্যস্ততাই সামনে রেখেছিলেন।

সামান্থা প্রভু – ফিল্মফেয়ার

সামান্থার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মানুষের আগ্রহ কম নয়। নাগা চৈতন্যের সঙ্গে চার বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টানার পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন একটি সময় অতিক্রম করেছিলেন, এটিও অভিনেত্রী নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন। সেই সময়েই আলোচনায় আসে নাগার দ্বিতীয় বিয়ের খবর-অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালার সঙ্গে। ফলে সামান্থার নতুন অধ্যায় নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল ছিল সর্বদাই।

রাজ ও সামান্থা – ফিল্মফেয়ার

সিনেমার জগতের অদ্ভুত এক সত্য হলো-ব্যক্তিগত গল্প যত চাপা রাখার চেষ্টা করা হয়, মানুষের আগ্রহ তত বাড়তে থাকে। রাজ আর সামান্থার ক্ষেত্রেও তাই হলো। তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন থেকে শুরু করে গোপনে অনুষ্ঠান আর শেষ পর্যন্ত অফিসিয়াল ঘোষণা-সবটাই একে একে পরিণত হলো বাস্তবে। এখন প্রশ্ন-এই সম্পর্ক তাঁদের পেশাগত জীবনে নতুন কোনো সহযোগিতার দিক খুলবে কি না। রাজ নিধুমুরু দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণের নতুন ধারার নির্মাতাদের একজন হিসেবে পরিচিত, আর সামান্থার অবস্থান তো গত কয়েক বছরে আরও উঁচুতে পৌঁছেছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ভারতীয় বিনোদনজগতে এই বিয়ে শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিণতি নয়, বরং একটি বহুল আলোচিত জল্পনার শেষ অধ্যায়। ভক্তরা এখন তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন-এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের একসঙ্গে কোনো সৃষ্টিশীল কাজে দেখা গেলে সেটা যে আলোচনার ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।