নিজের অভিনীত বিতর্কিত একটি গান নিয়ে ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানালেন নোরা ফাতেহি নিজেই!

ফারহান তানভীর :

দক্ষিণ ভারতীয় বড় বাজেটের একটি ছবি কেডি:দ্যা ডেভিল-এর গান “সারকে চুনার তেরি সারকে” প্রকাশের পর থেকেই বিতর্কের জন্ম হয়েছে, যা শুধু একটি গানের সীমায় আটকে নেই-বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির কনটেন্ট সেন্সিবিলিটি, তারকার দায়বদ্ধতা এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবিটি ইউটিউব থেকে নেয়া

গানটিতে অভিনয় করেছেন বলিউডে বাবা খ্যাত সঞ্জয় দত্ত এবং আইটেম কুইন নোরা ফাতেহি। দুজনেই জনপ্রিয় নাম হওয়ার ফলে রিলিজের পর থেকেই এটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। কিন্তু প্রশংসার বদলে গানটি দ্রুতই সমালোচনার মুখে পড়ে, কারণ বহু দর্শকের মতে এর ভাষা ও উপস্থাপনা ‘অশালীন’ এবং ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’। শুধু তাই নয়, গানের নাচ এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাকেও অনেকেই সীমা ছাড়ানো বলে আখ্যা দিয়েছেন, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধের দাবিও উঠতে শুরু করে।

সোর্চ : মারাঠি নিউজ

এই বিতর্ক আরও বড় আকার নেয় যখন বলিউডের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী কণ্ঠ কঙ্গনা রনৌত সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই গানকে ‘অশ্লীলতার সীমা অতিক্রম’ বলে উল্লেখ করে ইন্ডাস্ট্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি তোলেন। তাঁর এই মন্তব্য শুধু বিতর্ককে উসকে দেয়নি, বরং একটি বড় প্রশ্নও সামনে এনেছে-বাণিজ্যিক সাফল্যের দৌড়ে কনটেন্টের সীমা কোথায় থামবে? পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ভারতের মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত বিষয়টিতে নোটিশ পাঠায়, যা সাধারণত বিনোদন জগতের কোনো গানকে ঘিরে খুব একটা দেখা যায় না।

ছবিটি ইউটিউব থেকে নেয়া

গানের হিন্দি সংস্করণের সঙ্গে যুক্ত গীতিকার রাকিব আলম নিজেই প্রকাশ্যে এসে জানান, তিনি মূলত কন্নড় ভাষার গানটির অনুবাদ করেছেন মাত্র। তাঁর দাবি, প্রথমদিকে তিনি এমন গান লিখতে অনাগ্রহী ছিলেন, কারণ এটি সেন্সরের বাধায় পড়তে পারে এবং দর্শকের কাছে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে-এই আশঙ্কা তাঁর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্মাতারা তাকে সরাসরি মূল গানের হুবহু অনুবাদ করতে বলেন।

ছবিটি ইউটিউব থেকে নেয়া

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে নোরা ফাতেহির প্রতিক্রিয়া। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এই গানকে সমর্থন করেন না এবং গানটির হিন্দি সংস্করণ সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। তিনি দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই তার ইমেজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং তিনি কখনো এই গানটির সঙ্গে পারফর্ম করেননি। পাশাপাশি, দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন-এই সমালোচনার চাপেই নির্মাতারা গানটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সবাইকে গানটি শেয়ার না করার অনুরোধ জানান, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটি আরও প্রচার না পায়। তবে তার এই বক্তব্যের একটি অংশে তিনি আক্ষেপও প্রকাশ করেন-কিছু মানুষ এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে তার ব্যক্তিগত চরিত্রে আঘাত করার চেষ্টা করছে, যা তার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হলো-তীব্র বিতর্কের মুখে গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং নির্মাতারা নতুন করে একটি ‘পরিষ্কার ও গ্রহণযোগ্য’ সংস্করণ তৈরির উদ্যোগ নেন। গীতিকার রাকিব আলমকেই পুনরায় সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে নতুন লিরিক লেখা শেষ হয়েছে বলেও জানা গেছে।