ফারহান তানভীর :
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। দেশের সর্ববৃহৎ সিনেমা হল ‘মণিহার’ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। চার দশক আগে যাত্রা শুরু করা এই প্রেক্ষাগৃহ অনেকদিন ধরেই লোকসানের বোঝা বইছিল। অবশেষে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় হলটি ভাঙার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মণিহারের ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, “মালিকপক্ষ অনেক দিন ধরেই ভাঙার চিন্তা করছিল, তবে এত দিন ঠেকিয়ে রেখেছিলাম। এখন আর কোনো উপায় নেই। সিনেমা না থাকলে পরিবেশ দিয়ে তো দর্শক টানা যায় না। মাসে অন্তত একটি ভালো ছবি থাকলে টিকে থাকা যেত, কিন্তু বর্তমানে সেটা মিলছে না।”তিনি আরও বলেন, “দুই ঈদ দিয়ে পুরো বছর চালানো সম্ভব নয়। সাফটা চুক্তির আওতায় নিয়মিত মানসম্মত সিনেমা আমদানি না হলে একে একে সব প্রেক্ষাগৃহই বন্ধ হয়ে যাবে। মাসের মাঝামাঝি এসে বেতন থেকে বিদ্যুৎ বিল-সব সামলানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তবে আশার কথা, মণিহার ভাঙা হলেও সেখানে নতুন মার্কেট তৈরি করে মাল্টিপ্লেক্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে মালিকপক্ষের।১৯৮৩ সালে সোহেল রানা-সুচরিতা অভিনীত দেওয়ান নজরুল পরিচালিত জনি সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মণিহার। একসময় ১,৪৩০ আসনের এই হলে দিনে চারটি শোতেই দর্শকের ঢল নামত। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয় মন্দা, যা আজ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

শুধু মণিহারই নয়, একই কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বগুড়ার অন্যতম জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ মধুবন সিনেপ্লেক্সও। সম্প্রতি সিনেপ্লেক্সের মালিকপক্ষ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেয়। তারাও জানিয়েছে, মানসম্মত সিনেমার অভাব এবং দীর্ঘদিনের লোকসানই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কারণ।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এ খবর নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। দুই ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহের অবসান দেশের সিনেমা হল সংস্কৃতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।