মেসির ভারত সফরে ট্রোলের শিকার হয়ে কি বলছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলি?

মেহেদী হাসান :

গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি করলেও, সেই সফর ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও অস্বস্তির পরিবেশ। শনিবার কলকাতায় এসে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। মেসির সঙ্গে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও ট্রল।

মেসির সঙ্গে ছবি তোলা প্রসঙ্গে শুভশ্রী জানান, তিনি এই সাক্ষাতের জন্য আগেই আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি একটি নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছান। সেখানে সকাল ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং ছবি তোলা হয়। শুভশ্রীর দাবি, হোটেল ছাড়ার সময় মেসির জনসংযোগ দলের পক্ষ থেকে তাঁকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, মেসিকে ঘিরে একাধিক ব্যবস্থাপনার বিষয় থাকায় তাঁর উপস্থিতি আয়োজকদের সুবিধা দেবে।বাংলা চলচ্চিত্র জগত থেকে কেন কেবল শুভশ্রীকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল-এই প্রশ্ন উঠতেই অভিনেত্রী জানান, এই প্রশ্নের উত্তর আয়োজক বা মেসির পিআর টিমই ভালোভাবে দিতে পারবে। তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্ত নয়।

এদিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুভশ্রী জানান, মাঠে পৌঁছে তিনি নিজেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন। এমনকি মাঠের পাশের তাঁবুতে বসেও তিনি মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাঁর মতে, পুরো পরিস্থিতির দায় আয়োজকদের। পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।এই ঘটনার মধ্যেই শুভশ্রীর ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে তোলা ছবিগুলো পোস্ট হয়ে যায়। অভিনেত্রীর দাবি, মাঠে জ্যামার থাকায় তাঁর টিম তখন ছবি পোস্ট করতে পারেনি। পরে প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণেই বানতলায় শুটিংয়ে পৌঁছানোর পর ছবিগুলো পোস্ট হয়ে যায়-যা তিনি নিজেও পরে লক্ষ্য করেন।তবে ততক্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে কটাক্ষ ও ব্যঙ্গ। শুভশ্রীর ফুটবল জ্ঞান, তাঁর উপস্থিতির যৌক্তিকতা, এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন-তিনি শাসক দলের বিধায়কের স্ত্রী বলেই কি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন?

এই বিতর্কের মধ্যেই পাশে দাঁড়ান শুভশ্রীর স্বামী, নির্মাতা ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের অরাজকতাকে “ফুটবল ও ফুটবলপ্রেমী বাঙালির প্রতি অসম্মান” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, বরং আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনার ফল।শুভশ্রীকে ঘিরে প্রশ্ন তোলার মানসিকতাকেও কটাক্ষ করেন রাজ। তিনি লেখেন, একজন অভিনেত্রী মানেই যে তিনি ফুটবলের ভক্ত হতে পারবেন না-এই ধারণা সংকীর্ণ। একজন মানুষের একাধিক পরিচয় থাকতে পারে-তিনি অভিনেত্রী, স্ত্রী, মা এবং একই সঙ্গে একজন ভক্তও হতে পারেন। শুধুমাত্র পরিচিত মুখ হওয়ার কারণেই তাঁর শারীরিক গঠন, পারিবারিক পরিচয় কিংবা সন্তানকে ট্রলের লক্ষ্য বানানো অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাজ চক্রবর্তীর মতে, হাজার হাজার মানুষ টিকিট কেটেও যখন প্রিয় ফুটবলারের দেখা পাননি, তখন ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ক্ষোভের লক্ষ্য একজন অভিনেত্রী হওয়া যুক্তিসংগত নয়। মাঠের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে শুভশ্রীর কোনো প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিতর্ক ও অস্বস্তিতে। এই ঘটনায় সামনে এসেছে ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল-সংস্কৃতি এবং পরিচিত মুখদের প্রতি সমাজের দ্বিচারিতা। প্রশ্ন উঠছে-দোষ কার, আর দায়ই বা নেবে কে?