টাইগার শ্রফকে নিয়ে দিশা পাটানির অকপট স্বীকারোক্তি!বন্ধুত্ত্বের গন্ডি পেরোবে?

ফারহান তানভীর :

বলিউডে সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। পর্দায় রসায়ন, বাস্তবে বন্ধুত্ব-এই দুইয়ের মাঝের ফাঁকটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল দর্শকের। ঠিক তেমনই এক দীর্ঘদিনের আলোচনার কেন্দ্রে থাকা জুটি টাইগার শ্রফ ও দিশা পাটানি। বহু বছর ধরেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চললেও সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দিশা পাটানি নিজেই যেন সেই আলোচনায় নতুন করে রসদ জুগিয়েছেন। টাইগার শ্রফকে উল্লেখ করে দিশা যে কথা বলেছেন, তা শুনে বোঝা যায়-এ সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বে আটকে থাকুক, এমনটা তিনি মন থেকে চান না।দিশার কথায় উঠে এসেছে এক ধরনের অকপট অনুভূতি, যেখানে প্রত্যাশা আছে, অপেক্ষা আছে, আবার না-পাওয়ার বাস্তবতাও আছে।

ছবি : ইন্সটাগ্রাম

তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, বহু বছর ধরেই তিনি টাইগারকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এটা কোনো হঠাৎ জন্ম নেওয়া অনুভূতি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠা এক গভীর চেষ্টার গল্প। টাইগার তাঁকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন-এই কথাটা দিশা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি মেনে নিয়েছেন, হ্যাঁ, তিনি সত্যিই একজন ভালো বন্ধু। কিন্তু দিশার চাওয়াটা সেখানেই থেমে নেই। তাঁর ভাষায়, ভালো বন্ধুর চেয়েও একটু বেশি কিছু তিনি চান।এই বক্তব্যে দিশার কণ্ঠে যেমন আশা শোনা যায়, তেমনি শোনা যায় এক ধরনের অনিশ্চয়তাও। তিনি বলেছেন, “দেখা যাক, সে ইম্প্রেস হয় কিনা।” এই একটি লাইনেই যেন পুরো সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাটা ধরা পড়ে। এখানে কোনো জোর নেই, কোনো অভিযোগ নেই-আছে শুধু চেষ্টা করে যাওয়ার মানসিকতা। তিনি আরও বলেছেন, তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন টাইগারকে ইম্প্রেস করার জন্য, কিন্তু এখনো সে তাতে রাজি হয়নি। এই না-রাজি হওয়াটাই হয়তো তাঁদের সম্পর্ককে আজও বন্ধুত্বের গণ্ডিতে আটকে রেখেছে।

ছবি : ইন্সটাগ্রাম

টাইগার শ্রফ ও দিশা পাটানির সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও নানা সময় নানা কথা শোনা গেছে। একসঙ্গে কাজ করা, একসঙ্গে দেখা যাওয়া, ছুটি কাটানোর ছবি-সব মিলিয়ে তাঁদের নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টাইগার বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব সংরক্ষিত। অন্যদিকে দিশা তুলনামূলকভাবে খোলামেলা। সেই পার্থক্যটাই হয়তো তাঁদের ভাবনার জায়গায় ফারাক তৈরি করেছে।দিশার এই বক্তব্যে সবচেয়ে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো তাঁর সততা। বলিউডে অনেকেই সম্পর্কের প্রশ্ন এড়িয়ে যান বা কূটনৈতিক উত্তর দেন। সেখানে দাঁড়িয়ে দিশা নিজের অনুভূতি নিয়ে এতটা সরাসরি কথা বলেছেন, সেটাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। তিনি কোথাও বলেননি যে টাইগার ভুল করছেন বা তাঁর প্রতি অবিচার হচ্ছে। বরং তিনি বিষয়টাকে সময় ও পরিস্থিতির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

ছবি : ইন্সটাগ্রাম

এই স্বীকারোক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে-তাহলে কি কখনো এই বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেবে? নাকি টাইগার-দিশার গল্প বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সেই উত্তর হয়তো এখনই জানা যাবে না। তবে দিশা পাটানির এই বক্তব্য অন্তত এটুকু পরিষ্কার করে দিয়েছে, তাঁর অনুভূতি একতরফা হলেও তা হাল ছাড়ার মতো নয়।

ছবি : ইন্সটাগ্রাম

শেষ পর্যন্ত বলিউডের সম্পর্কগুলো যেমন হয়-কখনো বাস্তবে, কখনো শুধু আলোচনায়-টাইগার ও দিশার গল্পও তেমনই এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। আজ যেটা শুধু বন্ধুত্ব, কাল সেটাই অন্য রূপ নিতে পারে, আবার নাও নিতে পারে। তবে দিশা পাটানির কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট-ভালো বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু হওয়ার ইচ্ছেটা তিনি লুকাননি। আর সেটাই হয়তো এই গল্পের সবচেয়ে মানবিক দিক।