ফারহান তানভীর :
রকিং স্টার যশ-নামটাই এখন গ্ল্যামার, স্টাইল আর সুপারস্টারডমের প্রতীক। ‘KGF’ সিরিজের পর ভারতীয় সিনেমায় তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই সুদর্শন নায়ক সম্প্রতি এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন, যা তার ভক্তদের শুধু মুগ্ধই করেনি বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।ভাইরাল হওয়া এক উক্তিতে যশ বলেন, মানুষের উচিত তার চেহারা নিয়ে নয়, তার প্রতিভা নিয়ে কথা বলা।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমার চেহারা নিয়ে কথা বলবেন না। এই মুখ পাওয়ার জন্য আমি কী করেছি? এটা আমার বাবা-মায়ের দেওয়া উপহার। আমার প্রতিভা নিয়ে কথা বলুন, ওটাই আমার পরিশ্রমের ফল। চেহারা স্থায়ী নয়। আজ আমি সুদর্শন হতে পারি, কাল নাও হতে পারি। কিন্তু প্রতিভা চিরকাল।”এই বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) থেকে শুরু করে ইউটিউব রিলস-সবখানে যশ-এর এই কথাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নানা মোটিভেশনাল পোস্ট, ভিডিও এবং ফ্যান-এডিট। অনেকেই এই উক্তিকে আধুনিক তারকাদের জন্য একটি শক্তিশালী মেসেজ হিসেবে দেখছেন, যেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অর্জিত দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।যশ-এর জনপ্রিয়তা শুধু তার সুদর্শন চেহারার কারণে নয়, বরং তার পর্দার উপস্থিতি, স্টাইল এবং অভিনয়ের তীব্রতার জন্য। ‘KGF: Chapter 1’ ও ‘KGF: Chapter 2’ ছবিতে তার রকি ভাই চরিত্র দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের কাল্ট ফলোয়িং তৈরি করেছে। তবে, এই ভাইরাল বক্তব্যে যশ যেন নিজেই সেই গ্ল্যামার-ইমেজকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন একজন শিল্পীর আসল পরিচয়-তার প্রতিভা ও পরিশ্রম।

এরই মধ্যে যশ-এর পরবর্তী ছবি ‘Toxic’ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামী ১৯ মার্চ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে ‘ধুরন্ধর-২’। ফলে ওই দিনটিকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা মাত্রার হাইপ তৈরি হয়েছে। ‘KGF’ সিরিজের পর দীর্ঘ বিরতির পরে যশ এই ছবির মাধ্যমেই আবার বড় পর্দায় ফিরছেন, যা তার ভক্তদের জন্য একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ইতিমধ্যেই ‘Toxic’ সিনেমার ট্রেলার ও গ্লিম্পস প্রকাশ পেয়েছে এবং সেগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মধ্যে। গাঢ় স্টাইল, ডার্ক টোন এবং যশ-এর ভিন্নধর্মী লুক-সব মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। অনেকে মনে করছেন, ‘Toxic’ যশ-এর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে পারে, ঠিক যেমনটা ‘KGF’ করেছিল।

এন্টারটেইনমেন্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য যশ-এর পাবলিক ইমেজকে আরও পরিপক্ব ও গভীর করে তোলে। সাধারণত সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে মানুষ তাদের লুক, ফ্যাশন সেন্স এবং স্টারডম নিয়েই বেশি আলোচনা করে কিন্তু যশ এখানে দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে একজন শিল্পীর আসল শক্তি তার প্রতিভা ও কাজের মানে। তরুণ প্রজন্মের কাছেও এই বক্তব্য বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে, যেখানে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার বাহ্যিক চাকচিক্যের বাইরে নিজের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার বার্তা পাচ্ছেন। ফ্যানদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস কম নয়-অনেকে এই উক্তিকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, যা আধুনিক তারকা সংস্কৃতিতে প্রতিভাকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে।