ফারহান তানভীর:
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও টিভিকে (Tamilaga Vettri Kazhagam) দলের প্রধান – বিজয় এর ব্যক্তিজীবন নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাঁর স্ত্রী সংগীতা নাকি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন-এমন খবরই এখন ঘুরছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি,তবুও শোনা যাচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

১৯৯৯ সালের আগস্টে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন বিজয় ও সংগীতা। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান-পুত্র জেসন সঞ্জয় ও কন্যা দিব্যা সাশা। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই ছিল আলোচনার বাইরে বরং একটি স্থিতিশীল ও ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংগীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে বিজয় নাকি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয় সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।খবর অনুযায়ী, ভারতের Special Marriage Act-এর নির্দিষ্ট ধারার আওতায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই আইনে দাম্পত্য জীবনে ব্যভিচার বা মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের মতো অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।

বিজয় ও সংগীতার সম্পর্কের শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্নধর্মী। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Poove Unakkaga সিনেমার সাফল্যের পর বিজয়ের ক্যারিয়ারে আসে বড় মোড়। সেই সময় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সংগীতা, যিনি ছিলেন বিজয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত, চেন্নাইয়ে এসে তাঁকে অভিনন্দন জানান। সংগীতার বাবা শ্রীলঙ্কার তামিল বংশোদ্ভূত এক শিল্পপতি, যিনি পরে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

প্রথম দেখাতেই সংগীতার সরলতা ও ব্যক্তিত্ব বিজয়কে মুগ্ধ করেছিল বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।পরবর্তীতে বিজয় সংগীতাকে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কটি গম্ভীর দিকে মোড় নেয়। বিজয়ের বাবা ও মা লন্ডনে গিয়ে সংগীতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পরিবারের সম্মতিতেই ঠিক হয় এই বিয়ে। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও-বিজয় খ্রিস্টান ও সংগীতা হিন্দু-তাঁরা হিন্দু রীতিতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে চেন্নাইয়ে আয়োজন করা হয় এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।দাম্পত্য জীবনে তাঁরা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এড়িয়ে চলেছেন। তাঁদের ছেলে জেসন সঞ্জয় বাবার সঙ্গে Vettaikaaran ছবিতে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি দেখিয়েছিলেন। অন্যদিকে মেয়ে দিব্যা সাশাও বাবার সঙ্গে Theri সিনেমায় পর্দায় দেখা গিয়েছিল। পরিবারকে ঘিরে বিজয়ের প্রকাশ্য উপস্থিতি খুবই সীমিত হলেও সন্তানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই ছিল।
সূত্র- দ্যা ইকোনোমিক টাইমস