ফারহান তানভীর :
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬তম গভর্নরস অ্যাওয়ার্ডসের রাতটা রূপ নেয় টম ক্রুজের প্রতি এক বিরল সম্মানে। গত রোববার সন্ধ্যায় নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর হাত থেকে সম্মানসূচক অস্কার গ্রহণ করেন হলিউডের অ্যাকশন কিংবদন্তি। চার দশকের চলচ্চিত্রজীবনে অসংখ্য বক্স অফিস রেকর্ড, একাধিক সংস্কৃতি বদলে দেওয়া সিনেমা-সব মিলিয়ে তাঁর যাত্রা বহু আগেই আইকন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক অস্কার-চারবার মনোনয়ন পেলেও-কখনো হাতে ওঠেনি। তাই এই সম্মানসূচক অস্কার তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক।

এই বছর আরও তিনজন শিল্পী পান অ্যাকাডেমির বিশেষ স্বীকৃতি-কোরিওগ্রাফার ও অভিনেত্রী ডেবি অ্যালেন, প্রোডাকশন ডিজাইনার উইন থমাস এবং সংগীতশিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী ডলি পার্টন। শেষের জন যদিও স্বাস্থ্যগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে সাজানো হয় বিশেষ সেগমেন্ট।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে অস্কার হাতে নেওয়ার পর টম ক্রুজ থমকে যান কিছু সময়ের জন্য। বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই স্মৃতি মনে করতে গিয়েই আবেগ জড়িয়ে ধরে তাঁকে। বলেন,“সিনেমা আমাকে পৃথিবী ঘুরিয়েছে। শিখিয়েছে নানা সংস্কৃতিকে সম্মান করতে। আমরা যেখান থেকেই আসি, প্রেক্ষাগৃহে এসে একসঙ্গে হাসি, কাঁদি, আশা করি-এটাই সিনেমার শক্তি।”কথা বলার মাঝেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে টমের। প্রযোজক থেকে লাইটম্যান-সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, সিনেমা বানানো কোনো চাকরি নয়, এটাই তাঁর পরিচয়।

এরপর ফিরে যান শৈশবে-সেই সময়, যখন সিনেমা তাঁর কল্পনার দরজা খুলে দিত এক বিশাল অচেনা জগতে।“অন্ধকার হলে প্রজেক্টরের আলো যখন পর্দায় বিস্ফোরণ ঘটাত, মনে হতো পরিচিত জগতের বাইরে নতুন আরেক মহাবিশ্ব খুলে যাচ্ছে। সেই আলোই আমার মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিল কৌতূহল আর দুঃসাহস,”-বলতে বলতে যোগ করেন, ছোটবেলার সেই আলোই তাঁকে আজও পথ দেখায়।এ রাতের লালগালিচায় ছিল তারকাদের ভিড়-জেনিফার লরেন্স, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, এমা স্টোন, ডোয়াইন জনসন, মাইকেল বি জর্ডান, সিডনি সুইনি-অনেকে এসেছিলেন এই সিনেমা-যোদ্ধাকে সম্মান জানাতে। বিশাল হলরুমে আলো ঝলমল করছিল, কিন্তু সবার দৃষ্টি ছিল এক ব্যক্তির ওপর-যিনি চার দশক ধরে সিনেমাকে রেখেছেন বাঁচিয়ে, তরতাজা, উত্তেজনাপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়েও ব্যস্ততা কমেনি তাঁর। বর্তমানে ইনারিতুর পরিচালনায় নাম ঠিক না হওয়া একটি নতুন সিনেমার শুটিং করছেন টম। ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের সুবাদে অ্যাকশন হিরো হিসেবে যে মর্যাদা তিনি তৈরি করেছেন, সেই ধারাই আরও একধাপ এগোতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।টম ক্রুজের সম্মানসূচক অস্কার শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়-এ যেন সেই প্রজেক্টরের আলোকে ফিরে দেখা, যে আলো এক কিশোরকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। চার দশক পর সেই আলোই আবার তাকে নিয়ে এল সবার সামনে-হলিউডের সবচেয়ে উজ্জ্বল মঞ্চে, সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক হাতে।