আগুন-ছাইয়ের দুনিয়া নিয়ে হাজির হলো অ্যাভাটার থ্রি!করতে পারবে কি বাজিমাত?

ফারহান তানভীর :

হলিউডে খুব কম নির্মাতাই আছেন, যাঁরা সময়কে অপেক্ষায় বসিয়ে রাখতে পারেন। জেমস ক্যামেরন ঠিক তেমনই একজন। নব্বইয়ের দশকে লেখা একটি গল্প, যা বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করেছে প্রায় দুই দশক-সেই ‘অ্যাভাটার’ই ২০০৯ সালে মুক্তি পেয়ে বদলে দিয়েছিল বিশ্ব সিনেমার ভাষা। প্রযুক্তি, কল্পনা ও আবেগ-এই তিনের মেলবন্ধনে ক্যামেরন দেখিয়েছিলেন, গল্প বলার সীমানা কতটা দূর পর্যন্ত টানা যায়।এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরের বিরতির পর ২০২২ সালে আসে ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। পানির নিচে প্যান্ডোরার বিস্তৃত জগৎ, পরিবার ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই-সিকুয়েলটি দর্শকের সঙ্গে আবেগের নতুন এক সম্পর্ক তৈরি করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মুক্তি পেল ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

অ্যাভাটার থ্রি

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ একাধিক প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই ছবি।নতুন ছবিতে আবারও দর্শক ফিরছে প্যান্ডোরায়, তবে এবার প্রকৃতির রূপ বদলেছে। পানি ও বন পেরিয়ে গল্প ঢুকে পড়েছে আগুন আর ছাইয়ের রাজ্যে। ট্রেলারে প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট, এই কিস্তির মেজাজ আগের দুই ছবির তুলনায় অনেক বেশি অন্ধকার ও সংঘাতমুখর।

নির্মাতা জেমস ক্যামেরন

গল্পে যুক্ত হয়েছে এক নতুন নাভি গোষ্ঠী-‘অ্যাশ ক্ল্যান’। আগুনকে ঘিরে যাদের সংস্কৃতি, জীবনদর্শন ও যুদ্ধনীতি। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছে ভারাং চরিত্রটি, যাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন ওনা চ্যাপলিন। জেক সালি ও নেইতিরির পরিবারের জন্য তারাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় হুমকি।জেমস ক্যামেরন নিজেই জানিয়েছেন, এবার তিনি নাভিদের এক ভিন্ন দিক দেখাতে চেয়েছেন। আগের ছবিগুলোতে মানুষকে দেখা গেছে আগ্রাসী ও লোভী শক্তি হিসেবে, আর নাভিরা ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা প্রায় নিখুঁত এক জাতি। কিন্তু ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ সেই সাদা-কালোর বিভাজন ভাঙার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। নাভিদের মধ্যেও যে ক্ষমতার লড়াই, নিষ্ঠুরতা ও বিভেদ থাকতে পারে-সেই বাস্তবতাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।এ ছবিতে সুলি পরিবারের গল্পও নতুন মোড় নেয়। আগের ছবির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবারটিকে আরও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে লো’আক চরিত্রটি এবার আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

অ্যাভাটার থ্রি

ক্যামেরন এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দ্বিতীয় ছবিতে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়াই এই চরিত্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলেছে। অর্থাৎ, ‘অ্যাভাটার’ সিরিজ এখন শুধু নির্মাতার কল্পনার ফল নয়, দর্শকের প্রতিক্রিয়াও গল্পের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ আবারও উচ্চতা ছুঁয়েছে। প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই ছবির বড় অংশের শুটিং হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। উন্নত মোশন ক্যাপচার, আগুন ও ধোঁয়ার ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং থ্রিডি প্রযুক্তির ব্যবহার সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ক্যামেরার নড়াচড়া থেকে শুরু করে আলো-ছায়ার ব্যবহার-সবকিছুতেই ক্যামেরনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়ে।তবে নির্মাতা নিজেই আগেভাগে সতর্ক করে দিয়েছেন, এই ছবি হয়তো সবার প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাঁর ভাষায়, নিরাপদ পথে হাঁটলে সিনেমা তৈরি হয়, কিন্তু ইতিহাস তৈরি হয় না। তাই গল্প বলার ক্ষেত্রে তিনি কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দর্শকের একাংশকে চমকে দিতে পারে।

নির্মাতা জেমস ক্যামেরন

সব মিলিয়ে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ শুধু আরেকটি সিকুয়েল নয়, বরং ক্যামেরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই ছবির সাফল্যই নির্ধারণ করবে, প্যান্ডোরার গল্প ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে। তবে একটি বিষয়ে সন্দেহ নেই-আবারও প্রমাণ হলো, জেমস ক্যামেরনের সিনেমা মানে শুধু ছবি দেখা নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ নতুন জগতে প্রবেশ করা।