চাঙ্কি পান্ডে – যেন বাংলাদেশের এক অতিথি পাখি!

ফারহান তানভীর :

চাঙ্কি পান্ডে যখন বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন ১৯৮০-৯০ দশকের মাঝামাঝি তিনি একাধিক হিট ছবিতে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান। তেজাব, আঁখে‑র মতো ছবিতে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হলেও ১৯৯০-এর দশকে বলিউডে নায়ক হিসেবে বড় স্কেলে কাজের অফার কমে যেতে থাকে। সেই সময়ই তিনি নতুন পথ খুঁজতে শুরু করেন। ব্যবসায়িকভাবে হাল হাঁকাতে ও ধারাবাহিকতা পেতে তিনি ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকান, কারণ সেখানে সুযোগ ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন।

অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে – ফেসবুক থেকে

সেই কঠিন সময়েই তিনি বাংলাদেশে কাজের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে নিয়মিত অভিনয় করেন।বাংলাদেশে তাঁর আগমনের পেছনের বড় কারণ ছিল ক্যারিয়ারে একটা স্থিতিশীলতা খুঁজে পাওয়া। তিনি নিজে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বলিউডে কাজ কমে যাওয়ার পর তিনি অন্য জায়গায় সুযোগ খুঁজতে বাংলাদেশে আসেন, ছবির অফার পান এবং দর্শকদের ভালো গ্রহণ পেয়ে পুনরায় আত্মবিশ্বাস পান।

বাংলাদেশে চাঙ্কি পান্ডের ব্যস্ত সময়টা প্রায় ১৯৯৫-২০০০ এর দিকে। এখানে তিনি বেশ কয়েকটি ছবি করেন, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিতগুলো হলো-‘স্বামী কেন আসামী’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘ফুল আর পাথর’ এবং ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’। এ ছবিগুলোতে তিনি মূলত বাংলাদেশের বড়‑বড় লোকাল নায়ক‑নায়িকা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেন; যেমন শাবানা, জসিম, মিশা সওদাগর, রাজিব এবং অন্যান্যরা।

স্বামী কেন আসামী সিনেমার পোস্টার – ইউটিউব থেকে

যদিও বাংলাদেশে নির্দিষ্ট বক্স‑অফিস ডেটা সহজে পাওয়া যায় না,তবে ছবিগুলো স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ‘স্বামী কেন আসামী’ এবং ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ দর্শকদের মধ্যে আলোচিত ছিল এবং তখনকার দর্শকেরা এই ছবিগুলোকে সুবিধাজনক ব্যবসা করা সিনেমা হিসেবে দেখে ছিলেন। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা পাওয়া এবং মানুষদের মনে জায়গা তৈরি করার মাধ্যমে তিনি তখনকার বাংলাদেশি সিনেমা দর্শকদের কাছে চেনা মুখ হয়ে ওঠেন।

অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে ও মেয়ে অনন্যা পান্ডে – ফেসবুক থেকে

এখানকার কাজের সময় তাঁর ব্যক্তিজীবনেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে ওঠে। প্রযোজক ফারাহ খানের নেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিয়ের পর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন হানিমুন করতে এবং বাংলাদেশের জীবন-যাপন,খাদ্যাভ্যাস সহ সবকিছুর প্রশংসাও করেন। এমনকি তাঁর কন্যা অনন্যা পান্ডে‑র জন্মের সময়ের কিছু সময় বাংলাদেশে কাটিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী ভাভনা।

স্ত্রী ভাভনা ও মেয়ে অনন্যা পান্ডের সাথে অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে – ফেসবুক থেকে

এ সময়ের পর ধারাবাহিকতা পেয়ে ও দর্শক সাড়া দেখে তিনি আবার বলিউডে ফিরে আসেন। এখানে তিনি মূলত চরিত্র‑ভূমিকা ও কমেডি‑সাপোর্টিং অংশগুলোতে পুরোপুরি ফিরে আসেন। উদাহরণ হিসেবে হাউসফুল সিরিজে তিনি জনপ্রিয়তা পান এবং সাহো, জাওয়ানি জানেমন‑এর মতো উচ্চ‑পরিচিত বলিউড ছবিতেও তাকে দেখা যায়।

চাঙ্কি পান্ডে‑র বাংলাদেশি ফেজটা তার জীবনে ও ক্যারিয়ারে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। যখন বলিউডে তার জায়গা কমে গিয়েছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশে কাজ করার মাধ্যমে তিনি পুনরায় আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন এবং দর্শকের সামনে নিজেকে রাখেন। বাংলাদেশের ছবিগুলোতে তিনি স্থানীয় সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভালো সাড়া পান এবং পরে আবার বলিউডে ফিরে এসে নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন।