মেহেদী হাসান :
২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া তেলুগু সিনেমা ‘ন্যুভোস্তানান্তে নেনোডান্তানা’ যেন এক প্রেমের গল্পের বিশ্বভ্রমণ। প্রভু দেবার পরিচালনায় সিদ্ধার্থ ও তৃষা কৃষ্ণান অভিনীত এই সিনেমাটি মুক্তির পর কেবল সুপারহিটই হয়নি, বরং ইতিহাস গড়ে ফেলেছে-এটি এখন পর্যন্ত নয়টি ভিন্ন ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে রিমেক হয়েছে।এই গল্পের যাত্রা শুরু হয় তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া মূল সিনেমাটিতে সিদ্ধার্থ অভিনয় করেছিলেন ভেঙ্কট চরিত্রে, আর তৃষা কৃষ্ণান ছিলেন সিরি। গ্রামবাংলার সরলতা, প্রেমে আত্মসম্মান আর পারিবারিক দ্বন্দ্ব-এই তিন উপাদানই গল্পটিকে আলাদা করে তোলে।

এর ঠিক এক বছর পর, ২০০৬ সালে তামিল ভাষায় রিমেক হয় ‘উনাক্কুম এনাক্কুম’ নামে। এই ভার্সনে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন জয়ম রবি ও তৃষা নিজেই। তেলুগু সংস্করণের মতো এখানেও গ্রাম বনাম শহরের সংঘাত দর্শকদের আবেগে নাড়া দেয়।
একই বছরে, অর্থাৎ ২০০৬ সালেই, কন্নড় ভাষায় তৈরি হয় ‘নীনেল্লো নানাল্লে’। এখানে প্রধান চরিত্রে ছিলেন তরুণ চন্দ্রশেখর ও রম্যা। কন্নড় দর্শকের কাছেও গল্পটি সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
২০০৭ সালে সিনেমাটি পৌঁছে যায় কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে। বাংলা ভাষায় রিমেক হয় ‘আই লাভ ইউ’, যেখানে অভিনয় করেন দেব ও পায়েল সরকার। এই সিনেমাটি তখনকার সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক ছবি হয়ে ওঠে এবং দেবের ক্যারিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই বছরে, ২০০৭ সালেই, মণিপুরি ভাষায় তৈরি হয় ‘নিংগোল থাজাবা’। তুলনামূলকভাবে ছোট ইন্ডাস্ট্রির হলেও এই সংস্করণটিও স্থানীয় দর্শকের কাছে বেশ সাড়া ফেলে।
২০০৯ সালে ওড়িয়া ভাষায় রিমেক হয় ‘সুনা চাধেই মো রুপা চাধেই’। এই ভার্সনে অভিনয় করেন বাবুসান মহান্তি ও অর্চিতা সাহু। ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিতে এটি একটি সফল প্রেমের সিনেমা হিসেবে পরিচিতি পায়।

একই বছর, অর্থাৎ ২০০৯ সালেই, পাঞ্জাবি ভাষায় মুক্তি পায় ‘তেরে মেরা কি রিশতা’। এতে অভিনয় করেন গিপ্পি গ্রেওয়াল ও কুলরাজ রন্ধাওয়া। গ্রামীণ আবেগের সঙ্গে পাঞ্জাবি সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এই সিনেমাটিও দর্শকদের মন জয় করে।
২০১০ সালে গল্পটি নতুন রূপ পায় নেপালি ভাষায়। ‘দ্য ফ্ল্যাশব্যাক: ফারকেরা হেরদা’ নামের এই সিনেমায় অভিনয় করেন সৌগাত মাল্লা ও নিখিল উপ্রেতি। নেপালি দর্শকদের মাঝেও এই প্রেমের গল্প জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
একই বছরে, ২০১০ সালেই, বাংলাদেশে তৈরি হয় এর বাংলা রিমেক ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস অভিনীত এই সিনেমাটি ঢালিউডে বেশ আলোচিত হয় এবং শাকিব-অপু জুটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক দর্শক জানতেনই না যে সিনেমাটির গল্পের শিকড় তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে।

সবশেষে, ২০১৩ সালে বলিউডে তৈরি হয় এই গল্পের হিন্দি সংস্করণ ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’। প্রভু দেবাই পরিচালনা করেন এই সিনেমাটি, যেখানে অভিনয় করেন গিরিশ কুমার ও শ্রুতি হাসান। আধুনিক বলিউডি গ্ল্যামার যোগ হলেও গল্পের মূল আবেগ অক্ষুণ্ণ থাকে।
নয়টি ভাষা, নয়টি সংস্করণ, ভিন্ন ভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী-তবুও গল্প একটাই। প্রেম, আত্মসম্মান আর পারিবারিক মূল্যবোধের এই গল্প প্রমাণ করে দিয়েছে, ভালো গল্পের কোনো ভাষা হয় না। তাই ‘ন্যুভোস্তানান্তে নেনোডান্তানা’ আজ আর শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি হয়ে উঠেছে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সফল রিমেক-কিংবদন্তি।