শাহরুখের “কিং” সিনেমা বাংলাদেশে আনার জন্য প্রয়োজনে একাই লড়ে যেতে চান অনন্য মামুন…

ফারহান তানভীর :

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর বাংলাদেশে মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা। বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও চাপা ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই প্রেক্ষাপটেই সরব হয়েছেন দেশের আলোচিত প্রযোজক, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার অনন্য মামুন।

ছবি : ফেসবুক থেকে

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,“আমাকে যত গালাগালি করো সমস্যা নাই, দালাল বলো সমস্যা নাই। আমি শাহরুখ খানকে শিল্পী হিসেবে ভালোবাসি। তোমরা যদি ইন্ডিয়ান নায়িকা নিয়ে সিনেমা বানাতে পারো-এবার ঈদের বড় দুই সিনেমায় ইন্ডিয়ান নায়িকা। সেই সিনেমা রিলিজে যদি কোনো বাঁধা না থাকে, তাহলে শাহরুখ খানের ‘কিং’ কেন নিয়ম মেনে বাংলাদেশে রিলিজ হবে না? এটার জবাব কে দিবে? আমি ‘কিং’ রিলিজের জন্য ফাইট একাই করে যাব।”অনন্য মামুনের এই স্ট্যাটাসের পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তব উদাহরণও।

ছবি : ফেসবুক থেকে

চলতি বছরে ঈদে মুক্তি পাওয়া দেশের বড় দুটি সিনেমায় দুইজন ভারতীয় নায়িকা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এসব সিনেমা নির্মাণ ও মুক্তি-দুটোই হয়েছে প্রচলিত নিয়ম মেনেই, এবং কোথাও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি।এই বাস্তবতা সামনে রেখে তার প্রশ্ন আরও জোরালো হয়-যদি ভারতীয় নায়িকা নিয়ে বাংলাদেশি সিনেমা নির্মাণ ও মুক্তিতে কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে একটি পূর্ণাঙ্গ বলিউড সিনেমা নিয়ম মেনে মুক্তি পেতে বাঁধা কোথায়?

এর আগেও অনন্য মামুনের উদ্যোগেই শাহরুখ খানের ‘জাওয়ান’ ও ‘ডানকি’ বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল, যা ভারত ও বাংলাদেশে প্রায় একই সময়ে রিলিজ দেওয়া হয়েছিল। তখন এসব সিনেমা মুক্তি নিয়ে বড় কোনো নীতিগত বা রাষ্ট্রীয় জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি।আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর মুক্তির তারিখ ইতোমধ্যেই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ সময়সূচি ও প্রক্রিয়ার দিক থেকে সিনেমাটি আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।

ছবি : কোলাজ

এই সিনেমাটি শুধু শাহরুখ খানের একক প্রজেক্ট নয় বরং এতে যুক্ত হয়েছে বলিউডের একাধিক বড় নাম। ‘কিং’ সিনেমার কাস্টিংয়ে রয়েছেন শাহরুখ খান, রানি মুখার্জি, দীপিকা পাডুকোন, অভিষেক বচ্চন, সুহানা খান, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ ও আরশাদ ওয়ারসি। এত বড় ও বৈচিত্র্যময় শিল্পীসম্ভার নিয়ে নির্মিত একটি সিনেমা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশি দর্শকের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।তাহলে প্রশ্ন উঠছে-যখন আগে একই নিয়মে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যখন ভারতীয় নায়িকা নিয়ে দেশীয় সিনেমা নির্মাণ ও মুক্তিতে কোনো বাধা নেই, এবং যখন ‘কিং’-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ ডেটও নির্ধারিত-তখন এই সিনেমাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা কেন?

ছবি : ইউটিউব থেকে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাবই হয়তো এই দ্বিধার পেছনে কাজ করছে। তবে অনন্য মামুনের অবস্থান স্পষ্ট-রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও চলচ্চিত্র নীতিমালা তো বদলায়নি। একই নিয়মের অধীনে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলে, একটি নির্দিষ্ট সিনেমাকে আলাদা করে আটকে রাখার যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।সব মিলিয়ে, ‘কিং’ সিনেমার মুক্তি নিয়ে এই বিতর্ক এখন আর কেবল শাহরুখ খান বা একটি ছবির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এসে দাঁড়িয়েছে নীতি ও বাস্তবতার সামঞ্জস্য, শিল্প ও রাজনীতির সীমারেখা, এবং চলচ্চিত্র বাজারে দ্বৈত মানদণ্ড–এর মতো বড় প্রশ্নের মুখোমুখি।এখন দেখার বিষয়-এই প্রশ্নগুলোর জবাব আদৌ আসে কি না, নাকি অনন্য মামুনের ভাষায়, এই লড়াই সত্যিই তাকে একাই চালিয়ে যেতে হয়।