মেহেদী হাসান :
শনিবার গভীর রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে নচিকেতা চক্রবর্তীকে। বিষয়টা শুধু হঠাৎ অসুস্থতা নয়-বরং সাম্প্রতিক সময়ের অতিরিক্ত পরিশ্রম, টানা অনুষ্ঠান আর শারীরিক ধকলের সরাসরি ফল বলেই মনে হচ্ছে। রাত ২টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, চিকিৎসকরা জানান হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং দুটি স্টেন্ট বসাতে হয়েছে। আপাতত অবস্থা স্থিতিশীল, তবে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

নচিকেতার ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আগে কোনো হৃদরোগের সমস্যা ছিল না। তাই তিনি খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখতেন, নিজের মতো করে নিয়ম বজায় রাখতেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে পরপর অনুষ্ঠান, ভ্রমণ, প্রস্তুতি-এসব মিলিয়ে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছিল। শনিবার রাতে বুকে অস্বস্তি শুরু হতেই দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। আজ আসানসোলের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের শোও স্থগিত।

এখানে একটা কঠিন বাস্তবতা সামনে আসে-নচিকেতা শুধু একজন গায়ক নন, তিনি এমন এক কণ্ঠস্বর যিনি গত তিন দশকে বাংলা গানের দুনিয়ায় এক ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছেন। তাঁর গানগুলো-“নীলাঞ্জনা,” “মায়াবী আঁখিরে,” “চিনি খাওয়া ছেলে,” “আমি সোচ্চার,” “এই শহর তোমার আমার,” “বৃদ্ধাশ্রম,” “নীলচাঁদ,” “শুধু ওই একবার”-শ্রোতাদের মনে যে আবেগ তৈরি করেছে, তা তাকে আজকের নচিকেতা বানিয়েছে।আর এই তালিকায় সবচেয়ে আলাদা জায়গা দখল করে আছে “নীলাঞ্জনা,” যে গান থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর জনপ্রিয়তার বিস্ফোরণ-যা আজও স্টেজে বাজলে দর্শক হাততালি থামাতে পারে না।

এই জনপ্রিয়তার চাপটাই আসলে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। টানা শো করার চাপে শরীর যে টিকতে পারবে না-এটা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভালোভাবে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। নচিকেতা ফলমূল খাওয়া শুরু করলেও নিজেই স্বীকার করেছিলেন-তিনি ভোজনরসিক নন, খেতে তেমন ভালো লাগে না।কিন্তু শিল্পীর জীবন শুধু গান নয়-নিয়ম, বিশ্রাম, শরীরের সংকেত শুনতে পারাও জরুরি। এই অসুস্থতা সেই কথাটাই প্রকট করে দিল।

এখন তাঁর সবচেয়ে দরকার পুরোপুরি বিশ্রাম, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা, এবং নিজের শরীরকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়া।নচিকেতার জন্য ভক্তদের ভালোবাসা বিশাল-কারণ তাঁর গান শুধু কানে লাগে না, হৃদয়ে গেঁথে যায়।এখন সেই ভক্তরাই অপেক্ষায়-তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্টেজে ফিরে আসেন।তবে এবার একটাই আশা-তিনি যেন নিজের শরীরের ওপর একটু বেশি দয়া করেন।