মেহেদী হাসান :
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে শাকিব খান এক অনন্য নাম। ১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত “অনন্ত ভালোবাসা” ছবির মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। প্রথম দিকটা খুব সহজ ছিল না, তবে সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে উঠলেন ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ভরসা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধারে নায়ক, প্রযোজক এবং সিনেমার বাজারের মূল আকর্ষণ। তার নামটাই এখন হয়ে গেছে একধরনের ব্র্যান্ড, যার ওপর দর্শক আস্থা রাখে এবং প্রযোজকেরা নির্ভর করে।

শাকিব খানের ক্যারিয়ারকে বলা যায় এক দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প। প্রথমদিকে বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেও তিনি তেমন সাড়া পাননি, কিন্তু ধীরে ধীরে দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করেন। ২০০০ সালের পর থেকে একে একে তিনি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। তার অভিনয়, স্টারডম, আর ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে হাজির করার চেষ্টা তাকে সাধারণের কাছে আলাদা করে তুলেছে।২৫ বছরের যাত্রায় তিনি অভিনয় করেছেন প্রায় আড়াই শতাধিক ছবিতে। এর মধ্যে অনেক সিনেমা বক্স অফিসে ব্যবসা সফল হয়েছে, আবার কিছু সিনেমা সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছে।

“শিকারী”, “নবাব”, “রাজনীতি”, “সত্তা”, “প্রিয়তমা”,”বরবাদ”,”তান্ডব”,”তুফান”- এসব সিনেমা তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দেশের বাইরে থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শুধু অভিনয় নয়, প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে হাজির করেছেন। ২০১৪ সালে “হিরো: দ্য সুপারস্টার” দিয়ে শুরু করে তিনি পরবর্তীতে “পাসওয়ার্ড”, “বীর” ইত্যাদি সিনেমার প্রযোজক ছিলেন। এতে বোঝা যায়, তিনি শুধু নায়ক হিসেবে নন, পুরো চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন নিয়েও ভাবেন।

তার সাফল্যের মুকুটে জ্বলজ্বল করছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও শাকিব খান আজও অদ্বিতীয়। ঢাকাই সিনেমার “কিং খান” খেতাব তিনি অর্জন করেছেন দর্শকদের ভালোবাসা থেকেই। তার সিনেমা মুক্তি পেলে এখনো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল নামে, যা প্রমাণ করে তিনি কেবল অতীতের তারকা নন, বর্তমানেও তিনি প্রথম সারির নায়ক।

সম্প্রতি ডেইলি স্টার তার ২৫ বছরের ক্যারিয়ারকে স্বীকৃতি জানিয়ে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে, যা তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন। এটা কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং তার দীর্ঘ দিনের অবদানকে স্মরণ করার এবং নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করার একটি দৃষ্টান্ত।তবে এখানেই থেমে যেতে চান না শাকিব খান। তিনি নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করতে চান, ভিন্নধর্মী গল্পে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে “সোলজার”,”তুফান-২”নামক সিনেমায় তার কাজের ঘোষণা এসেছে, যা প্রমাণ করে তিনি এখনো নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের আগমন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং দর্শকের চাহিদা বদলে যাওয়া-এসবই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তাতে বিশ্বাস করা যায় ভবিষ্যতেও তিনি ঢালিউডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে থাকবেন।শাকিব খানের ২৫ বছরের এই যাত্রা কেবল একজন নায়কের গল্প নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সংগ্রাম, অর্জন আর স্বপ্ন মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার আমাদের দেখিয়ে দেয়, সঠিক নিষ্ঠা আর পরিশ্রম দিয়ে কিভাবে একজন শিল্পী দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে। ডেইলি স্টারের দেওয়া সম্মাননা এই দীর্ঘ যাত্রার প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি, যা একইসঙ্গে তার অতীতকে গৌরবান্বিত করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।