আক্ষেপ ও আফসোস নিয়ে যা বললেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ…

ফারহান তানভীর :

সামাজিক এবং অল্প সময়ে অসাধারণ গল্প দেখানোর জন্য আমাদের দেশের নাটক অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয়। আমাদের বাংলা নাটকের জগতে এমন কিছু সংলাপ আছে, যা সময় পেরিয়ে গেলেও দর্শকের মনে আগের মতোই তাজা থাকে। আর সেই সংলাপগুলোর বড় একটা অংশই এসেছে হুমায়ূন আহমেদের কলম থেকে এবং সেগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন কিছু অসাধারণ অভিনেতা-যাদের মধ্যে অন্যতম ফারুক আহমেদ।

সম্প্রতি ফারুক আহমেদের একটি বক্তব্য বেশ আলোচনায় এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন-হুমায়ূন আহমেদের লেখা আমার চরিত্রের বিভিন্ন ডায়লগ আজও দর্শকের কাছে জনপ্রিয়, নিয়মিত ফেসবুক-ইউটিউবে ভাইরাল হয়।এই জনপ্রিয় সংলাপগুলোর বেশিরভাগই বহু বছর আগের, গত দুই দশকে তেমন নতুন কোনো স্মরণীয় চরিত্র বা সংলাপ যুক্ত হয়নি আমার ক্যারিয়ারে।

একসময় হুমায়ূন আহমেদের নাটক মানেই ছিল ভিন্নধর্মী গল্প, গভীর মানবিকতা আর অসাধারণ সংলাপ। হুমায়ুন আহমেদ ও ফারুক আহমেদ জুটি বহু কাজ আমাদের উপহার দিয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনায় “তারা তিনজন,বকপক্ষি,জহির কারিগর,বৃক্ষমানব “-সহ এমন অসংখ্য নাটকে ফারুক আহমেদ তার অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রতিটা নাটকে তার সংলাপ বলার ধরন এবং স্বাভাবিক অভিনয় সে সময়ের দর্শকদের মনে এখনো ছাপ ফেলেই আছে।

ফারুক আহমেদের কথাটা আসলে বাংলা নাটকের বর্তমান বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে।আর সেই সমস্যায় যে তিনি একা আছেন,তাও নয়। তিনি যেন তার সমসাময়িক সকল অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরই প্রতিনিধি হয়ে গেছেন ওই কথা দ্বারা। সময়ের সাথে সাথে মানুষের স্বাদ পরিবর্তন হয়েছে,চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ নাটকই প্রায় নিষ্প্রাণ, গল্পপগুলোও হজম হওয়ার মতো না। তাই ফারুক আহমেদের সময়ের নাটকগুলো এখন সেভাবে কেউ আর খোঁজেনা। তাদের নাটকগুলোতে গল্পই ছিল মূল সাধনা।আর তারপর যে যত ভালো অভিনয় করতো সে তত বেশি কাজ পেতো।

দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বর্তমান নাটকগুলোতে সহজ সংলাপ, কমেডির উপর নির্ভরতা বা শারীরিক সম্পর্কের উপস্থাপন বেশি দেখা যায়। ফলে গভীর, চিন্তাশীল বা দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো সংলাপ তৈরি হচ্ছে কম। এর ফলেই হয়তো ফারুক আহমেদের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করেন।পূর্বের নাটকগুলোর আরেকটি বড় শক্তি ছিল চরিত্র নির্মাণ।

পরিচালকরা এমনভাবে চরিত্র তৈরি করতেন, যেগুলো বাস্তব জীবনের মানুষের মতোই মনে হতো। আর সেই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করে ফারুক আহমেদের মতো অভিনেতারা নিজেদের ভিন্নভাবে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন,যারা এখনো কিংবদন্তি হিসেবে আছেন। বাংলা নাটককে আবারও তার সোনালি সময়ে ফিরিয়ে নিতে হলে দরকার নতুন গল্প, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিনেতাদের নতুনভাবে আবিষ্কার করার সাহস।