ফারহান তানভীর :
ধর্মেন্দ্র-হিন্দি সিনেমার সেই অমর অধ্যায়, যার চলে যাওয়া শুধু একটি তারকার মৃত্যু নয়; এটি ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক যুগের সমাপ্তি। ২৪ নভেম্বর, মুম্বাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কয়েকদিন পর ৮৯ বছর বয়সে যখন তিনি পৃথিবী ছাড়লেন, তখন বহু মানুষের মনে একই প্রশ্ন-এমন মানুষ কি আর জন্মাবেন?তার মৃত্যুর পরের রবিবার ‘বিগ বস ১৯’-এর ফাইনাল এপিসোডে দাঁড়িয়ে সালমান খান যে কথাগুলো বললেন, সেগুলো শুধু শ্রদ্ধা নয়; তা ছিল এক শিল্পী থেকে আরেক শিল্পীর প্রতি গভীর মমতার ভাষা। সালমানের গলায় সেই আবেগ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, তা পর্দার দুই পাশেই কাঁপন তুলে দিল।

সালমান বললেন-ধর্মেন্দ্র এমন একজন মানুষ, যার চেয়ে ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সিনেমায় প্রবেশের দিন থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি একটাই জিনিসে বিশ্বাস করেছেন-ভালো কাজ। নিজের জীবনটাও তিনি বাঁচিয়েছেন মন খুলে, প্রাণপ্রাচুর্যে, এক অনন্য ভরসায়। ৬০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, ভাবনায় ডুবিয়েছেন; আবার নিজের পরিবার থেকে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন সানি, ববি, ঈশা, আহানার মতো তারকা।
সালমানের নিজেরও একান্ত স্বীকারোক্তি-তার ক্যারিয়ারের আদর্শ, রূপরেখা, অনুপ্রেরণা ছিলেন একমাত্র ধর্মেন্দ্র। বললেন, “আমি নিজের গ্রাফ শুধু ধর্মজি-কে দেখে তৈরি করেছি। ওনার মতো নিষ্পাপ মুখ, আর হিম্যানের মতো দেহ-এই দুইয়ের সমন্বয় কেউ করতে পারেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সেই চেহারার জাদু ছিল।”

কিন্তু যে স্মৃতি সালমানকে সবচেয়ে বেশি ভেঙে দেয়, সেটি ব্যক্তিগত। ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন ২৪ নভেম্বর-যে দিনটি সালমানের বাবার জন্মদিন। আর ৮ ডিসেম্বর ধর্মেন্দ্রর জন্মদিন-যা সালমানের মায়ের জন্মদিনও। এই দুটো দিন একই পরিবারের দুই স্তম্ভের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে থাকায় সালমানের কণ্ঠ ভেঙে তা বাইরে বেরোলো-যা একজন সুপারস্টারের সামনে খুব কম দেখা যায়। তিনি পালাতে পারলেন না অনুভূতির ঢেউ থেকে। বললেন, “আমি যদি এমন অনুভব করি, তাহলে সানি, ববি, প্রকাশ আন্টি, হেমা জি, ঈশা, আহনা-তারা কেমন থাকছেন!”সালমান আরও তুলে ধরলেন ধর্মেন্দ্রর প্রার্থনা সভার কথা। এত মর্যাদা, এত সম্মান আর এত শান্ত একটি অনুষ্ঠান খুব কম দেখা যায়-এমনই বললেন তিনি। তার চোখে এই আয়োজন জীবনের উদযাপন ছিল। তিনি আলাদা করে প্রশংসা করলেন সানি-ববি ও পুরো পরিবারের-কীভাবে তারা পুরো প্রক্রিয়াকে সৌন্দর্য, মর্যাদা আর শান্ত গাম্ভীর্যে পরিণত করেছেন।

এদিকে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছেছে-ধর্মেন্দ্রর জন্মদিন পালন করা হবে তারই প্রিয় ফার্মহাউসে,আজ ৮ ডিসেম্বর। সানি, ববি এবং পরিবারের বাকিরা ভক্তদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি হবে শোক নয়, বরং স্মৃতির উৎসব; কারণ ধর্মেন্দ্রও জীবনের প্রতিটি উৎসবকে উদযাপন করতে জানতেন।কিন্তু তিনি চলে গেলেও পর্দা তাঁকে শেষবার দেখবে খুব শিগগিরই। পরিচালক শ্রীরাম রাধবানের ‘ইক্কিস’-এই মাসেই মুক্তি পাচ্ছে, আর সেখানেই শেষবার দেখা যাবে ধর্মেন্দ্রকে। এটি যেন এক যুগের বিদায় নেওয়ার আগে শেষবার আলো ছড়ানোর চেষ্টা।

ধর্মেন্দ্র ছিলেন শুধু নায়ক নয়-একটি অনুভূতি। এমন একটি নাম, যার মধ্যে মাটির গন্ধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, পরিবারকে বুকে আগলে ধরা এবং জীবনের প্রতি তীব্র উচ্ছ্বাস একসাথে মিশে ছিল। তার যাত্রা শেষ-কিন্তু কিংবদন্তিদের তো মৃত্যু হয় না; তারা শুধু অন্য আকাশে চলে যান, যেখানে আলো একটু বেশি উজ্জ্বল।ধর্মেন্দ্র সেখানেই আছেন এবং থাকবেন।