ফারহান তানভীর :
বলিউডে সিক্যুয়েলের হিড়িক নতুন কিছু নয়, কিন্তু কিছু সিনেমা আছে যেগুলোর নাম উচ্চারণ করলেই নস্টালজিয়া নয়, একটা প্রজন্মের স্মৃতি একসঙ্গে ভেসে ওঠে। “থ্রি ইডিয়টস” ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে। মুক্তির প্রায় দেড় দশক পরও এই সিনেমা শুধু জনপ্রিয় নয়, প্রাসঙ্গিক। আর ঠিক সেই কারণেই “থ্রি ইডিয়টস পার্ট টু” নিয়ে যেকোনো খবর মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

এবার আর গুজব নয়-ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের খবর বলছে, এই প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলের স্ক্রিপ্ট নাকি চূড়ান্তভাবে লক করা হয়েছে।মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিচালক রাজকুমার হিরানি দীর্ঘ সময় ধরেই এই গল্প নিয়ে কাজ করছিলেন। তাড়াহুড়া করে নয়, বরং “থ্রি ইডিয়টস” নামটার ওজন মাথায় রেখেই তিনি স্ক্রিপ্ট ডেভেলপ করেছেন। শোনা যাচ্ছে, অবশেষে সেই চিত্রনাট্যই এখন ফাইনাল ড্রাফটে পৌঁছেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সিল এখনো লাগেনি, তবু বলিউডের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এটাকে বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখছে।

সবচেয়ে আগ্রহের জায়গা, মূল চার চরিত্র-আমির খান, করিনা কাপুর খান, আর. মাধবন ও শর্মন জোশির ফিরে আসার সম্ভাবনা। “থ্রি ইডিয়টস” মানেই র্যাঞ্চো, পিয়া, ফারহান আর রাজু-এই চরিত্রগুলো ছাড়া গল্প কল্পনাই করা যায় না। রিপোর্ট বলছে, সিক্যুয়েলেও এই চরিত্রগুলো থাকবে, তবে আগের মতো কলেজ ক্যাম্পাসে নয়, বরং সময়ের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসা মানুষ হিসেবে। অর্থাৎ গল্পটা হবে পরিণত, অভিজ্ঞতায় ভারী এবং বাস্তবতার আরও কাছাকাছি।এখানেই বিষয়টা সবচেয়ে সংবেদনশীল। কারণ “থ্রি ইডিয়টস” শুধু হাসির সিনেমা ছিল না, ছিল ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এক তীব্র অথচ মানবিক প্রশ্ন। ‘অল ইজ ওয়েল’ ডায়ালগটা যেমন হাসিয়েছে, তেমনই হাজারো শিক্ষার্থীর ভেতরের ভয় আর চাপকে ভাষা দিয়েছে। সিক্যুয়েলে সেই আত্মাটা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের আলোচনা বলছে, এই নতুন গল্পে বর্তমান প্রজন্মের সংকট, ক্যারিয়ার প্রেশার, সাফল্যের সংজ্ঞা এবং ব্যর্থতার মানসিক মূল্য-সবকিছুকেই আরও গভীরভাবে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।শুটিং শুরুর সম্ভাব্য সময় হিসেবেও একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ক্যামেরা চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখানেও রাজকুমার হিরানির স্টাইল স্পষ্ট-গল্প পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে তিনি শিডিউলের চাপে পড়েন না। তাই এই সময়সূচিও চূড়ান্ত না হয়ে পরিবর্তিত হতে পারে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, “থ্রি ইডিয়টস” যে জায়গায় শেষ হয়েছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে নতুন গল্প বলা সহজ কাজ নয়। সিক্যুয়েল বানিয়ে সেই লেজেন্ডের মর্যাদা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কম নয়। সম্ভবত এই কারণেই এত বছর ধরে অপেক্ষা, এতবার গুজব, আর এতবার নীরবতা।

এবার স্ক্রিপ্ট লক হওয়ার খবর সত্য হলে ধরে নেওয়া যায়-নির্মাতারা নিজেরাও বিশ্বাস করছেন, বলার মতো সত্যিই নতুন কিছু তাদের হাতে এসেছে।সব মিলিয়ে, “থ্রি ইডিয়টস পার্ট টু” এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও স্ক্রিপ্ট লক হওয়ার খবর বলিউডপ্রেমীদের জন্য বড় ইঙ্গিত। এটা শুধুই আরেকটা সিক্যুয়েল নয়, বরং একটি প্রজন্মের স্মৃতির সঙ্গে আবার নতুন করে কথা বলার প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি কেমন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এটুকু নিশ্চিত-র্যাঞ্চোদের ফিরে আসা আর শুধু কল্পনা নয়, সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।