মেহেদী হাসান :
অরিজিৎ সিংকে নিয়ে যত গল্পই শোনা যায়, তার ব্যক্তিত্বের মূল সুরটা একটাই-সরলতা, নীরবতা আর নিজের জগতে থাকার স্বভাব। আর এই জায়গাটাই সবচেয়ে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্নবকে। এক আলাপচারিতায় অর্নব জানালেন, অরিজিতকে তিনি ঠিক নিজের মতো মানুষ হিসেবেই দেখেন-সাধারণ, বিনয়ী, যেখানে প্রচারের ঝলকানি নেই; আছে শুধু মানুষ আর সুরের মায়া।অর্নব বলেন, তিনি স্বভাবে খুব লাজুক। অকারণে কথা বলা তার স্বভাব নয়, বরং প্রয়োজন না হলে চুপ করেই থাকেন। ঠিক এই জায়গাটাই অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে তার মিলিয়ে দেয়।

অর্নবের ভাষায়-অরিজিৎও চুপচাপ ধরনের মানুষ; প্রচার নয়, কাজই যার ভাষা। এই নীরব মিল থেকেই দুই শিল্পীর ভেতরে তৈরি হয়েছে অদৃশ্য এক বন্ধুত্ব, যা শব্দে প্রকাশ করা কঠিন হলেও অনুভবে স্পষ্ট।অর্নব স্মরণ করেন, অরিজিৎ একবার তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নিজের বাড়িতে। জিয়াগঞ্জের মানুষ, পরিবেশ, অনাড়ম্বর জীবন—সবকিছুতেই অরিজিতের সরলতার ছাপ। সকালবেলার বাতাস, বিকেলের আলো, মানুষের মিশুক স্বভাব-এসবের মাঝে কোথাও অরিজিতের তারকা-ইমেজ নেই। আছে শুধু সেই মানুষটি, যিনি গানকে যাপন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

অর্নব বলেন, এই জীবনযাপন দেখে তার নিজের শান্তিনিকেতন দিনের কথাই মনে পড়ে যায়। শান্তিনিকেতনে গেলে তিনিও একইভাবে থাকেন-একদম সহজ, সাধারণ, প্রকৃতির ছন্দে মিশে থাকা জীবন।অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গীতে যেমন আবেগ আছে, তেমনি জীবনে আছে মাটির গন্ধ। অর্নবের মতে, মানুষের সঙ্গে আচরণ, কথা বলার ধরণ, চলাফেরা-সবকিছুতেই অরিজিত যেন ‘তারকা’ নয়, বরং পাশের বাড়ির সেই শান্ত, অন্তর্মুখী ছেলে, যে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতে চায় না। এই কারণেই সম্ভবত অর্নব তাকে এতটা নিজের কাছের মনে করেন।

দুই শিল্পীর এই মিল শুধু ব্যক্তিত্বে নয়, সৃষ্টিশীলতাতেও ছড়িয়ে আছে। তারা দুজনেই জনসম্মুখের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন, কাজকে কথা বলতে দেন নিজেদের হয়ে। অর্নবের ভাষায়, অরিজিতের সঙ্গে সময় কাটালে যে মানুষটিকে দেখা যায়, সে ঠিক স্টেজের আলোয় দেখা গায়ক নয়-বরং আরও সহজ, আরও সত্য, আর আরও আপন।এই নীরব সাদৃশ্যই দুই দেশের দুই শিল্পীকে এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে, যেখানে শব্দ নয়, মানুষটাই আসল পরিচয়।