ফারহান তানভীর :
ধোঁয়ায় ঢাকা একটি অন্ধকার গলি। কোটের কলার তোলা, মাথায় ক্যাপ, ঠোঁটে ঝুলে থাকা সিগারেট। চোখে এমন এক শীতল দৃষ্টি, যেন কথা বলার আগেই যুদ্ধ জিতে গেছে। এই ছবিটা দেখলেই এক নামই মাথায় আসে-টমি শেলবি। আর টমি শেলবি মানেই সিলিয়ান মারফি।

কিন্তু এই আইকনিক চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সত্য-সিলিয়ান মারফি বাস্তবে একজন নন-স্মোকার। যিনি জীবনে ধূমপানকেই অপছন্দ করেন, তাকেই কিনা ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ পর্দায় সবচেয়ে বেশি সিগারেট টানতে হয়েছে।২০১৩ সালে শুরু হওয়া সিরিজটির শুটিং চলাকালীন প্রতি সিজনে সিলিয়ান মারফিকে ব্যবহার করতে হয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি সিগারেট। সংখ্যাটা শুনে যে কারও প্রথম প্রশ্ন-এই মানুষটা বেঁচে রইলেন কীভাবে?

উত্তরটা যেমন স্বস্তির, তেমনি চমকপ্রদ। ওই সিগারেটগুলো ছিল হার্বাল রোজ সিগারেট, যেখানে তামাক বা নিকোটিন কিছুই ছিল না। অর্থাৎ ধোঁয়া ছিল, কিন্তু মৃত্যু ডেকে আনার উপাদান ছিল না। নাহলে পরিস্থিতি যে ভয়ংকর হতো, সেটা নিজেই স্বীকার করেছেন মারফি।এক সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে তিনি বলেছিলেন,“ওগুলো যদি আসল সিগারেট হতো, তাহলে আমি কবেই মারা যেতাম।”এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে অভিনেতার আত্মবিশ্বাস, রসবোধ আর সেই সঙ্গে চরিত্রের জন্য তাঁর সীমাহীন ডেডিকেশন। কারণ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ সিগারেট শুধু একটি অভ্যাস নয়-এটা টমি শেলবির ব্যক্তিত্বের অংশ। চিন্তা করার সময়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে-সবখানেই সেই সিগারেট।

অনেক দর্শকই জানেন না, শুটিংয়ের সময় একের পর এক দৃশ্যে সিগারেট টানতে টানতে মারফির অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। হার্বাল হলেও অতিরিক্ত ধোঁয়া গলা আর ফুসফুসে চাপ ফেলত। তবু তিনি কখনো চরিত্রের ইমেজে ছাড় দেননি। কারণ টমি শেলবি কখনো দুর্বল দেখাতে পারে না-সে ধোঁয়ার মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকে।এখানেই সিলিয়ান মারফির অভিনয় অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। তিনি শুধু সংলাপ বলেন না, চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যান। বাস্তব জীবনের অভ্যাস, স্বাচ্ছন্দ্য-সবকিছু পেছনে রেখে তিনি হয়ে ওঠেন টমি শেলবি। আর দর্শক বিশ্বাস করেও ফেলে, এই মানুষটা জন্মগতভাবেই ধূমপায়ী।

মজার ব্যাপার হলো, সিরিজ শেষ হওয়ার পর মারফি প্রকাশ্যে বলেছেন-তিনি সিগারেটের সেই অধ্যায় পেছনে ফেলতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন। বাস্তবে তিনি স্বাস্থ্য সচেতন, পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপন পছন্দ করেন। পর্দার গ্যাংস্টার আর বাস্তবের মানুষ-দুটো একেবারেই বিপরীত।আজও ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর কথা উঠলেই প্রথম যে দৃশ্যটা চোখে ভাসে, তা হলো ধোঁয়ায় মোড়া টমি শেলবি। অথচ সেই ধোঁয়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন অভিনেতার নিখাদ পরিশ্রম, নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি আর পেশাদারিত্ব।এই কারণেই সিলিয়ান মারফি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন-তিনি এমন একজন শিল্পী, যিনি চরিত্রকে বাস্তব মনে করাতে নিজের বাস্তবতাকেই কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রাখেন।ধোঁয়ায় ঢাকা পর্দার নায়ক, কিন্তু বাস্তবে পরিষ্কার জীবনের মানুষ-এই দ্বৈত পরিচয়ই হয়তো সিলিয়ান মারফিকে এতটা আলাদা করে তোলে।