সালমান খানের নায়িকা ভাগ্যশ্রী জুটি বেঁধেছিলেন শাকিল খানের সাথে।জানতেন কি?

ফারহান তানভীর :

বলিউডে ১৯৮৯ সালে এক তরুণীর আবির্ভাব হয়েছিল যেন এক সতেজ বাতাসের মতো। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করে ভাগ্যশ্রী রাতারাতি তারকা বনে যান। সরলতা, সৌন্দর্য আর মিষ্টি অভিনয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন তিনি। অথচ সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকেই দেখা যায় কিছু বছর পর বাংলাদেশের নায়ক শাকিল খান–এর সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘শত্রু ধ্বংস’-এ। অনেকের কাছে ঘটনাটি ছিল বিস্ময়কর, আবার অনেকের কাছে ছিল রোমাঞ্চকর এক মিলন-দুই দেশের পর্দার তারকার।

সালমান খান এবং ভাগ্যশ্রী একত্রে। ছবি – ইন্ডিয়া ফোরামস

‘শত্রু ধ্বংস’ ছিল ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার একটি ছবি, যা নির্মিত হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। এই সময়ে বাংলাদেশি সিনেমায় যৌথ প্রযোজনার ধারাটা বেশ জনপ্রিয় ছিল, কারণ এতে একদিকে ভারতীয় তারকা আনা যেত, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভিনেতারাও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পেতেন। সেই সূত্রেই পরিচালকরা বেছে নিয়েছিলেন ভাগ্যশ্রীকে, যিনি ইতোমধ্যে বলিউডে পরিচিত মুখ। আর বাংলাদেশের দিক থেকে ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক শাকিল খান, যিনি ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘তুমি আছো হৃদয়ে’, ‘রঙিন রূপবান’ প্রভৃতি ছবির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত নাম হয়ে উঠছিলেন।

শত্রু ধ্বংস সিনেমার পোস্টার। ছবি – ফেসবুক থেকে

ছবির গল্প মূলত প্রেম ও প্রতিশোধের মিশেলে তৈরি। শাকিল খানকে দেখা যায় এক তরুণ নায়ক হিসেবে, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন; আর ভাগ্যশ্রী সেখানে তার প্রেমিকা, যিনি পরিবার ও সমাজের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সিনেমাটিতে অ্যাকশন, ড্রামা ও রোমান্স-সবকিছুরই ছোঁয়া ছিল। দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের তারকার রসায়ন-ভাগ্যশ্রীর নরম স্বভাব আর শাকিলের পর্দা দাপট মিলে এক ভিন্নধর্মী কম্বিনেশন তৈরি করেছিল।তবে, ‘শত্রু ধ্বংস’ মুক্তির পর প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। বাণিজ্যিকভাবে সিনেমাটি খুব বেশি সফল না হলেও আলোচনায় ছিল কারণ একটাই-বলিউডের জনপ্রিয় মুখ ভাগ্যশ্রী বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করেছেন। সে সময় এটি ছিল বিরল ঘটনা। ভারতীয় মিডিয়ারও দৃষ্টি পড়েছিল এ ছবির দিকে, কারণ ভাগ্যশ্রী খুবই বাছাই করে কাজ করতেন।

শ্যুটিং সেটে সালমান খান ও ভাগ্যশ্রী। ছবি – ইন্ডিয়া ফোরামস

এই ছবির আরেকটি বিশেষ দিক ছিল এর সংগীত। গানগুলো বাংলাদেশি ও ভারতীয় সুরকারদের যৌথ প্রয়াসে তৈরি হয়। কিছু গান দর্শকের ভালো লাগলেও ছবির সামগ্রিক প্রচারণা তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় সেটি সেভাবে ছড়াতে পারেনি। তবু বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এটি একটি কৌতূহলভরা অধ্যায়-কারণ এটি প্রমাণ করে, দুই দেশের চলচ্চিত্র জগতের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা তখনই দেখা দিয়েছিল।ভাগ্যশ্রী পরবর্তীতে আর কোনো বাংলা বা যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করেননি। তিনি সংসার ও পরিবারে মনোযোগ দেন, মাঝে মাঝে টেলিভিশনে বা রিয়েলিটি শোতে দেখা দেন। অন্যদিকে, শাকিল খান দীর্ঘদিন ঢালিউডে সক্রিয় থেকে ধীরে ধীরে অভিনয়জীবন থেকে সরে আসেন।

শত্রু ধ্বংস সিনেমার পোস্টার। ছবি – ইউটিউব থাম্বনেইল থেকে

‘শত্রু ধ্বংস’ হয়তো বাণিজ্যিকভাবে বড় হিট ছিল না, কিন্তু এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত-যখন বলিউডের এক সোনালি মুখ বাংলাদেশের এক প্রতিশ্রুতিশীল নায়কের সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিয়েছিলেন। আজও সিনেমাপ্রেমীরা স্মরণ করে সেই যুগলকে, যাদের মিলন ছিল দুই দেশের পর্দার সেতুবন্ধনের প্রতীক।