আমার মেয়ের নগ্ন ছবি দাবি করেছিল গেমার, জানালেন অক্ষয় কুমার!

ফারহান তানভীর :

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও একজন দায়িত্বশীল বাবা এবং সচেতন সমাজকর্মী হিসেবে বহুবার সামনে এসেছেন। এবারও তিনি একই ভূমিকায় হাজির হলেন মুম্বাইয়ে ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ অফিসে আয়োজিত ‘সাইবার সচেতনতা মাস অক্টোবর ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অক্ষয় নিজের পরিবারের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনান, যা সবার জন্যই চোখ খুলে দেওয়ার মতো।

মা টুইঙ্কেল খান্নার সঙ্গে মেয়ে নিতারা – আইএমডিবি

অক্ষয় জানান, কয়েক মাস আগে তার কন্যা নিতারা অনলাইনে একটি ভিডিও গেম খেলতে শুরু করে। গেম খেলার সময় সে এক অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। অপরিচিত সেই ব্যক্তি নিতারাকে খেলার জন্য উৎসাহ দিচ্ছিলেন, ভালো খেললে প্রশংসা করছিলেন। কিন্তু এর কিছু সময় পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। অক্ষয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে সেই ব্যক্তি নিতারাকে জিজ্ঞেস করে সে ছেলে না মেয়ে। নিতারা সরলভাবে জানায়, সে মেয়ে। এই তথ্য জানার পরই অপরিচিত ব্যক্তির আচরণ পাল্টে যায়। কথাবার্তায় এক ধরনের অস্বস্তিকর ইঙ্গিত দেখা দিতে থাকে। শেষমেশ সে নিতারার কাছে নগ্ন ছবি দাবি করে বসে।

বাবা এবং মায়ের সঙ্গে মেয়ে নিতারা – হিন্দুস্তান টাইমস

অক্ষয়ের বক্তব্যে উঠে আসে-“সৌভাগ্যবশত আমার মেয়ে যথেষ্ট বুদ্ধিমানের মতো আচরণ করেছে। ও সঙ্গে সঙ্গে সেই গেম বন্ধ করে দেয় এবং ঘটনাটি আমার স্ত্রীকে জানায়। ও যে খোলাখুলি আমাদের কাছে এসে এমন একটি গুরুতর ব্যাপার জানাতে পেরেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।” অক্ষয়ের মতে, অধিকাংশ শিশু এমন ঘটনার শিকার হলেও ভয়ে বা লজ্জায় অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে তা শেয়ার করতে পারে না। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন। তার মতে, অনলাইনে অনেক মানুষ আছে যারা প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে, আস্থা অর্জন করে এবং পরে নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করেই এ ধরনের সাইবার অপরাধীরা সক্রিয় থাকে, কারণ এই বয়সের শিশুদের সরলতা ও কৌতূহলকে সহজেই কাজে লাগানো যায়। অক্ষয় আরও বলেন, “এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত অনেক শিশুর জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সন্তানের প্রতি নজর রাখা, তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং সবসময় সচেতন থাকা।”

অক্ষয় কুমার,টুইঙ্কেল খান্না এবং নিতারা – বলিউড হাঙ্গামা

এছাড়া অক্ষয় কুমার ভারতীয় সাইবার সেল এবং পুলিশের নেওয়া নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটকে নিরাপদ রাখতে হলে শুধু সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই নয়, পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনলাইনে অপরিচিত কারও সঙ্গে আলাপ, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা কিংবা ছবি পাঠানোর মতো বিষয়গুলো যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটা সবাইকে শিশুদের বোঝাতে হবে।অভিনেতার এই বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অভিভাবকদের জন্য এটি ছিল এক ধরনের সতর্কবার্তা। অক্ষয় কুমারের অভিজ্ঞতা কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের জন্যই এক বড় শিক্ষা। সাইবার জগতে প্রতিদিনই নানা অপরাধ ঘটছে, যার শিকার হচ্ছে নিরীহ শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা। তাই এখনই সময় সাইবার সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়ার।