দেয়ালগুলো না থাকলে মা হয়তো আজও বেঁচে থাকতো-জ্যাকি শ্রফ

ফারহান তানভীর :

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। পর্দায় তিনি যতটা দৃঢ়, বাস্তব জীবনে ততটাই কোমল ও আবেগপ্রবণ মানুষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন এক অধ্যায় শেয়ার করেছেন, যা শুনে চোখ ভিজে উঠেছে অসংখ্য ভক্তের। একসময় দারিদ্র্যের চরম কষ্টে থাকা সেই মানুষটির স্মৃতিচারণ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়- টাকার প্রাচুর্য নয়, পরিবারের বন্ধনই জীবনের আসল সম্পদ।

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। ছবি – বলিউড হাঙ্গামা

জ্যাকি শ্রফ বলেন, “ক্লাস টেনে পড়তাম তখন। পরীক্ষার ফি দেওয়ার টাকাও ছিল না আমার কাছে। মা তখন তাঁর শাড়ি বিক্রি করে আমাকে পড়াতেন।” কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠ কেঁপে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল, এত বছর পরও সেই কষ্টের দিনগুলো যেন ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।তিনি আরও বলেন, “একটা ছোট ঘরে থাকতাম আমরা সবাই-আমি, আমার ভাই, মা, বাবা। ঘরটা ছিল ছোট, কিন্তু ভালোবাসাটা ছিল বিশাল। যদি আমি কাশি দিতাম, সবাই ছুটে আসতো। মা কাশি দিলেই আমরা দৌড়ে যেতাম পানি নিয়ে। সেই ঘরের প্রতিটি নিশ্বাসে ছিল একে অপরের প্রতি যত্ন।”

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। ছবি – বলিউড হাঙ্গামা

কিন্তু সময় সব বদলে দেয়। নাম, যশ, অর্থ-সব কিছু এল জ্যাকি শ্রফের জীবনে। দারিদ্র্যের দিন ফুরোল, আরামের জীবন শুরু হলো। নিজের পরিবারের জন্য তিনি একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করলেন। মায়ের জন্যও আলাদা একটি রুম করে দিলেন, যেন তিনি শান্তিতে থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানেই যেন শুরু হলো দূরত্বের দেয়াল।“যখন আমরা একসাথে ছোট ঘরে থাকতাম, তখন একে অপরের কষ্ট অনুভব করতাম। কিন্তু টাকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মধ্যে দেয়াল উঠে গেল,” বলেন অভিনেতা।

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। ছবি – বলিউড হাঙ্গামা

তারপর তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে গালে।“এক রাতে মা কাশতে কাশতে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন। যদি একসাথে ওই ঘরেই থাকতাম, অন্তত মায়ের কাশি শুনে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তখন আমরা আলাদা রুমে থাকতাম। আমি শুনতেই পাইনি। যদি এই দেয়ালগুলো না থাকতো… হয়তো মা আজও বেঁচে থাকতেন।”এই একটি কথায় যেন পুরো জীবনের বেদনা ঢেলে দিলেন জ্যাকি শ্রফ। জীবনের সেই মুহূর্ত তাঁকে এখনো তাড়া করে ফেরে।

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ ও তাঁর মা। ছবি – ইন্সটাগ্রাম

টাকার প্রাচুর্য যে সবসময় সুখ আনে না, এই কথাই যেন তাঁর অভিজ্ঞতায় বারবার প্রমাণিত হয়।আজ বলিউডে জ্যাকি শ্রফ মানে অভিজ্ঞতা, সাফল্য আর মাটির মানুষ হওয়ার প্রতীক। কিন্তু তাঁর হৃদয়ের ভেতরে এখনো বাস করে সেই গরিব ছেলেটা, যে মায়ের শাড়ির দামে পড়াশোনা করেছিল। যিনি জানেন, জীবনের আসল সুখ বড় ঘরে নয়, বরং সেই ছোট্ট ঘরের মায়ায়।

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ। ছবি – বলিউড হাঙ্গামা

জ্যাকি শ্রফের এই গল্প আমাদের এক গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয় – আমরা যত বড়ই হই, যত টাকাই আয় করি না কেন, পরিবারের ভালোবাসার জায়গা কখনো দেয়ালে ভাগ করা উচিত নয়। কারণ কখনও কখনও সেই দেয়ালই হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।